২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে আটটি

  তিন বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে আটটি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তিন বছরে দেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১১৪। বুধবার সুন্দরবনে বাঘ জরিপের ফল প্রকাশ এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জরিপে সুন্দরবনে ১১৪ বাঘের সন্ধান পাওয়া গেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬। জরিপের এ ফল প্রকাশ করেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বন ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন, প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জানানো হয়, ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা, শরণখোলা রেঞ্জের তিনটি ব্লকের ১৬৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিশেষ একধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ২৪৯ দিনব্যাপী পরিচালিত এ জরিপ কার্যক্রমে ৬৩টি পূর্ণ বয়স্ক বাঘ, ৪টি জুভেনাইল বাঘ এবং ৫টি অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাঘের মোট ২৪৬৪টি ছবি পাওয়া যায়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র ৪৪৬৪ কিলোমিটার এলাকাকে আপেক্ষিক ঘনত্ব দিয়ে গুণ করে বাঘের সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে।

ইউএসএইডের অর্থায়নে বেঙ্গল টাইগার কনজারভেশন এ্যাক্টিভিটি (বাঘ) প্রকল্পের আওতায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এসইসিআর মডেলে তথ্য বিশ্লেষণ করে সুন্দরবনের প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘের আপেক্ষিক ঘনত্ব পাওয়া গেছে ২.৫৫ + ০.৩২। সুন্দরবনের বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র চার হাজার ৪৬৪ কিলোমিটার এলাকাকে আপেক্ষিক ঘনত্ব দিয়ে গুণ করে বাঘের সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে ১১৪টি।

জরিপে দেখা গেছে, বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের ঘনত্ব পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩.৩৩টি। খুলনা রেঞ্জে সবচেয়ে কম-প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১.২১টি বাঘ রয়েছে।

জরিপে বন বিভাগকে সহযোগিতা করেছে ওয়াইল্ড টিম, যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ সোনিয়ান কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।