১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা হবে

  • নতুন করে ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা হবে। এজন্য নতুন করে ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। শুরু হয়েছে অবস্থান সম্পর্কিত ফিল্ডবুক তৈরির কাজ। এ অবস্থায় ঘোষণা দেয়া হয়েছে, অধিগ্রহণের আওতায় থাকা জমিগুলো যে অবস্থায় রয়েছে সে অবস্থাতেই থাকবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? জমির মালিকরা অধিক লাভের আশায় ফসলি জমিতে মাটি ভরাট করে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। গড়ে ওঠছে পশুপাখির খামার, পুকুর ও বনায়ন। যতদূর চোখ যায় শুধু ঘর আর ঘর। সবই নতুন গড়ে ওঠা।

নীলফামারী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য সৈয়দপুর ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচ-ীতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর উপজেলা ৫৩৪ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, সরকারী জমি ৬০ একর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৯ একর, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬ একর, সৈয়দপুর সেনানিবাসের প্রায় ১৪ একর ও খাস জমি ১৩ একর। অপরদিকে পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের ৩১৭ একর ব্যক্তি মালিকাধীন জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। জমি কোথায় কি স্থাপনা রয়েছে, এর অবস্থান নির্ণয়ে ফিল্ডবুক তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিনুর আলমের তত্ত্বাবধানে চলছে সার্ভে কার্যক্রম। এরই মধ্যে আওতাভুক্ত জমি যে অবস্থায় আছে, তা নিয়ে সন্নিবেশিত এলাকায় এপ্রিল মাসে মাইকে প্রচার করা হয়েছে। যাতে এসব জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন, গাছপালা রোপণ করা না হয়।

অভিযোগ উঠেছে সরকারের এই ঘোষণার পরেও কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি অধিক ফায়দা লুটতে কারসাজি শুরু করেছে। সূত্র মতে সৈয়দপুরের বাড়াইশালপাড়া, পশ্চিমপাড়া, পার্বতীপুরের বেলাইচন্ডী এলাকায় গড়ে ওঠছে শতশত বাড়িঘর। বনায়নও হচ্ছে। কেউ কেউ পশুর খামার, দইয়ের কারখানা ইত্যাদি তৈরি করছেন। অবকাঠামোগুলো গত ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিগ্রহণ করা জমিতে পাকা বা টিনসেট ঘরবাড়ি অন্যান্য স্থাপনা থাকলে ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন দ্বিগুণ অর্থ। পুকুর এবং গাছপালার জন্য আলাদভাবে পাবেন টাকা। এ সুযোগটাই নিতে চাচ্ছেন প্রভাবশালী ও নেতাকর্মীরা।

রবিবার এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) শাহিনুর আলম জানান, আমরা মাইকে প্রচার করেছি। আওতাভুক্ত জমি যে অবস্থায় রয়েছে সেভাবেই থাকবে। যার ওপর আমরা আর্থিক মূল্যায়ন করব। কোনক্রমে নতুন তৈরি বাড়িঘর স্থাপনা তালিকাভুক্ত হবে না। তিনি বলেন, ফিল্ডবুক তৈরির সময় আমরা পর্যবেক্ষণ করছি কেউ নতুন ঘরবাড়ি বানাচ্ছেন কিনা। নতুন বাড়িঘরগুলোতে আমরা চিহ্ন একে দিচ্ছি। সবমিলিয়ে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কারণ নতুন গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি স্থাপনা, পুকুর গাছপালা কোনক্রমে অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।