২০ মে ২০১৯

পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না : মেনন

পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না : মেনন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, একদিকে পূঁজিবাজারে সাধারণ মানুষ সর্বশান্ত, অন্যদিকে ধান হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না। এর পেছনে দুর্নীতি আছে বলে মনে করেন তিনি।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দুর্নীতি, ঋণ মখেলাপি ও ব্যাংকিংখাতে নৈরাজ্য বন্ধে বাজেটে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

সাবেক মন্ত্রী মেনন বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করায় পুঁজিবাজার। অথচ এই পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। এরশাদ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে ধস শুরু হয়, সেটি ১৯৯৬ ও ২০১০ সালেও হয়েছে। এখনও পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যাদের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, এমন ব্যক্তিদেরও পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমার কাছে এরকম দশটি তালিকা রয়েছে যেগুলোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ এরা আইপিও এবং ফান্ড বৃদ্ধির নামে কোটি কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নিয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে আর্থিকখাতের অবদান সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু যদি সর্ষের মধ্যে ভূত থাকে তাহলে এই খাত উন্নয়ন বা অবদান রাখবে কিভাবে। কৃষকেরা ধানের দাম পাচ্ছেন না, এখানেও দুর্নীতি হচ্ছে মন্তব্য করে মেনন জানতে চান, কৃষকদের কাছ থেকে এক লাখ টন ধান নেয়া হবে, বাকিটা মিল মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হবে, এটি কেন?

তিনি বলেন, ছিয়ানব্বই সালে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ধান কেনা হয়েছিল বলে বলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছিল। এবারও কুষ্টিয়ার একজন ডিসি ধান কিনেছেন এজন্য কৃষকরাও দাম পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ভারতের এক-তৃতীয়াংশ ধান সরকার কিনে নেয়। আর আমাদের সরকার বলে আমরা এতো গোডাউন পাবো কোথায়? সরকার এতো বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করছে তাহলে কেন প্রতিটি ইউনিয়নে সাইলো করতে পারবে না। আর্থিক খাতের দুর্নীতি বন্ধ হয়ে গেলে জিডিপির দুই দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন মেনন।

দুদক নিয়ে তিনি বলেন, দুদক কি অবস্থায় আছে আমরা তা জানি। এখন সরকারী কর্মচারীরা দুর্নীতি করলেও অনুমতি ছাড়া তাদের ধরা যাবে না। অথচ প্রাইমারি শিক্ষকদের ধরতে অনুমতি লাগে না দুদকের। এই হচ্ছে দুদকের চেহারা। দুর্নীতি সমাজদেহে ভরে গেছে। তাই এ অবস্থা মথেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ঋণ খেলাপির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি পার্লামেন্টে ঋণ খেলাপির বিষয়ে আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম, সেটি আলোচনায় আসেনি। ঋণ খেলাপিদের জন্য যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে যাচ্ছে, তা আগে অবশ্যই পার্লামেন্টে আলোচনা করার দাবি জানান সাবেক এ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক স্বদেশ রায় ও মহানগর সদস্য বেনজীর আহমেদ।

কৃষকের ধানের ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা আবেগের বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে মেনন বলেছেন, কৃষকেরা ধানের দাম পাচ্ছেন না, এখানেও দুর্নীতি হচ্ছে। কেউ কখনও নিজের ঘরে আগুন লাগাতে চায় না। কিন্তু আজকে যখন ধান উদ্বৃত্ত হয়ে গেছে, তাতে কৃষকরা ধানের দাম পাচ্ছেন না। কারণ, আমনের যে চাল ছিল বোরোতে এসে দেখা গেছে, মিলের মালিকরা আগেরটাই বিক্রি করতে পারেন নি। প্রশ্ন হলো তার কেন পারেন নি। চালের দাম বাড়ছে, বেড়েই যায়। অথচ মিলের মালিকরা চাল বিক্রি করতে পারেন না, তার কারণ হলো যেখানে আমাদের উদ্বৃত্ত ৩০ লাখে চলে গেছি, সেখানে আমরা ৬০ লাখ টনের মতো আমদানি করি। এখনও ৪ লাখ টন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।

তিনি বলেন, চালের দাম যখন একেবারে কঠিন অবস্থায় চলে গিয়েছিল, তখন বহু চিৎকার করে আমরা আমদানির ব্যাপারে বলেছি, শুল্ক আরোপ করেন। কেবিনেটে এই নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেদিন এই দৃঢ় ভূমিকাটি নিয়ে শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শুল্ক উড়ে গেলো! হাওড়ে বন্যার কথা বলে বলা হলো ‘আমাদের ১০ লাখ টন ঘাটতি হবে।’ এই বলে শুল্ক আবারও তুলে নেয়া হলো। আমরা তো ধারণা করলাম না যে, আমাদের কত টন খাদ্য আসছে। তাহলে আমরা কেন চাল আমদানি করতে দিলাম?’