২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দরিদ্র দেশের সহায়তায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতি

  • ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

গত এপ্রিলের ৮ ও ৯ এ ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব সংসদীয় সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ও অংশগ্রহণের সময় বিশ্বব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টালিনা জিওরগিয়েভা ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির (ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন-আইডিএ) লক্ষ্য ও কার্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংসদ সদস্যসহ আমি বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করি। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতি বিশ্বব্যাংক সমষ্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশসমূহকে রেয়াতী ঋণ ও অনুদান দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের মূল অংশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকের (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকন্টাকশন এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট- আইবিআরডি) ঋণ ও সাহায্য দেয়ার শর্তাদীর আপেক্ষিকতায় এই সমিতি কোমল শর্তে দরিদ্রতম সদস্য দেশসমূহে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে। সমকালে সহায়তা গ্রহণে ইচ্ছুক সমিতির সদস্য দেশসমূহের মাথাপিছু আয় ১১৭৫ ডলার (২০১০ সালের মানে) এর নিচে হলে এবং অন্যান্য উৎস থেকে তাদের সহায়তা বা সহযোগিতা না পাওয়ার ক্ষেত্রে এই সমিতি এসব দেশকে ঋণ ও অনুদান দেয়া বিবেচনা করে।

বিশ্বব্যাংকের ওয়শিংটনের সদর দফতরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির কেন্দ্রীয় অফিস কাজ করে আসছে। এর পরিচালন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ওপর ন্যস্ত। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও শাসক পর্ষদ এই সংস্থার যথাক্রমে প্রধান ও পরিচালন পর্ষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯৫৬ সালে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ও সমর্থন নিয়ে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশে প্রধানত ব্যক্তি-উদ্যমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে ঋণ ও সমমূলধন সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কর্পোরেশন (ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশন-আইএফসি) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ১৯৬০ সালে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউজিন ব্লাকের প্রস্তাব অনুযায়ী জাতিসংঘের আওতায় দরিদ্র দেশসমূহের উন্নয়নের জন্য বিশেষ তহবিল প্রতিষ্ঠা করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অনুযায়ী একই উদ্দেশ্যে ব্যাংকেরই আরও একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য মাইক মনরোনীর প্রস্তাব অনুযায়ী জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি স্থাপন করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করে এবং তখনকার সমাজতান্ত্রিক বলয়ের বাইরে অন্যান্য দেশকে এই লক্ষ্যে অংশগ্রহণ করতে সন্দিপীত করে। প্রতিষ্ঠালগ্নে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৫টি বিত্তশালী দেশ ৯১৩ মিলিয়ন ডলার মূলধন নিয়ে দরিদ্র দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মেয়াদী কোমল ঋণ সহায়তা ও অনুদান দেয়ার তহবিল হিসেবে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনাধীন এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরিচালনার জন্য ২৫ সদস্যের একটি নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে কাজ করে থাকে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই সমিতি পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশসমূহের অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় অর্থ প্রদানকারী বা বিনিয়োগকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। সমিতির প্রতিষ্ঠা-চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র সদস্য দেশসমূহের প্রবৃদ্ধি, জনগণের অর্থনৈতিক সমতা ও টেকসইয়ের সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে প্রযুক্তীয় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই বছরে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সমিতি সমতাভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে দরিদ্র সদস্য দেশসমূহকে এখন পর্যন্ত ২৩৮ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ কোমল ঋণ ও অনুদান দিতে সমর্থ হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এই সমিতির সহায়তা লাভের যোগ্য দেশসমূহের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭টি মাথাপিছু আয়ের নিরিখে সমিতির তরফ থেকে সহায়তা লাভের পর্যায় থেকে উপরে উঠে গেছে। অর্থাৎ সমিতির বিবেচনায় এসব দেশের দীর্ঘ মেয়াদী রেয়াতি ঋণ ও অনুদান পাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এই বিবেচনায় সবচেয়ে আগে ১৯৬১ সালে চিলির উত্তরণ ঘটেছে। তেমনি সর্বশেষ ২০০৮ সালে মন্টিনিগ্রো মাথাপিছু আয়ের নিরীখে এই সমিতির সহায়তা লাভের তালিকা থেকে বাদ পরেছে। বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ের হিসাবে এই সমিতি কর্তৃক অনুসরণীয় সীমার উপরে উঠে গেছে। এভাবে উপরে উঠার পর পরবর্তী ৩ বছর অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে লক্ষ্যণীয় ভাটা না আসলে বাংলাদেশ এই সমিতি থেকে রেয়াতী দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ ও অনুদান পাওয়ার যোগ্যতা অতিক্রম করে প্রকৃতই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক সমষ্টির কেবল আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের অপেক্ষাকৃত কঠিনতর শর্তের ও স্বল্পতর মেয়াদের ঋণ ও অনুদান সহযোগিতা পাবে। স্মর্তব্য, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক সমষ্টির এই অঙ্গ প্রতিষ্ঠান থেকেই সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়ে এসেছে। এই সমিতির সহায়তা লাভের সীমার উপরে উঠে যাওয়া দেশসমূহের মধ্যে আবার ৮টি দেশ, যথা ক্যামেরুন, কঙ্গো, কোট ডি আইভর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও জিম্বাবুয়ে পরবর্তী পর্যায়ে মাথাপিছু আয় কমে যাওয়া ও আর্থিক ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কারণে আবার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির ঋণ ও অনুদান সহায়তা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে। বর্তমানে এই সমিতি সর্বমোট ৮১টি দরিদ্র দেশকে দীর্ঘ মেয়াদী রেয়াতী ঋণ ও অনুদান দিচ্ছে। বিশ্ব উন্নয়ন কেন্দ্রের গবেষণা ও প্রক্ষেপণ অনুযায়ী সমকালে এই সমিতির সহায়তা পাওয়ার যোগ্য দেশসমূহের পর্যায় থেকে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের যথাযথ পথ অনুসরণ করে এবং লাগসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্ত করার ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব দেশের সংখ্যা ৫০% কমে যাবে বলে বিধৃত হয়েছে।

সমকালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির সদস্য দেশসমূহের সংখ্যা ১৭৩। এরা প্রতি ৩ বছর পরপর পারস্পরিক সমঝোতা অনুযায়ী সমিতির তহবিল পুনর্ভরণ করে থাকে। সমকালে এই সমিতির পুনর্ভরিত তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৫৮%, ফ্রান্সের ২২% এবং যুক্তরাজ্যের ৮%। সমিতি কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের পরিশোধনোত্তর অর্থ সমিতির তহবিলের অংশ হিসেবে আহরিত হয়, যেসব দেশ তহবিল পুনর্ভরণ করেছে তাদের কাছে ফেরত যায় না। এই সমিতি সদস্য দেশসমূহের পুনর্ভরিত অঙ্কের বাইরে পুনর্গঠন ও উন্নয়নের আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কর্পোরেশন থেকে এ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন পরিমাণ বিনিয়োগ করা ও অনুদান দেয়ার যোগ্য অর্থ পেয়েছে। ১৯৬০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এই সমিতি ১১৩টি দেশে মোট ৩১৭ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ অনুদান ও দীর্ঘ মেয়াদী কোমল ঋণ দিতে সক্ষম হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯ বার সদস্য দেশসমূহ এই সমিতির তহবিল পুনর্ভরিত করেছে। ১৬তম পুনর্ভরণে এসেছে ৪৯.৩ বিলিয়ন ডলার, ১৭তম ও ১৮তম পুনর্ভরণে এই অঙ্কের চেয়ে প্রায় ২০% বেশি তহবিল এসেছে। ১৯তম পুনর্ভরণ যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে তার পরিমাণ ১৮তম পুনর্ভরণের চেয়ে প্রায় ২৫% বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯তম পুনর্ভরণের সভা ওয়াশিংটন ডিসিতে গত এপ্রিলের ১৪ ও ১৫ তারিখে ইতিবাচকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমিতি অনুদান দেয়ার শর্ত হিসেবে গ্রহীতা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং মুদ্রা ও রাজস্ব নীতিতে অনুসরণীয় লক্ষ্য ও কার্যক্রম নির্ধারণে ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এই সমিতির সহায়তা প্রদানের বলয়ে ৭৫টি নিম্ন আয়ের দেশ অন্তর্ভুক্ত আছে। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ এর দশক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সমিতির তহবিলে তার অংশীদারিত্বের গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতির সহায়ক উপকরণ হিসেবে সমিতির সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে বলে অনুযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিককালে এরূপ প্রভাব বিস্তারণের পরিধি এশীয় ও আফ্রিকান দেশসমূহের অসমর্থন বা বিরোধিতার আলোকে কমে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। সমকালে আফ্রিকার ৩৯টি এবং এশিয়ার ২০টি দেশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির কার্যক্রমের আওতাধীন রয়েছে। বর্তমানে সমিতি থেকে ঋণ দেয়া হয় ৫-১০ বছরের প্রীতিকালসহ ২৫ থেকে ৪০ বছরের জন্য। প্রদত্ত ঋণের ওপর বার্ষিক ১.২৫%-২.৮% সুদ আরোপ করা হয়। অনুদানের ক্ষেত্রে গ্রহীতা দেশের ব্যবহারের খাত এবং আর্থিক ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনা সমিতি কর্তৃক রূপরেখায়িত করে দেয়া হয়। গত ৮ ও ৯ এপ্রিল বিশ্ব সংসদীয় সম্মেলন ২০১৯ এ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির তরফ থেকে বলা হয় যে তারা পুনর্ভরিত আইডিএ ১৮ তহবিলের আওতায় অনুন্নত বিশ্বে (১) আর্থ সামাজিক ক্ষণভঙ্গুরতা, সংঘাত ও সন্ত্রাস দমনে, (২) লিঙ্গ অসমতা দূরীকরণে, (৩) কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রসারণে, (৪) জলবায়ু