২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেসরকারী কাউন্টারে ভীড় ফাঁকা বিআরটিসি কাউন্টার

বেসরকারী কাউন্টারে ভীড় ফাঁকা বিআরটিসি কাউন্টার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি)। সকাল আটটা থেকে নগরীর সাতটি স্থান থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের টিকেট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু বিকাল পর্যন্ত ১০ ভাগ টিকেটও বিক্রি হয়নি।

অর্থাৎ সরকারী সেবার প্রতি সাধারণ যাত্রীদের আস্থা না থাকায় কাউন্টার গুলোতে টিকেট প্রত্যাশীদের ভীড় চোখে পড়েনি। অথচ বেসরবাসী বাস কোম্পানীগুলোর টিকেট বিক্রির চতুর্থ দিনেও রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী সহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ ভীড় লক্ষ করা গেছে। দুই থেকে চার জুনের বাসের টিকেট সংগ্রহ করতে এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে যাত্রীদের ঘুরতে দেখা যায়। অনেকেই টিকেট না পেয়ে শুণ্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন। অথচ এসব গন্তব্য বিআরটিসি সার্ভিস চললেও সেখানের কাউন্টার ছিল ফাঁকা।

এদিকে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য লঞ্চের অগ্রিম কেবিনের টিকেট বিক্রির কথা থাকলেও কোন কোম্পানী বিক্রি করছেন, কেউ করছেন না। অর্থাত লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রি নিয়ে রীতিমতো ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও যাত্রীদের সুবিধার্থে বিষয়টি পরিস্কার করা হচ্ছে না।

আগামীকাল বুধবার থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন সহ পাঁচ স্থান থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন প্রায় ৯৭ হাজার টিকেট বিক্রি হবে। একজন যাত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে যাত্রী নিরাপত্তা ও টিকেট কালোবাজারী রোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবারই প্রথমবারের মতো পাঁচ স্থান থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রণালয়।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসি বাস ডিপোতে ঈদযাত্রার টিকেট নিতে একজন যাত্রীকেও দেখা যায়নি। এর আগে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ২০ মে থেকে ঈদুল ফিতরের বিআরটিসি ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে টিকেট বিক্রি শুরু হবে। বিআরটিসির মতিঝিল বাস ডিপোর টিকিট বিক্রেতা ওমর ফারুক মাহফুজ জানান, সোমবার বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের প্রথম দিন। তাই যাত্রীদের ভিড় নেই। তবে আশা করছি কয়েকদিন পর থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে যাত্রীদের চাপ বাড়বে।

মতিঝিল ডিপোর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাফর আহমেদ বলেন, যাত্রীরা প্রথমে বেসরকারী পরিবহনের টিকেট সংগ্রহের চেষ্টা করে। সেখানে ন পেলে আমাদের কাছে আসে। আগামী দুই-তিন দিন পর থেকেই আশা করছি, বিআরটিসি বাস ডিপোতে যাত্রীর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, মতিঝিল ডিপো থেকে নিয়মিত বাসের পাশাপাশি ঈদ যাত্রায় ১৩০টি বাস যুক্ত হবে। আর সাতটি বাস রিজার্ভ হিসেবে থাকবে। ইতোমধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।

জানা গেছে ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে বিআরটিসির চলবে এক হাজার ১০০ বাস। ২৭ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বিআরটিসি’র ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ চলবে। ভারত থেকে আনা নতুন দেড়শ বাসসহ এক হাজার ৮৯টি বাস ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে সারাদেশে চলাচল করবে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত ঈদ সার্ভিসের বাস চলাচল করবে। রাজধানীর মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর বাস, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (ফুলবাড়িয়াস্থ সিবিএস-২) থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে।

বিআরটিসি’র মতিঝিল বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে ঢাকা থেকে নাগরপুর, দাউদকান্দি, বাজিতপুর, খুলনা, দিনাজপুর, নেত্রকোনা রুট। কল্যাণপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, শেরপুর, জামালপুর, নাগরপুর, গোবিন্দগঞ্জ, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর রুট। গাবতলী ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও রুট। জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, রংপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও বগুড়া রুট। মিরপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে রংপুর, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও নওগাঁ রুট। মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রংপুর রুট।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে বিশ্বরোড-পাঁচদোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও রুট। যাত্রাবাড়ী বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ঢাকা থেকে গৌরিপুর, টঙ্গী-মাওয়া, চট্টগ্রাম, সিলেট রুট। নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-মেঘনা উপজেলা, বিশ্বরোড-পাঁচদোনা রুট। অন্যদিকে, কুমিল্লা বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-বরুড়া রুট। নরসিংদী বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ঢাকা-নরসিংদী ও ঢাকা-ভৈরব রুট। সিলেট বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে থাকছে সিলেট-তারাকান্দা রুট।

