২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গলাচিপায় ধরা পড়া অজগর অবমুক্ত, হরিণের করুণ মৃত্যু

গলাচিপায় ধরা পড়া অজগর অবমুক্ত, হরিণের করুণ মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্থানীয় জনতার হাতে একটি অজগর সাপ ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি চিত্রা হরিণ ধরা পড়েছে। বন বিভাগের মাধ্যমে সাপটিকে বনে অবমুক্ত করা গেলেও হরিণটিকে বাঁচানো যায়নি। অবমুক্ত করার কিছুক্ষণ আগে হরিণটি মারা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের লামনা গ্রামের বড়বাজার সংলগ্ন জিসিআর সড়কে মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে কৃষক লীগ নেতা মোজাম্মেল হক প্রথমে অজগর সাপটিকে দেখতে পান। এ সময় সাপটি লম্বালম্বি ভাবে শুয়েছিল। তার ডাক চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে সাপটিকে প্রথমে মাছ ধরার জাল দিয়ে এবং পরে প্লাস্টিকের ড্রামে আটকে ফেলেন। বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাফর খান জানান, রাতেই তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

সাপটি প্রায় ১০ ফুট লম্বা। ওজন প্রায় ২০ কেজি। সড়কের পাশে ঘন জঙ্গলে সাপটির অবস্থান ছিল বলে ধারণা করেন তিনি। বুধবার দুপুরে পুলিশ বনবিভাগের গলাচিপা দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ বিভাগীয় অন্যান্য কর্মকর্তার হাতে সাপটি তুলে দেয়। পরে বনকর্মীরা পক্ষিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চরকারফারমার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সাপটিকে অবমুক্ত করে। বন কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, এটি বিরল প্রজাতির অজগর। এ অঞ্চলে এর আগে কখনই অজগর সাপ দেখা যায়নি। এটি কোত্থেকে এসেছে, বা আসতে পারে, সে সম্পর্কে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে সাপটি প্রচন্ড গরমে জঙ্গল ছেড়ে সড়কে উঠে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এদিন দুপুরে জুটি বেঁধে দুটি চিত্রা হরিণ রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দ্বারভাঙ্গা গ্রামের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। উৎসাহী মানুষের ধাওয়া খেয়ে একটি পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ঢুকে পড়ে এবং অপরটি ধরা পড়ে। স্থানীয়রা হরিণটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে বনবিভাগের লোকজন তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌছে হরিণটিকে উদ্ধার করে। পরে সোনারচর অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার জন্য ট্রলারে নেয়ার পথে হরিণটি মারা যায়। বন বিভাগের সোনারচর ক্যাম্পের বিট অফিসার প্রণব কুমার মিত্র জানান, সোনারচর অভয়ারণ্যে প্রচুর হরিণ রয়েছে। জোয়ারের পানিতে হরিণ দু’টি ভেসে গিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লোকজনের ধাওয়ায় অসুস্থ হয়ে হরিণটি মারা গিয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করেন তিনি।