২১ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়াসার পানির রিটের শুনানি ২১ মে

  • বিশেষজ্ঞ তলব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষার খরচসহ টেকনিক্যাল বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যানকে ডেকেছে হাইকোর্ট। আগামী ২১ মে ওয়াসার পানি সংক্রান্ত রিটের পরবর্তী শুনানির দিনে তার মতামত শুনবে আদালত। এদিকে রাজধানীতে দূষিত পানির বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। এতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রথমবারের মতো রাজধানীর ৫৯টি এলাকায় নিজেদের সরবরাহ করা পানি দূষিত বলে স্বীকার করেছে ঢাকা ওয়াসা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুর্টি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে বলা হয়, গত তিন মাসে ঢাকার ২৯২ অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৯ এলাকার ১০ জোনের পানি বেশি দূষিত। ডেপুর্টি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসার দেয়া প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ঢাকার ১০ জোনে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত তিন মাসে রাজধানীর ৩৯২ বাসা থেকে পানি দূষিত বলে ঢাকা ওয়াসার কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। ওয়াসার ১৬১৬২ এই হটলাইনে ফোন করে গ্রাহকরা অভিযোগ দেন। দূষিত পানি ওয়াসার তিনটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। পানি পরীক্ষায় প্রায় ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক হাজার ৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় খরচ ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতিবেদনটি গ্রহণ করার পর হাইকোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর সবিতা রেজওয়ানা রহমানকে আগামী ২১ মে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। কত সহজ উপায়ে ওয়াসার পানি পরীক্ষা করা যায় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেদিন তার মত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এদিকে প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় আদালত মন্তব্য করেন, কেবল পানি উৎপাদন করা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব নয়, মানুষের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়ায় তার কাজ।

গত বছরের ৬ নবেম্বর হাইকোর্টের দেয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং আইসিডিডিআরবির প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নামের তালিকা গত ১৮ এপ্রিল এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠায় মন্ত্রণালয়।

ঢাকার ১০ জোনে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জোনগুলো হলো- ১ নম্বর জোন : যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মা-া, ধোলাইরপার ও মাতুয়াইল। ২ নম্বর জোন : বাঘলপুর, লালবাগ, বকশিবাজার ও শহীদনগর। ৩ নম্বর জোন: জিগাতলা, ধানম-ি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতেরগলি ও মোহাম্মদপুর। ৪ নম্বর জোন : শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর। ৫ নম্বর জোন : মহাখালী ও তেজগাঁও। ৬ নম্বর জোন : সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরিবাগ। ৭ নম্বর জোন : কদমতলী, দনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনির আখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিমনগর। ৮ নম্বর জোন : বাড্ডা, আফতাবনগর, বসুন্ধরা ও ভাটারা। ৯ নম্বর জোন : উত্তরা, খিলক্ষেত, সায়েদাবাদ, মোল্লার টেক ও রানাগোলা। ১০ নম্বর জোন : কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।

সোমবার ঢাকা ওয়াসার অনিরাপদ পানি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তখন আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে, ‘ঢাকা ওয়াসার ১১ পানির জোন রয়েছে। প্রত্যেকটি থেকে দুই বোতল পানি নিয়েই তো পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু কোন কথাই শুনছে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তারা (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়) হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছে।

শুনানিকালে আদালতে রিটকারী আইনজীবী মোঃ তানভীর আহমেদের কাছে অনিরাপদ পানি-সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বেশকিছু প্রতিবেদন আদালতের কাছে তুলে ধরেন তিনি। ওইসব প্রতিবেদনে ঢাকার ১৬টি এলাকার ওয়াসার পানি ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী বলে তথ্য উঠে আসে। এরপর পানি পরীক্ষায় যে অর্থ খরচ হবে, তা প্রতিবেদন আকারে দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তখন ওয়াসার পক্ষ থেকে খরচ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলে সাত দিন সময় চাওয়া হয়। কিন্তু এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন বুধবারের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।