২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মা দিবসে রত্নগর্ভা মায়েরা অভিষিক্ত হলেন

  • নাজনীন বেগম

১২ মে সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘মা দিবস’। যদিও মার মতো স্নেহ মমতায় সিক্ত গরবিনী জননী কোন নির্দিষ্ট দিনে আটকে থাকেন না। সার্বক্ষাণিক স্নেহ সান্নিধ্যে গর্ভের সন্তানকে প্রতিদিন যিনি জীবনের প্রয়োজনীয় সময়গুলো দিয়ে যান সেই সর্বংসহা জননী মাতৃভূমির ও এক অপরিমেয় শৌর্য। বহু কাক্সিক্ষত সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়ে সব মাই যে অনন্য উচ্চতায় নিজেদের প্রমাণ করেন তার সঙ্গে অন্য কিছুকেই তুলনা করা যায় না। মাতৃত্ব যে কোন নারীর চিরায়ত রূপ মাধুরী। সেটা যেমন মায়ের নিজের একইভাবে ক্ষুদ্র পারিবারিক গন্ডি থেকে বৃহত্তর সামাজিক আঙিনায়ও এর মহিমা কোন অংশেই কম নয়। নয় মাস নয়দিন জঠরে লালন করে মাতৃত্বকালীন অবস্থায় যে আনন্দ, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ আর আবেগে সময় পার করা সেও এক অবর্ণনীয় গতিপ্রবাহ। সন্তান জন্ম দেয়ার গভীর যন্ত্রণায় মাদের তাৎক্ষণিকভাবে কাতর করলেও এমন কষ্ট ভুলে যেতেও তাদের সময় লাগে না। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটির কান্নার মধ্য দিয়ে মা শুনতে পায় তার সন্তানের করুণ আর্তি। মুহূর্তে নিজের কষ্ট-বেদনা অপসৃত হয়। সন্তানের মুখ দর্শনে তৃপ্তি আর আনন্দে সময়গুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়। এমন বেদনাঘন অভিজ্ঞতা সারা বিশ্বের সব মায়ের। এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতি মুহূর্তে নিজেকে সন্তানের জীবন আলো করার জন্য নিঃশর্ত সমর্পণ। শৈশব, কৈশোর পার করে সন্তান বড় হতে থাকে। আর মা তার সমস্ত দায়-দায়িত্ব, স্নেহ -মায়া, সাহচর্য্য দিতে কোন সময়েই ক্লান্তি কিংবা অবসাদে ভেঙ্গেও পড়েন না। কোন এক সময় মায়ের বহু আদরের, যত্নের সন্তান নিজেকে তৈরিও করে নেয়। জীবনের যাত্রাপথের প্রতিক্ষণের সাথী মায়ের নিরবচ্ছিন্ন মমতাময়ী স্পর্শ সন্তানকে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছেও দেয়। সন্তান প্রতিষ্ঠা পায় সমাজ ও জীবনে। এমন কৃতিত্বের ভাগিদার হন মা নিজেই। সন্তানকে দেশের যথার্থ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে উপহার দেয়ার জন্য। আর তাই যুগে যুগে এমন সফল মায়েরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যোগ্যতম করে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। সুতরাং মা দিবসে তাদের প্রতি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে সেই সব মাতৃমহিমাকে স্বীকৃতি দিতে চায়। কৃতী সন্তান মানেই সফল মা, এর ব্যত্যয় কখনও হয় না।

কৃতী মায়েদের জন্য এমন একটি বৃহৎ ও মহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছেন। আজাদ প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। ২০০৩ সাল থেকে তিনি যোগ্য সন্তানের মাদের সম্মাননা পুরস্কার দিয়ে তাদের কর্ম সাফল্যের প্রতি তার অন্তর নিঃসৃত শ্রদ্ধা আর ভালবাসা জানান। যাতে শুধু মাকেই উৎসাহিত আর অনুপ্রাণিত করা নয় বরং সমাজের ভাবী প্রজন্মকেও তাদের জীবন গড়ার পথপরিক্রমায় যথার্থভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেও স্বাগত বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ এমন শুভকর্মের যাত্রা শুরুর ব্যাপারটি প্রতিবারের মতো এবারও নতুনভাবে সবাইকে মনে করিয়ে দেন। ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে ১২ মে মা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রত্নগর্ভা মায়েদের উদ্দেশে অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বলেন, একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ছাত্রদের নকল প্রবণতা থেকে আরম্ভ করে ভিন্ন ও ভুল পথে তাদের মূল্যবান জীবনকে উদ্দেশ্যহীন এবং অনিশ্চয়তার দিকে ঠৈলে দেয়া তাকে ভীষণভাবে আহত করে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এমন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন যাতে মা এবং সন্তান জীবনের পথপরিক্রমায় সুষ্ঠু, সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সন্তান বিপথে চলে গেলে মায়েরা কোন ভাবেই ভাল থাকেন না। একজন সফল মা এবং কৃতী সন্তান এক অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে জড়ানো। যথার্থ সুসন্তান ও যোগ্য নাগরিক যেমন দেশের সম্পদ একইভাবে তা গর্ভধারিণী মায়েরও ঐশ্চর্য। জঠরে এমন রত্ন ধারণ করা জননী মাতৃসুষমায় নিজেই মহিমান্বিত হন। পরিণতিতে দেশও পায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। যারা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, আদর্শে, দেশপ্রেমে, নীতি-নৈতিকতায় মাতৃভূমির পবিত্র আঙিনাকে আলোয় আলোয় ভরিয়ে দেয়।

তেমন রত্নগর্ভা মায়েদের পদচারণায় পুরো আয়োজনটি উজ্জ্বল আর মুখরিত হয়ে ওঠে। ৩৫ জন সফল মাকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২৫ জন আর বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০ জন। অনুষ্ঠানে সফল মায়ের যোগ্য সন্তানরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সবাই একবাক্যে বলেছেন মায়ের স্নেহই শুধু নয় কঠোর অনুশাসনও তাদের জীবন গড়ার অন্যতম হাতিয়ার ছিল। ন্যায়, অন্যায়বোধ, নীতিনিষ্ঠতা, দেশের প্রতি ভালবাসা, মানবিকতার অদম্য চেতনায় মায়ের অভেদ্য কাঠিন্যের সঙ্গে ছিল মমতার ঝরনাধারা। অনেক মা নিজের উজ্জ্বলতম ভবিষ্যতকে তোয়াক্কা না করে সন্তানদের ভাবী জীবন তৈরি করতে সম্পূর্ণরূপে উজাড় করে দিয়েছেন। যার জন্য দেশ গর্বিত, সন্তানরা সুপ্রতিষ্ঠিত, মায়েরাও অবিমিশ্র আনন্দধারায় উদ্ভাসিত।