১৬ মে ২০১৯

কাজী গিয়াসের চিত্রপটে প্রকৃতির অন্তর্নিহিত স্পন্দন

 কাজী গিয়াসের চিত্রপটে প্রকৃতির অন্তর্নিহিত স্পন্দন

মনোয়ার হোসেন ॥ নেই উচ্চকিত রঙের স্রোতধারা। তার পরিবর্তে আছে পরিমিত রঙের কোমলতা। বর্ণ ব্যবহারের সেই কৌশলেই শিল্পী ছুঁয়ে গেছেন নিসর্গের নান্দনিক অনুভূতিকে। প্রকৃতির অন্তর্গত ভাবটি ধরা দিয়েছে প্রতিটি ক্যানভাসে। তাই তো চিত্রপটে পাওয়া যায় বৃষ্টির অনুচ্চারিত রিমঝিম শব্দ। প্রবহমান নদীর জলতরঙ্গের স্বরূপটি প্রকাশিত হয় সৃজনে। প্রকৃতির সমান্তরালে সহজাতভাবেই উঠে আসে জীবনের রঙ। এভাবেই চিত্রপট রাঙিয়েছেন প্রখ্যাত চিত্রকর কাজী গিয়াসউদ্দিন। বিমূর্ত রীতিতে আঁকা প্রকতিনির্ভর সেসব ছবি এখন শোভা পাচ্ছে নবসাজে সজ্জিত ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে। প্রদর্শনালয়টির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিন্যস্ত প্রদর্শনীটির শিরোনাম ‘দ্য ওয়ার্ক অব ক্রিয়েশন’।

শিল্পরসিকদের জন্য বিমূর্ত চিত্রকলার চমৎকার এক সম্ভার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী কাজী গিয়াসের এ প্রদর্শনী। যেখানে অবলোকনের সঙ্গী হয় উপলব্ধির নির্যাস। জল ও তেল রঙের খেলায় সৃষ্ট ক্যানভাসগুলোয় রয়েছে ফর্ম, রেখা ও টেক্সচারের দ্বিমাত্রিক বিন্যাস। সেই সুবাদে সব ছবিতেই চোখে পড়ে সূক্ষ্মতা ও স্বকীয়তা সৃষ্টিকারী রঙের সঙ্গত ব্যবহার। প্রথম দর্শনে দূর থেকে বেশ কিছু ছবিকে গুহাচিত্রের মতো মনে হয়। আর কাছে গেলে উপলব্ধি করা যায় শিল্পের নিপুণ সামগ্রিকতা। এভাবেই প্রকৃতির অন্তর্নিহিত স্পন্দন চিত্রতলে উদ্ভাসিত হয়েছে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়ায়।

একটি ছবিতে সাদার সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া ঘটেছে হালকা সবুজের। জ্যামিতিক টেক্সচারে চিত্রিত ছবিতে ভেসে উঠেছে নিসর্গকেন্দ্রিক জীবনের মুহূর্ত। স্টোরি-১ ও স্টোরি-২ শীর্ষক দুই ছবিতে সাদা ক্যানভাসে আছে নানা রঙের উপস্থিতি। ওই রংগুলো যেন নিজেরাই নিজেদের গল্প বলে বলে যায়। পলকা ঢেউয়ে স্রোতস্বিনীর কোলজুড়ে যেমন নক্সা কাটে প্রকৃতি তেমনই টেক্সচার দেখা যায় স্টোরি সিরিজে। চোখ জুড়ানো সেই টেক্সচার হয়ে ওঠে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। মিউজিক অব দ্য ফুল মুন শিরোনামের ছবিতে গাঢ় অন্ধকারের মাঝে পাওয়া যায় রুপালি জোছনার আলোকিত স্পন্দন। সাউন্ড অব রেইন শীর্ষক সিরিজের ছবিতে কাগজের শরীর গড়ানো জলরঙের বৃষ্টি ভিজিয়ে দেয় তৃষ্ণার্ত নয়নকে। বিমূর্ত রীতিতে এমন করেই কাজী গিয়াসের শিল্পকর্মে উপস্থাপিত হয়েছে প্রকৃতির অমোচনীয় উপাদান। গ্যালারির দেয়াল ছাড়াও কাঁচঘেরা কিছু টেবিলে তেল ও জলরংয়ে আঁকা ৭৬টি চিত্রকর্ম ঠাঁই পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ৫ এপ্রিল থেকে সূচনা হওয়া প্রদর্শনীটি শেষ হবে কাল শনিবার। বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।