১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তরুণ-তরুণীদের প্রিয় আজিজ সুপার মার্কেটে ভিড় লেগেছে

 তরুণ-তরুণীদের প্রিয় আজিজ সুপার মার্কেটে ভিড় লেগেছে

ওয়াজেদ হীরা ॥ ঈদের কেনাকাটার ভিড় লেগেছে রাজধানীর প্রতিটি শপিংমল ও মার্কেটে। আধুনিকতা আর দেশী পোশাকে সেজেছে অতি পরিচিত আজিজ সুপার মার্কেটও। যে কোন উৎসবেই তরুণ-তরুণীদের বিশেষ আগ্রহ থাকে এই মার্কেটের প্রতি। ফ্যাশনের জন্য তরুণ-তরুণীদের অন্যতম পছন্দের স্থান এটি। নিজস্ব পোশাক তৈরি করে সুনামও কুড়িয়েছে মার্কেটটি। অন্য বয়সীদের পোশাকের চেয়ে তরুণ-তরুণীদের পোশাকের আধিক্য এখানে বেশি। প্রতিদিনই অসংখ্য তারুণের কেনাকাটার মেলবন্ধনে পরিণত হচ্ছে আজিজ সুপার মার্কেট। ছেলেদের বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি আর মেয়েদের কারুকার্যকর জামা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষই মনে করে, সাশ্রয়ী দাম ও ভিন্নধর্মী ডিজাইনের কারণে শিক্ষার্থী তথা তরুণদের পছন্দের মার্কেট হিসেবে এ বাজার জায়গা করে নিয়েছে।

এক সময়ের জনপ্রিয় ও দুর্লভ সব বই কেনাবেচার স্থান আজিজ সুপার মার্কেট এখন দেশীয় পোশাকের সম্ভার হিসেবে অনেক পরিচিত। শিল্প ও সংস্কৃতি কর্মীদের প্রিয় আড্ডার এ জায়গাটিতে হাজার হাজার সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতা জড়ো হয় প্রতিদিন। তিন তলা পর্যন্ত রয়েছে মার্কেট সেখানে ছেলেমেয়েদের মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক দোকান রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা উপাদান ব্যবহার করে আজিজ মার্কেটের ফ্যাশন হাউসগুলো ভরে ওঠে বাংলার বিচিত্র রঙে।

এবারের ঈদও ব্যতিক্রম নয়। শতভাগ বাঙালীয়ানা ফুটিয়ে তোলার কৃতিত্ব নিয়ে ক্রেতা টানছে বেশ। এবারের ঈদেও দেশীয় কাপড় ও দেশজ ঐতিহ্যনির্ভর বিচিত্র পোশাক নিয়ে এসেছে আজিজের বিভিন্ন বুটিক শপগুলো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোরুমগুলো দেশী খাদি ও তাঁতনির্ভর সুতি কাপড় দিয়ে সাজিয়েছে তাদের সম্ভার। তাই আজিজের অনেক শোরুমে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। জানা গেছে, মার্কেটের পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, হোম ইকোনমিক্স কলেজের শিক্ষার্থীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার তরুণ-তরুণীরা নিত্য নতুন বাহারি কারু কাজ খুঁজতে ছুটে আসেন এখানে। ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই বাড়ি চলে যাবেন বলে কেনাকাটা করতে ভিড় জমাচ্ছেন। যদিও বিক্রেতাদের মতে আশানুরূপ বিক্রি বাড়েনি। সামনের দিনগুলোতে আরও বিক্রির প্রত্যাশা করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। মার্কেটের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দোকানগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কোন কোন শোরুমে মানুষের উপচে পড়া ভিড় আবার কোনটিতে একেবারেই ক্রেতা নেই। ফলে বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলেন, পাশাপাশি অনেক দোকান থাকার কারণে ক্রেতারা মুহূর্তে এ দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়ায়। ফলে যে কোন মুহূর্তে যে কোন শোরোমে ক্রেতার চাপ বেড়ে যেতে পারে।

পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, মেয়েদের সেলোয়ার-কামিজ, শাড়িসহ নানা পণ্যের পসড়া এখানে। এবারের ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি এসেছে এই মার্কেটে। এসব পাঞ্জাবির মূল্য রাখা হচ্ছে পাঞ্জাবির মানভেদে একেক রকম। হাজার টাকার মধ্যেও পাওয়া যাবে পছন্দের পাঞ্জাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বন্ধুরা দলবেঁধে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটতে দেখা গেল পছন্দের পাঞ্জাবি কিনতে। রাইয়ান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বাড়ি চলে যাব আর কাছের মধ্যে এই মার্কেটের পোশাকই ভাল লাগে আমাদের কাছে। ঈদের সময় দাম একটু বেশি মনে হয় বলেও জানালেন তিনি। এখানে সিল্কের পাঞ্জাবির পাশাপাশি রয়েছে সুতি, খাদি, সিল্ক এবং তাঁতের কাপড়ের পাঞ্জাবি। এর মধ্যে সাদা সুতি পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, রঙিন সুতি হাতের কাজের পাঞ্জাবি ৯০০-১৩০০ টাকা, সিল্কের এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি ১২০০ থেকে শুরু, শর্ট পাঞ্জাবি ৭০০ থেকে শুরু এমন দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ মার্কেটের ক্রেতারা যেমন তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থী তেমনি বিক্রেতারাও সাধারণত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অর্থাৎ চুক্তিভিত্তিক বা মাসিক ভিত্তিতে এখানে বিক্রয় প্রতিনিধির কাজ বেশিরভাগই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা করে থাকেন। এই গরমে আরামপ্রদ পোশাক হিসেবে অনেকের কাছেই পলো টি-শার্ট পছন্দ, বিশেষ করে এই সময়ের তরুণ-তরুণীদের কাছে পলো টি-শার্ট বাড়তি ফ্যাশন হিসেবেই বেশি ধরা দেয়। তরুণদের সঙ্গে তরুণীরা এই পলো শার্টে বেশ আগ্রহী। অনেক তরুণী আছে যারা শাড়িতে তেমন একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। আর পরার অভ্যাস নেই বলে বেশিক্ষণ শাড়ি পরে থাকতেও পারে না। তাই তরুণীদের পছন্দের তালিকায় ফতুয়া, টপস, সিøভলেস, সেলোয়ার কামিজের পাশাপাশি পলো টি-শার্ট যেন অন্যরকম ফ্যাশনেবল পোশাক হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

