১৬ মে ২০১৯

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনাল আজ

মিথুন আশরাফ ॥ ত্রিদেশীয় সিরিজে আর একটি ম্যাচ বাকি। এরপরই একদলের হাতে শিরোপা শোভা পাবে। সেই শিরোপার ম্যাচটি ফয়সালা হতেই শেষ হবে সিরিজ। আজ সেই শিরোপা ফয়সালার ম্যাচ। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ লড়বে ফাইনাল ম্যাচ। ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের দ্য ভিলেজের ম্যালাহাইড ক্রিকেট ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় বেলা পৌনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি। ম্যাচটিতে যদি জিততে পারে বাংলাদেশ, তাহলে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার দ্বিপক্ষীয় কোন সিরিজ ছাড়া শিরোপা জেতার স্বাদ পাবে।

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ক্রিকেটাররা ভালই প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা একটু ভালভাবে সারছেন। এখন পর্যন্ত যে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের একটি ম্যাচেও হারেনি বাংলাদেশ। অপরাজিত থেকেই ফাইনালে খেলতে নামবে। আবার দলের ‘রিজার্ভ বেঞ্চে’র ক্রিকেটারদেরও ঝালিয়ে নেয়া হয়েছে। তাই প্রস্তুতি বাংলাদেশ দলই ভালভাবে সেরেছে। বিশ্বকাপের পুরো দলই যে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলেছে। বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যই আবার সিরিজে খেলার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে নিজেদের পুরোদমে প্রস্তুত করে নিয়েছে। সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুই ম্যাচে ৮ ও ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। আরেকটি ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছে। ৪ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ফেবারিট দল হিসেবেই খেলতে নামবে।

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই তুলনায় অনেক দুর্বলই। বাংলাদেশের কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুইবার হেরেছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে ১৯৬ রান ও ৫ উইকেটে জিতে ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে দলটির ক্রিকেটারদেরও প্রস্তুতি ভালভাবে সেরে নেয়া হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের পুরো দল নিয়ে খেলছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, কার্লোস ব্রেথওয়েট, ওশানে থমাস ও নিকোলাস পুরানের মতো ক্রিকেটাররা দলে নেই। তাই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও পুরোদমে সেরে নিতে পারছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়রাও তাই আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেও বাংলাদেশের কাছে এসে বারবার ধরাশায়ী হচ্ছে। আজও যদি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারে তাহলেতো ইতিহাসই গড়ে ফেলবে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো দুইয়ের অধিক দল নিয়ে হওয়া কোন টুর্নামেন্ট বা সিরিজের শিরোপা ঘরে তুলবে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো কোন ফাইনাল ম্যাচও জিতবে। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ বার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু একবারও শিরোপা জিততে পারেনি। এবার ভাল সুযোগ আছে শিরোপা জেতার। সেই সুযোগ কাজে লাগানো গেলেই হলো।

বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা সেই সুযোগ নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে কাজে লাগাতেও চান। ত্রিদেশীয় সিরিজে একের পর এক ম্যাচ জিততে থাকায় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। মানসিকতাও চাঙ্গা আছে। আর তাইতো ফাইনাল নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘আমরা সিরিজের তিন ম্যাচই জিতেছি এবং ফাইনালের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আর মাত্র একটি ম্যাচে হারাতে পারলেই হলো। শিরোপা ঘরে তুলবে বাংলাদেশ।

ম্যাচটির আগে অবশ্য বাংলাদেশ দল মহাসমস্যাতেই পড়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচটিতে চোটে পড়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাইড স্ট্রেনের চোটে পড়েছেন। ম্যাচটিতে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব। তবে সাইড স্ট্রেনের চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন। যদিও চোট গুরুতর নয় বলেই জানা গেছে। কোন ঝুঁকি না নিতেই সাকিব মাঠ থেকে উঠে পড়েন। স্বেচ্ছায় অবসরে যান। একদিন বিশ্রামেও থাকেন। তবে ফাইনালে খেলতে পারবেন, তা শতভাগ নিশ্চিত নয়। যদি সাকিব না খেলেন তাহলে দল শক্তি হারাবে। তখন একজন ব্যাটসম্যান ও একজন বোলার আলাদা করে খেলাতে হবে। সাকিব যে একের ভেতর দুই শক্তির ক্রিকেটার।