পরিবর্তনের অশুভ প্রভাব দূরীকরণে এবং (৫) সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে যথা প্রয়োজন বিনিয়োগমূলক পদক্ষেপ নেবেন এবং এই লক্ষ্যে ঋণ ও অনুদান গ্রহীতা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংশোধন ও উন্নয়নে সচেষ্ট থাকবেন। তারা গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে সহায়তা গ্রহীতা দরিদ্র দেশসমূহে ব্যক্তি উদ্যোগ প্রসারিত করার লক্ষ্যে তারা অধিকতর সচেষ্ট হবেন। আইডিএ ১৯ পুনর্ভরণের প্রক্রিয়ায় এবং এর মাধ্যমে সংগৃহীত বিনিয়োগ যোগ্য তহবিলের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা অন্তর্ভুক্তীয় উন্নয়ন ও গ্রহীতা দেশসমূহের গণঋণ ব্যবস্থার টেকসহিত্বর দিকে দৃষ্টি দেবেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বিকভাবে এসব দেশের প্রবৃদ্ধি, মজবুত আর্থসামাজিক কাঠামো ও সার্বিকভাবে উপরে ওঠার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেবেন। সর্বোপরি সমিতি বলেন যে, তারা স্বচ্ছতা, ও জবাবদিহির দায়িত্ব নিয়ে উন্নয়ন ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বিস্তৃত করবেন। উন্নয়নের দর্শন হিসেবে তারা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতি দরিদ্র দেশসমূহের জনগণের জন্য নিবেদিত। তাদের এরূপ উপস্থাপনার ওপর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আমি ৩টি প্রস্তাব উপস্থাপন করি। এক. ২০২৫ সালের মধ্যে সমকালে নির্ধারিত মাথাপিছু আয়ের মাপকাঠির সমিতি থেকে সহায়তা প্রাপ্যতার দাবিদার দেশের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে যাওয়ার প্রক্ষেপণের আলোকে এ মাপকাঠি ২৫০০ ডলারে উঠিয়ে নিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ও দারিদ্র্য বিমোচনীয় কার্যক্রম প্রয়োজন অনুগামী ব্যাপ্ত রাখা লক্ষ্যানুগ হবে। এ না হলে সমকালের প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়ার ব্যাপ্তি ও চলমানতা রক্ষা করা যাবে না। ২০২৫ সালের পর কেবল ২৫টি দেশের জন্য এই সমিতির কার্যক্রম যৌক্তিকভাবে ও পর্যায়ে রাখা যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা, এই সহায়তার সীমারেখা উল্লিখিতভাবে সংশোধিত না হলে এই সমিতি দরিদ্র দেশের সফলতার ওপর প্রকারান্তরে শাস্তি আরোপ করে যাবে বলা চলে। দুই. সমিতির প্রশাসন ও প্রয়োগ ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক ব্যবহারজীবী ও আধিকারিক উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশসমূহ থেকে মেধা ও যোগ্যতার বিবেচনায় নিযুক্ত করা কর্মানুগ হবে। বর্তমানে এই সমিতির পরিচালন ও কার্যক্রমে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। এবং তিন. গত শতাব্দীর ৬০ থেকে ৮০ দশক পর্যন্ত সমিতির সহায়তা দেশ বিশেষের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বা সংরক্ষণের জন্য যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল তা যেন এই শতাব্দীতে না ঘটে তার দিকে সমিতির দাতা ও গ্রহীতা সব সদস্যকে অধিকতর সচেতন থাকতে হবে। আমি সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, আমার এই ৩টি প্রস্তাবের প্রতিকূলে সম্মেলনে উপস্থিত কেউ অবস্থান নেননি। এই প্রেক্ষিতে আমার বিশ্বাস সমিতির সব বার্ষিক/ অর্ধবার্ষিক সভায় সব স্বল্পোন্নত দেশের সমর্থনসহ বাংলাদেশের এই লক্ষ্যে কাজ করা পৃথিবী ব্যাপী প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে।

লেখক : সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী