২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ দল নির্দিষ্ট কারও ওপর নির্ভরশীল নয় ॥ রোডস

  • পঞ্চপাঞ্জব ছাড়াও শক্তিশালী টাইগাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে ছিল নানা শঙ্কা। তীব্র শীত এবং ঠিকই একইরকম পরিবেশে গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে দলের চরম ভরাডুবি, কয়েকজন ক্রিকেটারের ইনজুরি সংক্রান্ত ফিটনেস সমস্যা, ইনজুরি কাটিয়ে সবেমাত্র সেরে ওঠা কয়েকজন ও প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের কাছে পরাজয়ে বাংলাদেশ দলের ভাল করা নিয়ে স্বভাবতই শঙ্কার ডঙ্কা বেজে উঠেছিল। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে এমন বাজে হারেই যেন জ্বলে ওঠে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল, আহত বাঘের মতো অদম্য হয়ে উঠেছিল। তাই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দল। ফাইনালে খেলেননি অন্যতম অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও আবু জায়েদ রাহীর মতো অনিয়মিতদের পারফর্মেন্স এবং তরুণী উদীয়মান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের নৈপুণ্যে এমন অবিস্মরণীয় সাফল্য এসেছে। তাই কোচ স্টিভ রোডসের দাবি এখন নির্দিষ্ট কারও ওপর নির্ভরশীল নেই দল। এমনকি পঞ্চপা-ব- মাশরাফি, সাকিব, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা পারফর্ম না করলেও দল সাফল্য আনতে পারে। সেই বিশ্বাসটা এখন দৃঢ় হয়েছে রোডসের। তাই তিনি দাবি করেছেন, পঞ্চপা-ব ছাড়াও শক্তিশালী দল বাংলাদেশ।

গত কয়েক বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিধর দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। আর এর পেছনে যদি রূপকার হিসেবে মূল অবদান রাখাদের তালিকা করা হয়, সেখানে থাকবেন পাঁচ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদরা দীর্ঘদিন দলকে বিভিন্ন সাফল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে রেখেছেন অবদান। তাই এ ৫ ক্রিকেটারের ওপর অনেক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ দল। তবে গত বছর এশিয়া কাপ এবং সম্প্রতিই আয়ারল্যান্ডে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ প্রমাণ করেছে এই পঞ্চপা-ব ছাড়াই অনেক কিছু পাওয়া সম্ভব। গত বছর সেপ্টেম্বরে আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল ফাইনাল খেলেছে সাকিব ও তামিমের মতো দুই অপরিহার্য ক্রিকেটারকে ছাড়াই। এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে প্রথমবার জিতেছে টাইগাররা সাকিবের অনুপস্থিতিতে। তামিম, মাশরাফি, সাকিবরা বিদায় নিলে তাদের জায়গায় ভাল পারফর্ম করার মতো রসদ প্রস্তুত হয়ে গেছে। ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের মধ্যে লড়াই চলছে জায়গা করে নিতে। দু’জনই ফর্মে আছেন। মিডলঅর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুন ক্রমেই নিজেকে প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। সাকিবের পরিবর্তে সুযোগ পেয়ে ফাইনালে কাজে লাগিয়েছেন মোসাদ্দেকও। নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন এ তরুণ। তাছাড়া অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ এখন নিয়মিত সদস্য। পেস বোলিংয়ে ইতোমধ্যেই মুস্তাফিজুর রহমান ভরসা হয়ে গেছেন। এছাড়া আবু জায়েদ রাহী, তাসকিন আহমেদরা আছেন নিয়মিত হওয়ার অপেক্ষায়। তারাও বিভিন্ন সময়ে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।

এসব কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ স্কোয়াড নিয়ে দারুণ আশাবাদী কোচ রোডস। দলে থাকা তরুণ ক্রিকেটাররা দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, রিয়াদ ও মুশফিকদের ছায়া থেকে বের হয়ে আসছে বাংলাদেশ দল, এটাই এখন বিশ্বাস রোডসের। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল তার প্রমাণ। মূল জয়ের নায়ক ছিলেন সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ ও মোসাদ্দেক ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের দুটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলে। তরুণদের এই পারফর্মেন্স নতুন আলো দেখাচ্ছে রোডসকে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মোসাদ্দেককে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেন, সে কিন্তু প্রত্যেককে নতজানু হতে এখন বাধ্য করতে যাচ্ছে। স্কোয়াডের গভীরতা এখন এটাই যে সে হয় তো এরপরেও নাও খেলতে পারে। তাই যদি হয় তাহলেও আমরা ভাল অবস্থানে থাকতে পারব (অন্যদের পারফর্মেন্সে), কেননা আরও ভাল খেলোয়াড় দলে রয়েছে।’ মারকুটে বাঁহাতি ওপেনার সৌম্যকে নিয়ে নানা শঙ্কা ছিল। দীর্ঘদিন ফর্মে ছিলেন না বলে অনেক সমালোচনা সইতে হয়েছে। দল থেকেও যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা ৩ ম্যাচেই ফিফটি হাঁকিয়ে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। তাকে বিশ্রাম দিয়ে এক ম্যাচে লিটন দাসকে নামানোর পর তিনিও ৬৭ বলে ৭৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন। ফাইনালের আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে রাহী ৫ উইকেট শিকার করেছেন। কিন্তু এমন নৈপুণ্যের পরও ফাইনালে সুযোগ হয়নি লিটন কিংবা রাহীর। এতেই বোঝা যায় দলের শক্তিমত্তা যেমন বেড়েছে, তেমনি পঞ্চপা-বের ওপরও নির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ দল। রোডস বলেন, ‘এর মানে এটাই যে বাংলাদেশের দলের স্কোয়াড দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে এবং স্কোয়াডের এই গভীরতাটাই আমরা চাইছি। সেটি যদি আমরা অর্জন করতে পারি তাহলে মানুষ পঞ্চপা-বকে নিয়ে কথা বলা থামিয়ে দেবে। এর মানে এদের কেউ না থাকলেও আমরা শক্তিশালী দল।’ ফাইনালে ২৪ ওভারে ২১০ রানের অবিশ্বাস্য লক্ষ্যটাও অনায়াসে পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে মুশফিকের কিছুটা অবদান থাকলেও মাশরাফি, তামিম, রিয়াদের উল্লেখ করার মতো কোন পারফর্মেন্স ছিল না। আর সাকিব তো খেলেননি। নিশ্চিতভাবেই এই জয়টা বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে দলকে। এ বিষয়ে রোডস বলেন, ‘এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসের যোগান দিচ্ছে যে আমরা বড় ম্যাচও জিততে সক্ষম। আমরা সেদিন দারুণভাবে রান তাড়া করেছি। এটি ছিল অনেক কঠিন এবং আমাদের দলে দুই থেকে তিনজন ছেলে ছিল যারা স্পেশাল ইনিংস খেলেছে।’