২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার ঈদযাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে ॥ কাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস অসুস্থতা কাটিয়ে দেশে ফেরার পর মন্ত্রণালয়ে যোগ দিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যোগ দেয়ার প্রথম দিনেই পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরুর কথা বলেছেন, যাকে তিনি আখ্যায়িত করছেন দায়িত্ব পালনের ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ হিসেবে।

রবিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর প্রথম সচিবালয়ের নিজ দফতরে এসেই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক সভা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সেখানেই বলেন, প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। ইনশাল্লাহ আমি এবার দ্বিতীয় ইনিংস খেলব।

ঈদ আসন্ন। তাই ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিয়ে চিন্তিত মন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ে এসেই খোঁজ-খবর নেন দেশের সড়ক মহাসড়কগুলোর। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এবারের ঈদযাত্রা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিকতর স্বস্তিদায়ক হবে। আশাকরি সড়কে তেমন কোন দুর্ভোগ হবে না। নিরাপদ ঈদ যাত্রায় সরকারের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

‘দ্বিতীয় ইনিংস’র ব্যাখ্যায় কাদের বলেন, মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ শেষ করা, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দ্বিতীয় ইনিংসে এগুলো হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করব ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারব।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় সচিবালয়ে আসার পর ওবায়দুল কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করে বলেন, আমি অনুপস্থিত থাকলেও এরা খুব ভালভাবে কাজ করেছে। টিম ওয়ার্ক চেয়েছিলাম, তা আমি পেয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশংসা করেছেন।

এরপর এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে কথা বলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এবারকার প্রস্তুতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল। আমাদের সবচেয়ে বড় সঙ্কটের জায়গা দুটি রুট। একটা হচ্ছে ঢাকা-গাজীপুর-টাঙ্গাইল উত্তরাঞ্চলের। এখানে সঙ্কটটা হয়, এখানে যানজট হয়। মানুষের দুর্ভোগ হয়। ঘরমুখী যাত্রীরা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে বাড়ি যান।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামেও সমস্যা হয় মূলত তিনটি ব্রিজের কারণে। আমার অনুপস্থিতিতে কাঁচপুর ব্রিজের শুভ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আগামী ২৫ মে মেঘনা-গোমতী সেতু উদ্বোধন হবে। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রামে ঈদের সময় যে দুর্ভোগ ভোগান্তি এইগুলো কমে যাবে। সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রায় থাকবে- এটা আমরা বলতে পারি। আমাদের গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল অংশে.. এখানেও ভোগান্তি কম হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ রকমের চেষ্টা করব এই রুটে দুর্ভোগ কমিয়ে আনার। স্বাস্থ্যগত কারণে নিজে প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় থাকতে না পারলেও কাজের অগ্রগতি থেমে থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।

হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) আক্রান্ত ওবায়দুল কাদের গত ৩ মার্চ সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এনজিওগ্রামে কাদেরের হৃৎপি-ের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা।

এরপর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে গত ৪ মার্চ এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শেষে দুই মাস ১১ দিন পর গত বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন সেতুমন্ত্রী। দেশের ফেরার পর তিনি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সরাসরি গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এরপর ধানমন্ডি নিজ বাসায় বিশ্রামের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

কাদের বলেন, দুই মাস ১৬ দিন আগে সর্বশেষ আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি। এরপর অসুস্থ হয়ে অনেক দূরে ছিলাম। হয়ত পৃথিবী থেকেই অনুপস্থিত ছিলাম। সবার দোয়ায় আমি সুস্থ হয়েছি। নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শারীরিকভাবে এখন সুস্থ হলেও শরীর অনেক দুর্বল। দুই মাস পরপর চেকআপে যেতে হবে। আগামী ১৬ জুলাই সিঙ্গাপুরে যেতে হবে। একটু সতর্কভাবে চলতে বলেছেন চিকিৎকরা। ভারি কাজ বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বারণ করেছেন। এক-দেড় মাস পর আবার পুরোদমে আগের মতই সব কাজ করতে পারব।

মন্ত্রী জানান, আগামী ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নবনির্মিত ২য় মেঘনা ও গোমতী সেতু এবং জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুটি সেতু, দুটি ফ্লাইওভার এবং চারটি আন্ডারপাস যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন। এতে এ দুটি মহাসড়ক দিয়ে যাত্রীদের ঘরে ফেরা নির্বিঘ্ন হবে বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় ঋণ কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে বিআরটিসি’র জন্য পাঁচশত ট্রাকের মধ্যে চার শ’ আশিটি এবং ছয় শ’ বাসের মধ্যে এক শ’ ঊনআশিটি ঢাকায় পৌঁছেছে। এবারে বিআরটিসি’র ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে থাকছে প্রায় এগারো শ’ বাস। এছাড়া জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় পঞ্চাশটি বাস স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে বলে মন্ত্রী জানান।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বিআরটিএ’র চেয়াম্যান মোঃ মশিয়ার রহমান, বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।