হাছিনুর ও ইমতিয়াজ দুজনেই কিনলেন একাধিক পলো শার্ট। তাদের সঙ্গে আসা বান্ধবী সুমনাও কিনে নেন। ইমতিয়াজ বলেন, ঈদের দিন নামাজের পর পাঞ্জাবি খবু একটা পরে থাকা যায় না। তখন এসবই একমাত্র আরামদায়ক পোশাক। সুমনা বলেন, আমরা বাড়িতে, রুমে বেশ আরামে এসব পরিধান করি। ছেলেদের পাঞ্জাবির বাইরেও রয়েছে বিভিন্ন কালারের টি-শার্ট, শার্ট, পায়জামা ইত্যাদি বিক্রি করতে দেখা গেছে। বৃত্ত প্রতিষ্ঠানের এক বিক্রেতা জানান, আমাদের এই মার্কেটে প্রতিদিনই খুচরার পাশাপাশি পাইকারিও বিক্রি হয়। ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার তৈরি পোশাক পাঠানো হয়েছে বলেও জানান বিক্রেতা। ব্যবসায়ী জসিম বলেন এখানে প্রতিদিন প্রচুর টি-শার্ট বিক্রি হয়। বিভিন্ন রং, নক্সা এবং সাইজের টি-শার্ট টি-শার্টগুলোর দাম পড়বে ১৭০ থেকে ৩৯০ টাকার মধ্যে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা আজিজ মার্কেটে আসেন কম দামে ব্যতিক্রমী পোশাকের টানে। পোশাকের ডিজাইনগুলোই তাদের বেশি আকর্ষণ করে। প্রতিটি ফ্যাশন হাউসের রয়েছে নিজস্ব ডিজাইনের দেশীয় কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক। যেমন ফতুঞ্জি। এটি একটি নতুন ধরনের পোশাকের নাম। ফতুয়া আর পাঞ্জাবি মিলিয়ে তৈরি করা হয় ফতুঞ্জি।

আজিজের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে, থ্রিজি, নন্দ কুটির, নিত্যউপহার, স্বপ্নবাজ, বাংলার মেলা, লোকজ, মেঘ, প্রচ্ছদ, গোকুল, দেশীয়া, বরণ, নহলী, সুঁইসুতা, ঐশী, আতশী, ফাতিহা, টেক্কা, বাংলার রং, ১৯৭১, তারা মার্কা, বাঙ্গাল, নক্ষত্র, মেঠোপথ, ক্যানভাস, বসন, সারাবেলা, চরকি, ষড়ঋতু, ব্যতিক্রম, ফেরিঅলা, বান্নি, যোগী, কে ক্রাফট, রঙ, সাদাকালো, বিবিয়ানা, নক্ষত্র, আইডিয়াস, সেভেন, ইজি, কানন, দেশাল, গাঁওগেরাম, ফোর ডাইমেনশন, পৌষ, প্রজাপতি, টোটেম, আবরু প্রভৃতি।

গত দুই দিনে এখানে নারী-পুরুষের সমান ভিড় দেখা গেছে। অন্য বয়সের চেয়ে তরুণ ক্রেতাই বেশি দেখা গেছে মার্কেটের বিভিন্ন শোরুমে। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী জেসমিন বলেন, আমরা এখানে আসি এখানকার তৈরি কাজগুলো ভাল লাগে, পোশাকগুলো আরামদায়ক হয় আর একটু সাশ্রয়ী মনে হয়। যা রাজধানীর অন্য শোরুমে হয়তো দাম আরও বেশি হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ রোজার পর থেকে কিছুটা বেশি বিক্রি হচ্ছে। টাচের বিক্রয়কর্মী বন্যা জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের এখানে ওয়ান পিসগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর সঙ্গে মিলিয়ে কেউ চুড়িদার সেলোয়ার, প্ল্যাজো কিনেন। আমাদের বিক্রি কিছু বেড়েছে তবে বৈশাখের মতো হৈ হুল্লুর বিক্রি শুরু হয়নি। সামনের দিনে বেশি ক্রেতা বাড়বে আশা করি।

নির্বাচিত সংবাদ