২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদের আমেজ নেই মিরপুর বেনারসি পল্লীতে

 ঈদের আমেজ নেই মিরপুর বেনারসি পল্লীতে

রহিম শেখ ॥ মেট্রোরেলের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই ঈদ কেনাকাটায় কাক্সিক্ষত ক্রেতা নেই মিরপুর বেনারসি পল্লীতে। ঈদ উপলক্ষে নানান রং ও নক্সার শাড়ি উঠানো হয়েছে প্রতিটি শোরুমে। ক্রেতা আকর্ষণে বিপণি বিতানগুলোতে বাহারি সাজসজ্জা থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই পল্লীতে। যা আছে তা অন্য বছরের তুলনায় একেবারেই সামান্য। এর মধ্যে দুয়েক দোকানে স্বল্প পরিসরে ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ঘুরে পছন্দের পণ্য। দরদামে মিললে, কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন অনেকে। ব্যবসায়ীরা জানালেন, ভারত ও পাকিস্তানের জর্জেট, নেট ও ক্যাটালগ শাড়িতে সয়লাব ঈদের বাজার। তুলনামূলক দামে সস্তা এবং নিম্নমানের এসব শাড়ির কাছে মার খাচ্ছে দেশী বেনারসি, কাতান আর জামদানি।

সোমবার আগারগাঁও পার হয়ে মিরপুরের দিকে যেতেই পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। দীর্ঘদিন ধরে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। মিরপুর সেকশন ১২ পর্যন্ত দেখা গেল এই কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির দৃশ্য। ঈদ সামনে রেখে জমজমাট অন্যান্য ঈদ বাজারের বিপণি বিতানের ঠিক উল্টো চিত্র মিরপুর বেনারসি পল্লীতে। ঈদ কেনাকাটায় কাক্সিক্ষত ক্রেতার দেখা নেই এখানে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে বেহাল রাস্তা আর তীব্র গরমে এমন অবস্থা। তারা জানালেন, আগে দূর থেকেও ক্রেতারা বেনারসি পল্লীতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে বেহাল সড়কের ঝামেলা এড়াতে এদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতারা। রাস্তার ঝুঁকি নিয়ে ক্রেতারা বেনারসি পল্লীতে আসতে চাইছেন না। মিরপুর ১১ নম্বরে হানিফ সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হানিফ জনকণ্ঠকে বলেন, আগে যেমন দূরের ক্রেতারা এখানে ছুটে আসতেন। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এখন আর দূরের ক্রেতারা খুব একটা আসছেন না। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, বড় বড় রাস্তা দখল করে ফুটপাথে চেনা পথ এখন অনেকটাই অচেনা। ছোট-বড় অনেক গলি দখল হয়ে গেছে।

কয়েক বিক্রেতারা জানান, শেষ দিকে ব্যবসা জমবে এমন আশায় তারা ক্রেতাদের সাধ ও সাধ্যের দিক বিবেচনায় রেখে এবার নিয়ে এসেছেন ঐতিহ্যবাহী দেশী বাহারি শাড়ি। এসব শাড়িতে কারিগরদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠেছে দেশের ঐতিহ্য। এর মধ্যে রয়েছে- কাতান, গাদোয়াল, ইক্কত, তসর, মটকা, মেঘদূতসহ হরেক রকমের শাড়ি। মূল্যভেদে এগুলোর দাম ৮শ’ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তাদের মতে, এ বছর ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে কাতানের পাশাপাশি গাদোয়াল, ইক্কত, তসর, মটকা, মেঘদূত শাড়ি।

তবে একাধিক বিক্রেতা হতাশা প্রকাশ করে জানান, বিক্রি নেই বললেই চলে। তারা বলছেন, সময়ের পরিবর্তনে ঈদ সামনে রেখে নারীদের শাড়ি কেনার আগ্রহ আগের চেয়ে কমেছে। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা ঈদ শপিংয়ে ভারতে গেছেন। ফলে ঈদ উৎসবে প্রত্যাশিত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক দোকানি বলেন, তারা ঈদ বাজারের আশাই ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণের চেয়ে তাদের এখন বেশি চিন্তা কর্মচারীদের বেতন নিয়ে। বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ সময়ে এ রকম অবস্থা আর কখনও হয়নি। বেনারসি পল্লীর প্রখ্যাত শোরুম মনেরেখ, শাহিনা ফ্যাশন, তানহা, আলহামদ, লীলাবালি, সিল্ক সম্ভার, মিরপুর বেনারসি কুটির, বেনারসি মিউজিয়াম, বিয়ের বাজার, পাবনা এম্পোরিয়াম, ব্রাইডাল, মাহমুদা শাড়ি, টপটেন, গোল্ডেন বেনারসিÑ কোথাও নেই প্রত্যাশিত ক্রেতা।

মিরপুর বেনারসি কুটিরের বিক্রয়কর্মী জানান, বিচ্ছিন্ন দু-একজন ক্রেতা আসছেন, বিক্রিও হচ্ছে কিছু শাড়ি। তবে ঈদবাজার বলতে যা বোঝায়, তা বেনারসি পল্লীতে এখনও নেই। গোল্ডেন বেনারসির বিক্রয়কর্মী জানান, ঈদের আমেজ বেনারসি পল্লীতে নেই। কিছু পাইকার ঈদের আগে শাড়ি কিনে নিলেও বর্তমানে বিক্রি খুব কম। গুলশান থেকে শাড়ি কিনতে আসা সামিয়া জানান, প্রতিবছরই তিনি বিভিন্ন উৎসবে এখান থেকে শাড়ি কেনেন। বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আগে জানলে এখানে আসতাম না। রাস্তার এমন হালÑ অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, বেনারসি পল্লীতে ২৫/৩০ ধরনের বিভিন্ন নাম ও ডিজাইনের শাড়ি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে থ্রি-পিস, প্রিন্টের শাড়ি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, লেহেঙ্গা, সিল্ক আর সুতি শাড়ি, শেরওয়ানি, পাঞ্জাবি, পায়জামা, লুঙ্গি, গামছা, ছোটদের ড্রেসসহ রকমারি পোশাকের সমাহার। তাই প্রতিবছর ঈদ উৎসবের কেনাকাটায় একশ্রেণীর ক্রেতার আগ্রহের শীর্ষে থাকে মিরপুর বেনারসি পল্লী। রোজার শুরু থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে পল্লী। কিন্তু এবারই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মধ্য রমজানেও ব্যস্ততার বদলে অলস আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক ব্যবসায়ী জানালেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরও ভারতীয় শাড়ির কদর বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা দেশী বেনারসি শাড়ির জন্য মিরপুরের এ পল্লীতে এলেও হরেক ডিজাইন ও মনকাড়া রঙের কারণে শেষমেশ ভারতীয় শাড়িই কিনে নিচ্ছেন।