১৬ মে ২০১৯

কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি দত্তক নিতে লাইন

 কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি দত্তক নিতে লাইন

নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ রাজধানীর শিশু হাসপাতালের বাথরুম থেকে উদ্ধার হওয়া ফুটফুটে নবজাতক গহিনকে আজিমপুর ছোটমনি নিবাসে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ছোটমনি নিবাসের কর্মকর্তাদের কাছে শিশুটিকে তুলে দেয়ার পর নাম রাখা হয়েছে গহিন। এদিকে গহিনকে দত্তক নেয়ার জন্য অনেকেই শিশু হাসপাতালের নিয়ম-কানুন জানতে চাইছেন। কেউ কেউ তদবিরও করছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে আজিমপুর ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সে থাকবে, বেড়ে উঠবে। কেউ তাকে দত্তক নিতে চাইলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। অন্যদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই নারীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর থেকেই তার দেখাশোনা করছিলেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল মাহমুদ ও তার স্ত্রী পলি বেগম। এই দম্পতির কোন সন্তান-সন্ততি নেই। তারাও এই বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি এভাবে হাসপাতাল থেকে শিশুকে হস্তান্তরের নিয়ম নেই। যে কোন কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে চিকিৎসা দিয়ে আজিমপুরের শিশুনিবাসে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে শিশুদের দত্তক নিতে আগ্রহীরা পারিবারিক আদালতে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে দত্তক নিতে পারেন। গহিনের ক্ষেত্রেও তাই করা হবে। সূত্র জানায়, কোন শিশুর জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে আদালত তখন তাদের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে একটি দম্পতিকে নির্বাচন করেন। এরপর শিশুটির গন্তব্য কোথায় হবে সেটি নির্ধারিত হয় আদালতের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছোটমনি নিবাস কর্মকর্তাদের কাছে ওই ফুটফুটে নবজাতককে তুলে দেয়ার পর থেকে বাবা-মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন পলি বেগম ও রাসেল মাহমুদ। তারাই শিশুটির নাম দিয়েছেন গহিন। কুড়িয়ে পাওয়া শিশু গহিনকে বুকে জড়িয়ে সারাক্ষণ বসে থাকেন পলি বেগম। শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল মাহমুদ ও স্ত্রী পলি বেগমের ১০ বছরের সংসার জীবনে কোন সন্তান-সন্ততি আসেনি। তারা এই শিশুটিকে দত্তক নিতে চান বলে জানিয়েছেন। শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ ফরিদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। এরপর চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। এখন আমাদের এখানে রাখার কোন নিয়ম নেই। তাই বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে আজিমপুর ছোটমনি শিশু নিবাসে পাঠানো হয়েছে। বাকিটা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

অপরদিকে বুধবার শিশুটিকে তার প্রকৃত অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ‘মা, আমাকে নিয়ে যাও, তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না আমার’ এই শিরোনামে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ফেসবুক পেজে শিশুটিকে তার প্রকৃত অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা হয়েছে, এই নিষ্পাপ শিশুটিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শিশু হাসপাতালে পাওয়া গেছে। শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে শিশুটি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই নিষ্পাপ শিশুটি ফিরে পাক তার মা-বাবাকে। মা-বাবার কোল আলোকিত করে বেড়ে উঠুক আসল পরিচয়ে। মা-বাবার কোল ভরে উঠুক এই নিষ্পাপ শিশুটির কান্না ও হাসিতে। যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি শিশুটির মা-বাবা ও পরিচিত জনকে চিনে থাকেন বা তাদের সম্পর্কে কোন তথ্য জেনে থাকেন, নিচে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো- ওসি (শেরেবাংলা নগর থানা) ০১৭১৩৩৯৮৩৩৫, এসি (তেজগাঁও জোন) ০১৭১৩৩৭৩১৭৮। এদিকে পুলিশের এই স্ট্যাটাসের পর শত শত মানুষ দেশ-বিদেশ থেকে এই দুটি নম্বরে ফোন দিয়ে শিশুটিকে দত্তক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে তার প্রকৃত অভিভাবককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই নারীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য কেউ কেউ তদবিরও করছেন। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই নারীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পুলিশের তত্ত্বাবধানে নবজাতকটিকে শিশু হাসপাতালের একটি কেবিনে চিকিৎসকের সর্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে শিশুটিকে আজিমপুর শিশু নিবাসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সে থাকবে। ডিসি জানান, নবজাতককে প্রকৃত অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দিতে শিশু হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ শিশুটিকে শিশু হাসপাতালে রেখে গেল কিনা কিংবা কোন অসাধুচক্র শিশুটিকে অন্য কোন জায়গা থেকে চুরি করে কাউকে দেয়ার জন্য এখানে এনেছে কিনা? তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের ধারণা, শিশুটি অন্য কোথাও থেকে এনে এই হাসপাতালে রাখা হয়েছে। কারণ শিশু হাসপাতালে প্রসব বা ডেলিভারি সংক্রান্ত কোন ইউনিট নেই। শিশু হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিশুটি প্রথম থেকেই সুস্থ ছিল। চিকিৎসা দেয়ার পর সে আরও সুস্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শিশু হাসপাতালের শৌচাগার থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শিশুটির বয়স তিন-চার দিন হতে পারে। এরপর নবজাতককে উদ্ধার করে কেবিনে ভর্তি করা হয়।