২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুলছড়ির মরিচের হাটের বেহাল অবস্থা

ফুলছড়ির মরিচের হাটের বেহাল অবস্থা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ গাইবান্ধার চারটি উপজেলার ১৬৫টি চরাঞ্চলের জমিতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মরিচ উৎপাদিত হয়। চরাঞ্চলে এই মরিচ কেনাবেচার একমাত্র হাট হচ্ছে ফুলছড়ির যমুনা নদী সংলগ্ন মরিচের হাট। প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এই হাটে মরিচ বেচাকেনা চলে। চরাঞ্চল থেকে কৃষকরা নৌকা ভর্তি মরিচ নিয়ে এসে এখানেই বেচাকেনা করে থাকেন।

উল্লেখ্য, ফুলছড়ির এই মরিচের হাটটি শুধু মরিচ বেচাকেনার জন্য একমাত্র হাট। কিন্তু এই হাটটির এখন বেহাল অবস্থা। প্রতি হাটে ৩শ’ থেকে ৪শ’ মরিচ চাষি প্রায় ৮শ থেকে ১ হাজার মণ মরিচ বিক্রি করে থাকে। কিন্তু হাট বসে খোলা একটি চত্বরে। যেখানে কোন অবকাঠামো নেই। ফলে আকাশের নিচে বৃষ্টি বাদলে ভিজে এবং প্রখর রোদে পুড়ে মরিচ চাষিদের এবং ক্রেতাদের মরিচ বেচাকেনা করতে হয়। অথচ এই হাট ইজারা দিয়ে সরকার রাজস্ব বাবদ প্রতিবছর ৮৪ লাখ টাকা আয় হয়। সাবেক জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ফুলছড়ির মরিচের হাটে অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ ১৭ লাখ বরাদ্দের ঘোষণা দিলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত পুরাতন উপজেলা হেডকোয়ার্টার্স মাঠে ২০০৪ সাল থেকে এই মরিচের হাট বসে। প্রাণ, এসিআই কোম্পানির প্রতিনিধি এবং ঢাকা, বগুড়া, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এখান থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যান।

হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা উড়িয়া ইউনিয়নের চর কাবিলপুরের আক্কু মিয়া, বুলবুলি চরের হোসেন আলী বলেন, যেহেতু সকাল ৭টা থেকেই হাট শুরু হয়, সেইজন্য হাটবারের আগের রাতে চর থেকে নৌকায় করে মরিচ নিয়ে আসতে হয়। হাটে তো থাকার কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে নৌকাতেই রাত কাটাতে হয়। হাটে কোনো ঘর বা ছাউনি নেই। ঝড়-বৃষ্টি এলে মরিচের বস্তাগুলো রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। বৃষ্টিতেই সেগুলো ভিজে যায়। এছাড়া আমাদের মরিচ বিক্রির জন্য খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়।

এ ব্যাপারে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম টলস্টয় বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল মৌখিকভাবে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। সেটা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন নতুন উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে হাটে শেড নির্মাণ করা হবে।