২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনলাইনে প্রতারণা ॥ চক্রের সাতজন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পণ্যের ছবি নকল করে প্রতারণার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, সুজন মোল্লা (২৬), হাসিবুল হাসান ওরফে চঞ্চল (৩২), জারদিস হোসেন (২০), মেহেদী হাসান (২৩), নূর ইসলাম (১৯), পারভেজ মোল্লা (১৯) ও আবু তাহের (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, একটি ইন্টারনেট রাউটার, ২৩টি মোবাইল সেট, মানি রিসিপ্ট, ২৫০ পিস পাঞ্জাবি ও ১০ পিস পায়জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, প্রতারকদের ব্যবহৃত ১৭টি ফেসবুক পেজ জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, ইউনিক ফ্যাশন, রোজ ফ্যাশন বিডি, লাইফস্টাইল.কম, গ্রিনএক্সপ্রেস.কম, জেন্টেল ফ্যাশন, জেন্টেল পয়েন্ট, ফ্যাশন পয়েন্ট, প্লাস পয়েন্ট, মোবাইল শপ২৪, গয়না মহল, আরিফুল ইসলাম আরিয়ান, নিলয় মাহমুদ সুজন, এমডি তানভীর আবু তাহের, এ্যাডভান্স ইলেক্ট্রনি, ড্রিম ফ্যাশন ও জিয়ান রাইহান।

অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, চক্রটি বিভিন্নভাবে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তারা বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের অনলাইনে দেয়া পণ্য সামগ্রীর ছবি ডাউনলোড করে নিজেদের পণ্য হিসেবে চালিয়ে তাদের ১৭টি ফেসবুক পেজে আপ করত। কিন্তু সেসব পণ্যের নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দাম দেখে কেউ আকৃষ্ট হয়ে যোগাযোগ করলে চক্রটি প্রথমে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করত। এরপর হোম ডেলিভারির মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য পাঠিয়ে দিত। ক্রেতারা কোন পণ্য অর্ডার করলে, কখনও কখনও মূল্য পরিশোধ করতে বলা হতো। কিন্তু নির্ধারিত মূল্যবান পণ্যের পরিবর্তে সাবান, ভিমবার, আলু, পেঁয়াজ, পটোল প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিত। কখনও কোন পণ্য না পাঠিয়েই কিছু অর্থ আদায় করে পণ্য পাঠিয়েছে বলে দাবি করত। গ্রাহক পণ্য পায়নি দাবি করলে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে খোঁজ নিতে বলত। পণ্য না পৌঁছানোর জন্য সেসব কুরিয়ার সার্ভিসকে দায়ী করত প্রতারক চক্রের সদস্যরা। র‌্যাব-৪ এর কর্মকর্তা জানান, বুধবার বিকেল থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, চক্রটি দীর্ঘ ২০১৩ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা না নিলেও বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের কাছ থেকে অল্প অল্প করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।