১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চান না ট্রাম্প

  • কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে তেহরানের পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের কিছু শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টাদের ওপর নাখোশ হয়েছেন। কারণ তারা চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তড়িঘড়ি করে ইরানের সঙ্গে সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। কিন্তু আদতে তা হয়নি। ইরান এই ব্যয়বহুল যুদ্ধে আপাতত জড়াতে চাইছে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক কর্মকর্তা মনে করেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক উপায়ে তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা হ্রাস করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতেও রাজি। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কিছু মন্তব্যসহ দেশটি থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে যে, তেহরান ওয়াশিংটনের জন্য সরাসরি হুমকি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র সূত্র বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের আবহ দেখে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেরও সঙ্গে বৈঠকে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কারণ ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছিল। তবে এতে ট্রাম্প কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। ওই সূত্র আরও জানায়, জন বোল্টন ইরানের ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে ট্রাম্পকে বোঝাতে চাইছিলেন তবে ট্রাম্প তা মানেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের মতে, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয় ট্রাম্প বরং ইরানের জনগণ ও দেশটির সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছুতে বেশি আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি ইরানের সঙ্গে খোলাখুলি চুক্তিতে আসতে চান। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আপাতত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অনিচ্ছুক। ওই বৈঠকে জন বোল্টনের ওপর ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র গ্যারেট মারকুইজ বলেন, কারণ ওই বৈঠকে জন বোল্টন প্রকৃত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছিলেন না। অপরদিকে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলা ছাড়া ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন পদক্ষেপ নিতে আপাতত অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে চান ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিনীদের ওপর বড় ধরনের হামলা ও কোন নাটকীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা উত্তর দেবে। তার আগে নয়। এদিকে বুধবার ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় ইঙ্গিত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে আপাতত তার মনোভাব যুদ্ধংদেহী নয়। ওই বার্তায় তিনি আরও লিখেন, আমি নিশ্চিত ইরান শীঘ্রই আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হবে।-ওয়াশিংটন পোস্ট