২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাড়তি দামে বাসের টিকেট বিক্রি চলছেই

  • ঈদে ঘরে ফেরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে আজ সোমবার থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করছে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি)। ঢাকার অন্তত সাত পয়েন্ট থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা। এদিকে বাড়তি ভাড়া রাখা, এসি টিকেট না পাওয়াসহ নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিনের মতো বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শেষ হয়েছে। ঘোষণা ছাড়াই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের মধ্যে লঞ্চের কেবিনের টিকেট বিক্রি শুরু করেছে বিভিন্ন কোম্পানি। ২২ মে থেকে ঢাকার পাঁচ পয়েন্ট থেকে বিক্রি হবে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট। লঞ্চের টিকেট বিক্রি নিয়ে মতবিরোধ ॥ ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে কবে থেকে লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে সেই ঘোষণা আসেনি এখনও। কিন্তু এর আগেই অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। অগ্রিম টিকেট বিক্রি নিয়ে শনিবার মালিকদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ সহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেট দেয়া শুরু হয়ে গেছে। আমাদের (লঞ্চ মালিক) একটি মিটিং হওয়ার কথা ছিল, হয়নি। কারণ, সব মালিক ব্যস্ত রয়েছেন। আমরা যারা পারছি টিকেট দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, গত শনিবার থেকে অগ্রিম টিকেট দেয়া শুরু করেছি। যে পর্যন্ত টিকেট থাকবে, বিক্রিও চলবে।

ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) আলমগীর কবির বলেন, আমরা ২০ মে থেকে লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির সুপারিশ করব। তিনি বলেন, চাহিদা থাকা সাপেক্ষে ৩০ মে সদরঘাট থেকে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। বর্তমানে ২১৫টি লঞ্চ আছে। সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩ রুটে লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিদিন ৮০ লঞ্চ সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়, আবার বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ৮০ লঞ্চ সদরঘাটে আসে। বাকি ৫৫ লঞ্চ দিয়ে আমরা স্পেশাল সার্ভিস পরিচালনা করব। স্পেশাল সার্ভিসে কয়টি লঞ্চ আমরা ব্যবহার করব তা যাত্রীদের চাপের ওপর নির্ভর করছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদের সময় সদরঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিসির পাঁচটি জাহাজ চলাচল করবে। আমাদের অগ্রিম টিকেট বলে সেরকম কিছু নেই। যে কোন সময় যে কেউ এলে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি মূলত বেসরকারী খাতই নিয়ন্ত্রণ করে।

আজ থেকে বিআরটিসির বাসের টিকেট ॥ সরকারী পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) আপজ সোমবার থেকে ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করবে। সারাদেশে চলবে এক হাজার ১০০ বাস। ২৭ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বিআরটিসির ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ চলবে। ভারত থেকে আনা নতুন দেড়শ’ বাসসহ এক হাজার ৮৯ বাস ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে সারাদেশে চলাচল করবে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, আজ সকাল থেকে বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট ডিপোতে ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে এবং ১০ জুন পর্যন্ত ঈদ সার্ভিসের বাস চলাচল করবে। রাজধানীর মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (ফুলবাড়িয়ার সিবিএস-২) থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে।

সড়কে কোন বাস বিকল হলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে সেখানে সরবরাহ করার জন্য ৫০টি বাস সংস্থায় রিজার্ভ থাকবে এমন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বিআরটিসি। বিআরটিসির মতিঝিল বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে ঢাকা থেকে নাগরপুর, দাউদকান্দি, বাজিতপুর, খুলনা, দিনাজপুর, নেত্রকোনা রুট। কল্যাণপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, শেরপুর, জামালপুর, নাগরপুর, গোবিন্দগঞ্জ, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর রুট। গাবতলী ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও রুট। জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, রংপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও বগুড়া রুট। মিরপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে রংপুর, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও নওগাঁ রুট। মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রংপুর রুট।

রবিবার তৃতীয় দিনের মতো অগ্রিম টিকেট বিক্রি করেছে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ চারটি বিভাগের টিকেট বিক্রি করে নামীদামী ৩০টির বেশি পরিবহন কোম্পানি। সকাল থেকে এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, গ্রীনলাইন, এনা, ডিপজলসহ বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে এবার। ছোট বড় বাস কোম্পানিগুলো কমপক্ষে বাসপ্রতি ১০টি আসন অনলাইনে দিয়েছে। এবার বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রির শুরু থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করে আসছেন যাত্রীরা। বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকারও করেছেন বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তারা বলছেন, যেহেতু ঈদ যাত্রায় আসার পথে কোন যাত্রী পাওয়া যায় না তাই যাওয়ার সময় কিছুটা ভাড়া বাড়তি নেয়া হচ্ছে। অন্যথায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কষ্টকর।

১২ কোম্পানিকে জরিমানা ॥ ঈদ উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রির শুরু থেকেই যাত্রীরা বেশি দাম নেয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বিরুদ্ধে। রবিবার টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিনের শুরু থেকেই এ অভিযোগ পাওয়া যায়। কোন কোন পরিবহন কোম্পানি অভিযোগ স্বীকার করেও এর পক্ষে নানা যুক্তি দেখান। আবার কোন কোন কোম্পানি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অনলাইনে বাসের টিকেট পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাই অনলাইনে না কিনে অনেকে সরাসরি কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ান।

এদিকে কাউন্টারে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং বেশি দামে টিকেট বিক্রি করায় হানিফ, শ্যামলী ও এনাসহ ১২ পরিবহন কোম্পানিকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। রবিবার রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম এলাকা এবং সায়েদাবাদে পৃথক এ অভিযান চালানো হয়।

মিরপুরে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- নাবিল পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, এনা পরিবহন ও হানিফ এন্টারপ্রাইজ। প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে সায়েদাবাদে কে কে ট্রাভেলস, স্টার লাইন স্পেশাল, ড্রিমলাইন পরিবহন, এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, আল বারাকা পরিবহনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে টিকেট বিক্রির অপরাধে হিমাচল এক্সপ্রেসকে ২০ হাজার ও হিমালয় এক্সপ্রেসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।