২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ধীর গতিতে চলার কারণে রোদে ধুলো আর বৃষ্টিতে কাদা হওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এতে যানজটে প্রতিদিনই নাকাল হতে হচ্ছে ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ী উপজেলাসহ ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলাগামীদের। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেই।

টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ি পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন কাজের ঘাটাইল উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় থেকে বীর ঘাটাইল পর্যন্ত অংশের এক কিঃমিঃ সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে ঢালাইয়ের মাধ্যমে। এ কাজের ধীর গতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে এক কিঃমিঃ রাস্তা পার হতে যানবাহনের সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। ফলে দীর্ঘ যানজটের ঘানি টানতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। ভোগান্তি হচ্ছে জনসাধারনের।

পাশাপাশি রোদে ধুলার কারণে চরম দুভোগে পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাসহ সড়কের আশেপাশের ব্যবসায়ীদের। অপরদিকে সামান্য বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়ে সকল প্রকার যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়কের এক পাশ যান চলাচলের উপযোগী না করেই অপরিকল্পিতভাবে অপর অংশের কাজ শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।

এই মহাসড়কের পাশেই উপজেলা প্রশাসন, ঘাটাইল সেনানিবাস, পৌর প্রশাসন, একটি সরকারি কলেজ, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বালিকা বিদ্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ১৫টি কিন্ডারগার্টেন, ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এছাড়া ২০টি রোডের যানবাহন ঘাটাইল হয়ে চলাচল করে। তাই প্রতিদিন ঘাটাইলে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী রোগী, প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তি ও এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত ব্যাক্তিদের এই ভোগান্তি প্রতিদিনের। এই ভোগান্তি শুধু পৌর এলাকার নয়, এ ভোগান্তি উপজেলার হামিদপুর থেকে দেউলাবাড়ি পর্যন্ত ১৫ কিঃমিঃ মহাসড়কের আশে পাশের ব্যবসায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, পথচারী, হাটবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ জনগনের।

ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মোমেন বলেন, মহাসড়ক ঘেষে আমাদের বিদ্যালয়টি ধুলোবালি, কাদা ও যানজট মারিয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। কাজটি দ্রুত করার দাবী জানান তিনি। মহাসড়কের পাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, যানজট, ধুলোবালি ও কাদার কারণে এখন ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষন সেন্টারের পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিন মাসে দুইশত গজ কাজও শেষ হয়নি এ কাজ কবে শেষ হবে আর কবে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব তা আল্লাহই জানে।

গত এপ্রিল মাসে উপজেলা আইনশৃঙ্গলা কমিটির সভায় সড়কের উন্নয়ন কাজের ধীর গতি এবং ধুলো কাদা ও যানজট নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তারা দ্রুত গতিতে কাজের সমাপ্তি এবং জনসাধারনের ভোগান্তি দুরীকরণে দ্রুত পদক্ষেপের দাবী জানান। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জনভোগান্তি দুরীকরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ঘাাটাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের কাজের ধীর গতির কারণে সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় রয়েছে ধুলো কাদার কারণে তারা ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছে না। সড়কের একপাশ চলাচলের উপযোগী না করে সড়কের কাজ শুরু করায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি কাজটি দ্রুত শেষ করে জনগনের ভোগান্তি দুর করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান কাজের ধীর গতির কথা স্বীকার করে বলেন, কাজের গতি বাড়াতে মহাসড়কের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কন্সট্রাকশনকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ওয়াহিদ কন্সট্রাকশনের স্থানীয় পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি।

জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল একনেকের ২১তম সভায় অনুমোদিত হয় টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৯ দশমিক ৮২ কোটি টাকা। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৭৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কটি চারলেনে পরিণত করবে।