২৭ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপ্রতিরোধ্য পলিথিন ॥ থামানো যাচ্ছে না আগ্রাসন

অপ্রতিরোধ্য পলিথিন ॥ থামানো যাচ্ছে না আগ্রাসন

নিখিল মানখিন ॥ কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ থাকলেও পলিথিনই যেন বাস্তবতা। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার এবং লাগাতার অভিযান চালিয়েও রোখা যায়নি পলিথিনের আগ্রাসন। মানুষের হাতে হাতে ফিরে এসেছে পলিথিন। সারাদেশে বিভিন্ন প্রকার শপিংব্যাগ ব্যবহারকারীর শতকরা ৮০ ভাগই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছেন। খোদ রাজধানীতে প্রতিদিন ব্যবহার হচ্ছে এক কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ। ঢাকা শহরের এমন কোন মার্কেট, বিপণি বিতান, কাঁচাবাজার নেই যেখানে পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে না। এমনকি বিভিন্ন অলিগলির দোকান ও মুদিখানার দোকানগুলোতে পলিথিনের ছড়াছড়ি। পুরনো ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কয়েক শ’ পলিথিন কারখানা। এসব কারখানা থেকে উৎপাদিত পলিথিন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। একাধিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে পলিথিনের উৎপাদন। এর মাধ্যমে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিরুদ্ধে ১০ বছর কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। পলিথিনে বাজার সয়লাব হলেও এর বিরুদ্ধে তেমন সোচ্চার নয় সংশ্লিষ্ট কেউই। বছরে দু’একটি অভিযান পরিচালনা করে দায় সারছে পরিবেশ অধিদফতর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার আগের অবস্থায় চলে এসেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার প্রথমদিকে এর বিরুদ্ধে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ব্যবহার বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, পলিথিন যেন এখন বাস্তবতা। পলিথিন ছাড়া কোনভাবেই চলা সম্ভব নয়। পলিথিনের যেসব বিকল্পের কথা বলা হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল। এসব বিকল্প দিয়ে এত ব্যাপক চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। কারো কারো মতে ব্যাপক চাহিদার কারণেই ঠেকানো যাচ্ছে না পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই পলিথিন। মানুষের নিত্যসময়ের সঙ্গী এই পলিথিন। সবকিছুতেই এর ব্যবহার এত ব্যাপক যে বিকল্প কোন কিছুতেই এর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাদের মতে পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি পলিথিন ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও ভাবতে হবে। উন্নত বিশ্বে নিষিদ্ধ না করেও শুধু পলিথিন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতেই পলিথিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচী চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পলিথিন কেন, সকল প্রকার প্লাস্টিক সামগ্রীই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও বর্তমান যুগে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ সম্ভব নয়। এ কারণে পলিথিন এবং প্লার্স্টিক ব্যবস্থাপনার দিকে কঠোর নজর দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে কয়েক শ’ পলিথিন কারখানা। একাধিক সিন্ডিকেট পলিথিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশের সোর্স কাম ক্যাশিয়ার হিসেবেও পরিচিত। আবার পুরনো ঢাকার কিল্লারমোড় থেকে শুরু করে হাজারীবাগ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর পশ্চিমের শাখানদীতে চলছে পুরাতন পলিথিন ধোয়ামোছার কাজ। এই এলাকার শতাধিক নারী ও শিশু পুরাতন পলিথিন কুড়িয়ে প্রতিনিয়ত ধোয়ামোছার কাজ করে থাকে। এসব কারণে নদীর তীর ঘেরা প্রায় ৮ লাখ জনঅধ্যুষিত কামরাঙ্গীরচরসহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দা বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে। পুরনো ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, চকবাজার থানাধীন ইসলামবাগ, কামালবাগ, জয়নাগ রোড, খাজে দেয়ান আবাসিক এলাকা, চকবাজার, সোয়ারীঘাট, দেবীদাস ঘাট, কোতোয়ালি, বংশাল, সূত্রাপুর থেকে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, ফতুল্লা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে রয়েছে কয়েক শ’ পলিথিন কারখানা। এর মধ্যে কামরাঙ্গীরচর থানা সংলগ্ন হুজুরপাড়া এলাকায় রয়েছে প্রায় ১০টি কারখানা। এছাড়া কামরাঙ্গীরচর এলাকার ১৩টি মহল্লার মধ্যে রয়েছে আরও ১০ থেকে ১২টি কারখানা। লালবাগ, ইসলামবাগ, জয়নাগ রোড, কামালবাগ ও এর আশপাশে রয়েছে অর্ধশত কারখানা। চকবাজার, সোয়ারীঘাট ও দেবীদাস ঘাটে রয়েছে ১৫ থেকে ২০টি কারখানা। মৌলভীবাজার, বেগমবাজার ও মুকিমবাজারে রয়েছে ২০/২৫টি কারখানা। চকবাজার, খাজে দেওয়ান আবাসিক এলাকার প্রথম ও দ্বিতীয় লেনে রয়েছে প্রায় ১০টি কারখানা। কোতোয়ালি সূত্রাপুর এলাকায় রয়েছে প্রায় অর্ধশত। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে রয়েছে শতাধিক পলিথিন কারখানা। পুরনো ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে ঘিঞ্জি পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এসব পলিথিন কারখানা। ঘিঞ্জি পরিবেশের ভেতরে পলিথিন কারখানা এমনভাবে রয়েছে যা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। পরিবেশ অধিদফতর কর্মকর্তারা বলছেন, লোকবলের অভাবে তাদের কোন অভিযানেই গতি আসছে না।