বিআরটিসির পক্ষ থেকে টিকেটসহ যে কোনো প্রয়োজনে যাত্রীদের মতিঝিল বাস ডিপো (০১৭১২২৮১১২১), কল্যাণপুর বাস ডিপো (০১৭১১৫৭৮৭৪৪), গাবতলী বাস ডিপো (০১৮১৮৪৮৫৩৮৮), জোয়ারসাহারা বাস ডিপো (০১৬১৯৪৫৭২৪৫), মিরপুর বাস ডিপো (০১৭৪০০৯৮৮৮৮), মোহাম্মদপুর বাস ডিপো (০১৭১২২২৪০৩৮), গাজীপুর বাস ডিপো (০১৮১৭৭৮২৮৬৬), যাত্রাবাড়ী বাস ডিপো (০১৭১১৩৯১৫১৪), নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (০১৭১৬৬৮৪১৪৪), কুমিল্লা বাস ডিপো (০১৭৫৮৮৮০০১১) এবং নরসিংদী বাস ডিপো (০১৫৫৩৩৪৯৫৬৭) নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লঞ্চের টিকেট বিক্রি নিয়ে লোকচুরি ॥ বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল ১০ট থেকে কাউন্টারে টিকেট বিক্রি শুরুর কথা। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ১০ থেকে ১১টার ঘরে প্রবেশ করলেও কোনো কাউন্টার খোলতে দেখা যায়নি। এমনকি টিকেট নিতেও কোনো যাত্রী আসেনি। গত দুই দিনে সদরঘাটের চিত্র এটি। পরে বিভিন্ন লঞ্চে দেখা যায়, সেখানে কাউন্টার সাজিয়ে বসেছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেখানেও টিকিট শুধু আগাম পরিচিতদের জন্যই বরাদ্দ চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

কাউন্টারে অগ্রিম টিকেট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবন-১২ লঞ্চের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী প্রশ্ন রাখেন, আপনিই বলেন, লঞ্চের টিকেট কখনও কাউন্টারে বসে বিক্রি করা সম্ভব? একটা লঞ্চে কয়টা কেবিন থাকে? ডেকের টিকেট তো আর আগে বিক্রির সুযোগ নেই। এরপরেও যা টিকেট আমরা অগ্রিম বিক্রি করার কথা বলছি, তা বরিশালে আমাদের কার্যালয়ে বিক্রি হচ্ছে। তাই এখানে বিক্রি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, এভাবে আসলে চলছে না, আমরা আজই টিকেট বিক্রির তারিখ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তাই আমরা আজকেই নোটিশ দেবো। যারা টিকেট বিক্রি করবেন না, তাদের কাউন্টারের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) আলমগীর কবির বলেন, আমরা ২০ মে থেকে লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির সুপারিশ করব। তিনি বলেন, চাহিদা থাকা সাপেক্ষে ৩০ মে সদরঘাট থেকে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। বর্তমানে ২১৫টি লঞ্চ আছে। সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিদিন ৮০টি লঞ্চ সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়, আবার বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ৮০টি লঞ্চ সদরঘাটে আসে। বাকি ৫৫টি লঞ্চ দিয়ে আমরা স্পেশাল সার্ভিস পরিচালনা করব। স্পেশাল সার্ভিসে কয়টি লঞ্চ আমরা ব্যবহার করব তা যাত্রীদের চাপের ওপর নির্ভর করছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদের সময় সদরঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিসির পাঁচটি জাহাজ চলাচল করবে। আমাদের অগ্রিম টিকেট বলে সেরকম কিছু নেই। যে কোনো সময় যে কেউ এলে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি মূলত বেসরকারি খাতই নিয়ন্ত্রণ করে।

আগামীকাল থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট ॥ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামীকাল ২২ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত পাঁচদিন ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। ঈদ পরবর্তী ট্রেনের ফিরতি টিকেট বিক্রি শুরু হবে ২৯ মে, চলবে দুই জুন পর্যন্ত। ৯৫টি আন্তঃনগর ট্রেনের প্রতিদিন বিক্রি হবে প্রায় ৭০ হাজার টিকেট। অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন ক্রেতারা। বাকি ৫০ভাগ দেয়া হবে কমলাপুর রেল স্টেশন সহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানের পাঁচ কাউন্টার থেকে। এবারের ঈদ যাত্রায় আট জোড়া স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হচ্ছে। একজন ব্যক্তি জাতীয় পচিয়পত্র দেখিয়ে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া গাজীপুর রেল স্টেশন থেকেও অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদের প্রায় পাঁচদিন আগে ৩১ মে থেকে রেলওয়েতে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। ফলে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে। রেলমন্ত্রী বলেন, এবার প্রথমবারের মতো কমলাপুর রেল স্টেশন ছাড়াও চারটি স্থানে টিকেট বিক্রি করা হবে। কমলাপুর থেকে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকেট, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট, তেজগাঁও স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী ট্রেনের টিকেট, বনানী থেকে নেত্রকোণাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেসের টিকেট ও ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন) থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট বিক্রি করা হবে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ভিআইপি ও রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী কোটায় ১০ ভাগ টিকেট বরাদ্দ থাকবে। রেল মন্ত্রী আরও বলেন, ২২ মে ৩১ মে’র, ২৩ মে ১ জুনের, ২৪ মে ২ জুনের, ২৫ মে ৩ জুনের ও ২৬ মে ৪ জুনের টিকেট বিক্রি করা হবে। আর অগ্রিম ফিরতি টিকেটের ক্ষেত্রে ২৯ মে ৭ জুনের, ৩০ মে ৮ জুনের, ৩১ মে ৯ জুনের, ১ জুন ১০ জুনের এবং ২ জুন ১১ জুনের টিকেট বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করা হবে।

এই মাত্রা পাওয়া