২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রেলের টিকেট বিক্রির প্রথম দিনেই নানা বিড়ম্বনা আর অভিযোগ

 রেলের টিকেট বিক্রির প্রথম দিনেই নানা  বিড়ম্বনা আর অভিযোগ
  • পাঁচ স্টেশনের মধ্যে কমলাপুরে যাত্রী বেশি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ্যাপ ব্যবহার করে টিকেট কাটতে না পারা, এসি বার্থ ও চেয়ারের টিকেট না পাওয়া, সার্ভার নষ্ট থাকা, প্রয়োজনীয় প্রচার না হওয়ায় একই স্টেশনে সব গন্তব্যের যাত্রীদের ভিড় করাসহ নানা অভিযোগ ছিল প্রথম দিনের শুরু থেকেই। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবারই প্রথম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ বাইরে চারটি জায়গা থেকে টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ই-টিকেটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে অনুযায়ী বুধবার সকাল নয়টা থেকে কাউন্টারগুলোতে ৩১ মের টিকেট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু সকাল থেকেই রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা এ্যাপ ব্যবহার করে টিকেট কাটতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। ই-টিকেট সংগ্রহ করতে না পেরে সকালে অনেকেই ছুটছেন স্টেশনের দিকে। কমলাপুর স্টেশনে কাউন্টারে আগের দিন বিকেল থেকে অপেক্ষমাণ টিকেট প্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগ দেন তারা। এদিকে পরিকল্পিতভাবে এ্যাপ বন্ধ করে সিন্ডিকেট চক্রের টিকেট হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেয়ে কমলাপুরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। অভিযানের সময় এ্যাপ বন্ধের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। এ নিয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনও ক্ষোভ জানিয়েছেন।

বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে টিকেট বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শনের পর ই-টিকেটিংয়ের অব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা স্বীকার করে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, সেবাদাতা সংস্থা সিএনএসবিডিকে পাঁচ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ই-টিকেটিং সেবা ঠিক না হলে অবিক্রিত টিকিটগুলো ২৭ মে কাউন্টারে দেয়া হবে। তিনি বলেন, সিএনএসবিডির শুধু ব্যর্থতা নয়, এ ব্যর্থতা আমাদেরও। তিনি বলেন, সিএনএসবিডি কাক্সিক্ষত যাত্রী সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে যে চুক্তি হওয়ার কথা তা আর হবে না।

মন্ত্রী বলেন, এই ব্যর্থতার দায় আমরা কোনভাবেই এড়াতে পারি না। এ্যাপের কারণে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি ছিল। এরকম হওয়ার কোন কথাই ছিল না। কিন্তু সিএনএস কর্তৃপক্ষ এখন কোন সদুত্তর দিতে পারছে না। ভবিষ্যতে যেন এরকম বিড়ম্বনায় যাত্রীদের পড়তে না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে ঈদ প্রস্তুতি উপলক্ষে রেলওয়ের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন।

অনলাইনে টিকেট কিনতে না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ফেসবুক পেজেও অনেকে এ বিষয়ে উষ্মা জানিয়েছেন। মাহবুব কবির মিলন নামে একজন বলেন, সকাল নয়টা থেকে রেলওয়ের এ্যাপ খালি ঘুরছে আর ঘুরছে। টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সিএনএসবিডির অনলাইন অব্যবস্থাপনা এজন্য দায়ী। ফাইয়াজ হোসেন নামে একজন বলেন, ‘এই ... দেশে আর কি আশা করা যায়? কোন বছর ঈদেই আমরা অনলাইনে টিকেট পাই না। সিএনএস নামক বিশ্বচোর, রেলওয়ে নামক বিশ্ববাটপারের কারসাজিতে। মাননীয় রেলসচিব, মাননীয় রেলমন্ত্রী! আপনারা সৎ ও কর্মনিষ্ঠ বলেই আমরা মন থেকে বিশ্বাস করি। তাহলে কেন আপনারা এই দুর্ভোগ থেকে আমাদের মুক্তি দিচ্ছেন না?’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএনএসবিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনির উজ-জামান চৌধুরী বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারকারী টিকেট নিতে চেষ্টা করছে। ফলে সার্ভারের ওপর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যেটা সার্ভার নিতে পারছে না। এ কারণে অনেকেই ইন্টারনেট থেকে ও এ্যাপের মাধ্যমে টিকেট নিতে পারেননি। তবে টিকেট বিক্রি বন্ধ নেই।

তার দাবি, বুধবার কাউন্টারের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার ২৩৫টি টিকেটের মধ্যে বেলা ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ১০ হাজার ৫৪০টি টিকেট বিক্রি হয়েছে, যা বরাদ্দকৃত টিকেটের ৫২ শতাংশ। আর ই-টিকেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ ১১ হাজার ১৪৫টির মধ্যে একই সময় পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৮০টি টিকেট বিক্রি হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৫৭ শতাংশ। ঢাকা থেকে ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটা বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকেট বিক্রি হবে।

সকাল থেকে কমলাপুরে রেলস্টেশনের ১৮ কাউন্টার থেকে একযোগে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হয় লাইন। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি টিকেট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এ বছর মোট টিকেটের ভাগ কাউন্টারে আর ভাগ এ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি হবে। এর মধ্যে ১০ ভাগ রাখা হয়েছে ভিআইপি ও রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী কোটায়। কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, সকাল ৯টা থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট দেয়া শুরু করেছে। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার দেয়া হবে ১ জুনের, শুক্রবার দেয়া হবে ২ জুনের, শনিবার দেয়া হবে ৩ জুনের এবং ২৬ মে ৪ জুনের টিকেট দেয়া হবে। অন্যদিকে ফেরত যাত্রীদের জন্য ২৯ মে দেয়া হবে ৭ জুনের টিকেট, একইভাবে ৩০ ও ৩১ মে এবং ১ ও ২ জুন দেয়া হবে যথাক্রমে ৮, ৯, ১০ ও ১১ জুনের টিকেট।