সাকিবের চিন্তা থাকছেই। এর সঙ্গে একাদশ গঠন নিয়েও আছে ভাবনা। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে সৌম্য সরকার অসাধারণ ব্যাটিং করছিলেন। আইরিশদের বিপক্ষে সৌম্যকে বিশ্রাম দিয়ে লিটন কুমার দাসকে ঝালিয়ে নেয়া হয়। লিটন ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ইনিংসের সেরা স্কোরার (৭৬) হয়ে দেখান। ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গে সৌম্য না লিটনকে আজ ফাইনালে খেলানো হবে তা নিয়েও ভাবনা থাকছে। তবে শেষ পর্যন্ত দুইজনকেই একাদশে দেখা যেতে পারে। একজন ওপেনিংয়ে খেললেন। আরেকজন সুযোগ পাওয়া পজিশনে খেললেন। আর বাকি যে পজিশনগুলো আছে সেই পজিশনগুলোতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের পরিবর্তে মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেনের পরিবর্তে মুস্তাফিজুর রহমান খেলতে পারেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকেও আজ বসিয়ে রাখা হতে পারে। একাদশ যেমনই হোক, সবার নজরে আছে শিরোপা। যে শিরোপা প্রথমবারের মতো উচিয়ে ধরতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। যে শিরোপার ক্ষুধায় ক্ষুধার্ত পুরো জাতি। দেশের মানুষ এখন একটি শিরোপার জন্যই অপেক্ষা করছেন। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই সেই অধরা শিরোপার সন্ধান মিলে যাবে।

মাশরাফি-সাকিবদের ফোন করে ভরসা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আরেকটি ফাইনাল, আরেকবার ট্রফির অপেক্ষা। আছে অধরা ট্রফি ছোঁয়ার তাড়না। তবে ডাবলিনে বাংলাদেশ দলকে ফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়াই শেষ কথা নয়, মন উজার করে খেলাই গুরুত্বপূর্ণ।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কল করেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফিকে। কথা বলেছেন দলের সবার সঙ্গে। জানিয়েছেন শুভকামনা। বাংলাদেশ এখনও কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে হেরেছে ছয়টি ফাইনাল। কেবল একটি ছাড়া আর সবকটিতে দল হেরেছে জয়ের খুব কাছে গিয়ে। একেকটি শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে আর ট্রফি জয়ের আকাক্সক্ষা বেড়েছে আরও। এবার শিরোপার হাতছানি দিচ্ছে আবারও। তবে মাশরাফি জানালেন, প্রধানমন্ত্রী কখনই ট্রফি জয়ের কথা বলেন না। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন। বলেছেন, টেনশন না করে মন খুলে খেলতে। চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে এমন কোন কথা নেই। অনেক সময়ই আমাদেরকে ফোন করে উনি শুভেচ্ছা জানান। বরাবর এরকমই বলেন। কখনই বলেন না যে এবার চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে।’ ‘আমি যেখানেই যাই, এমনকি আমার পরিবারেও, ট্রফি জয়ের কথা বলেন সবাই। কিন্তু বাংলাদেশে মনে হয় প্রধানমন্ত্রীই একজন, কখনই এই কথা বলেননি।’ গত এশিয়া কাপের ফাইনালের আগের দিনও বলেছিলেন, ‘শোনো, মানুষজন সবাই তো এত বোঝে না, আমিও খেলা তত বুঝি না। কিন্তু জানি যে ফাইনালে ওঠাই অনেক বড়। জিততেই হবে, এমন কথা নেই। তোমরা চেষ্টা করলেই আমরা খুশি।’ প্রধানমন্ত্রী যখন এরকম করে ভাবেন, বাড়তি প্রেরণা অবশ্যই জোগায়।