সরকার ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ৬ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এ ঘোষণা বাস্তবায়ন করে। একই বছরের নবেম্বরের ৮ তারিখে সরকারের অপর একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাময়িকভাবে বিস্কুট, চানাচুরের মোড়ক হিসেবে পলিথিনের ব্যবহার করা যাবে। তবে সেগুলোর পুরুত্ব অবশ্যই ১শ’ মাইক্রেনের ওপর হতে হবে। এই আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে , কেউ যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তবে তার শাস্তি ১০ বছর কারাদন্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমান বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। আর কোন ব্যক্তি যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন সামগ্রী বিক্রি বা বিক্রির উদ্দেশে প্রদর্শন, গুদামজাতকরণ, বিতরণ ও বাণিজ্যিক উদ্দেশে পরিবহন বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে, তার শাস্তি হবে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিন ব্যাগ এমন একটি বস্তু যার সৃষ্টি আছে ধ্বংস নেই। পলিথিন পরিবেশকে ধ্বংস করে কিন্তু নিজে ধ্বংস হয় না। এটি একটি জটিল রাসায়নিক যৌগ। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন বাপার তথ্য মতে রাজধানী ঢাকাতে প্রায় সোয়া কোটি লোক বাস করে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ লোক প্রতিদিন বাজার করে। ১ জন লোক গড়ে ৫টি পলিথিন ব্যবহার করলে ১ কোটি পলিথিনের দরকার হয়। এর সামান্য অংশ নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। বাকি পলিথিন ব্যাগ জমা হয় ড্রেন-নর্দমায়। যে কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করে। একটু বৃষ্টি হলে জমে যায় পানি, দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। যে পলিথিনগুলো ডাস্টবিন বা এ জাতীয় নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে, সেগুলো টোকাইরা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। সংগৃহীত পলিথিন কোন প্রকার দূষণমুক্ত না করে আগুনে পুড়িয়ে রিসাইকেল পদ্ধতিতে আবার পলিথিন উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া তৈরি করা হয় জর্দার কৌটা জাতীয় ডিব্বা। ফলে ওই এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়। তৈরি হয় বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডের গ্যাস; যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তা ছাড়া পলিথিনের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। অথচ পলিথিন ব্যাগের চাহিদা দেশে উৎপাদিত পাট, কাগজ ও কাপড় দিয়ে সম্ভব। এছাড়া একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৪শ’ থেকে ৪৫০ পাউন্ড পলিথিনের দানা মাড়াই করে। যা দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পলিথিন ব্যাগ উৎপন্ন করা যায়। কিন্তু পরিবেশ বান্ধব ৪০ হাজার ব্যাগ তৈরি করতে প্রয়োজন হয় ১৩০ থেকে ১৪০ শ্রমিক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পড়লে মনে হবে, দেশে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন নিশ্চিতভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। আবার বাজারে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার হাতের দিকে তাকালে মনে হবে এ দেশে বুঝি পলিথিন বন্ধ করার কোন উদ্যোগই নেই। অবাধে চলছে পলিথিনের ব্যবহার। বিক্রেতা এমনভাবে পলিথিন ব্যাগে পণ্য ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, যা দেখলে মনে হতে পারে এ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার। দু’পক্ষকেই যদি জিজ্ঞেস করা হয় পলিথিন ব্যবহার ঠিক কি না, তাহলে উভয়ই বলবেন, এটা বেআইনী। সব কিছু জানার পরও অবাধেই চলছে ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার।

পলিথিন নিয়ে দোটানায় পরিবেশ অধিদফতর ॥ বাজারে পলিথিনে সয়লাব। যারা পলিথিন উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার করছেন তারা অনেকে হয়ত ভুলেই গেছেন বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যারা আইন প্রয়োগ করে পলিথিন বন্ধ করবে সেই পরিবেশ অধিদফতরও। অধিদফতরটির কর্মকর্তারাও বুঝে উঠতে পারছে না কোন্ পলিথিন বন্ধ করবেন আর কোন্টা ব্যবহারে অনুমতি দেবেন।

পরিবেশ অধিদফতর বলছে, ২০০২ সালে প্রথম পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম এবং ব্যবহার বন্ধে আইন পাস হয়। দেশের সর্বত্র চলছে পলিথিনের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার। পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানায়, আইন প্রণয়নের পরবর্তী সময়ে রফতানি করা সকল পণ্যের মোড়কের ক্ষেত্রে, রেণু পোনা পরিবহনের জন্য পণ্যের গুণগতমান রক্ষার স্বার্থে প্যাকেজিং কাজে ব্যবহারের জন্য, মাশরুম চাষ ও প্যাকেজিংয়ের জন্য এবং নার্সারির চারা উৎপাদন ও বিপণনের জন্য পলিথিন ব্যবহারে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়। কিছু কিছু পণ্যের মোড়কের জন্য পলিথিন উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও পলিথিন উৎপাদন কারখানগুলো গোপনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরি অব্যাহত রেখেছে। ফলে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বাজার থেকে পলিথিন ব্যাগ নিধনের যে কার্যক্রম পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর হাতে নিয়েছে তা কিছু সময়ের মধ্যে পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো” শাহাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের দূষণরোধে আইন সংশোধন করবে সরকার। পাশাপাশি এসব পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সারা দেশে যুগপৎ কর্মসূচী হাতে নেয়া হবে। প্লাস্টিকসামগ্রী ও পলিথিন ব্যবহারে আমাদের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে। পরিবেশের এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই জনগণকে অধিকহারে সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিনের কুফল থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ দিনের অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ পলিথিন শপিং ব্যাগ বন্ধের আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদফতরের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ ও শপিং ব্যাগ জব্দ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। পরিবেশ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশের আবেদন সর্বজনীন। সবার নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মকান্ডকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেব।