১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রীন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের গ্রীন সিটি প্রকল্পের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য মাত্রাতিরিক্ত দামে আসবাবপত্র কেনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় হচ্ছে। আসবাবপত্র ভবনে তুলতেও যে মূল্য নির্ধারণ করা হয় তাও হতবাক হওয়ার মতো। এমন অনিয়মে গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় পড়েছে বিব্রতকর অবস্থায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ৭ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ারও আদেশ দেয়া হয়।

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের গ্রীন সিটি প্রকল্পে বহুতল ভবন নির্মাণের যে বৃহৎ ও মহৎ কর্মযোগ সেখানে শুরুতেই আসবাবপত্র ক্রয় ও নিচ থেকে ওপরে ওঠানো নিয়ে যে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে নিতে গিয়ে কোন শুভ কর্মযোগের সূচনা পর্বেই যদি এমন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়, তাহলে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মহৎ উদ্দেশ্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভাবা দরকার। জনকল্যাণ ও দেশহিতকর এমন সব উন্নয়ন অভিযাত্রায় যদি অনিয়ম আর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে তবে তা দুঃখজনক বৈকি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পের এমন সাগর চুরিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুদক এবং টিআইবির মতো গবেষণা সংস্থাও বিষয়টির দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিবন্ধ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে এমন অপকর্মের সুরাহা ঠিক কিভাবে সম্পন্ন ও সমাধান হয়, সেটাই দেখা বিষয়। ইতোমধ্যেই পাবনার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেয়া হয় সেটাও দেখার বিষয় বৈকি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পটি সরকারের সবচাইতে বৃহৎ এবং মহৎ কর্মসূচী। উন্নয়নের সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়া বড় প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী অঙ্গীকারে এবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ উপহার দেয়ার। সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে গ্রহণ করেছে শূন্য সহিষ্ণুতা। প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প, প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব দায়বদ্ধতায় নীতি নৈতিকতাকে লালন করতে না পারে তাহলে একা সরকার প্রধানের পক্ষে সবকিছু সামলানো কঠিন হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুদদককে এক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।