২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রেলওয়ের গলার কাঁটা হলো অনলাইন টিকেট!

রেলওয়ের গলার কাঁটা হলো অনলাইন টিকেট!
  • # কমলাপুরে প্রতি ১৫ মিনিটে একজন টিকেট পান;###;# দেশের দীর্ঘ ট্রেন সার্ভিসের যাত্রা আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ৫০ ভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে বদনামের ভাগিদার হতে হলো রেল মন্ত্রণালয়কে। শুক্রবার তৃতীয় দিনেও সাধারণ ক্রেতারা রেলওয়ের অ্যাপ থেকে টিকেট কাটতে পারেননি। এ নিয়ে হইচই হয়েছে বেশ। যাত্রীদের সুবিধা দিতে গিয়ে পুরো কাজই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় রেলওয়ের কাছে গলার কাঁটা সামিল হয়েছে অ্যাপ সেবা। তাছাড়া রেলওয়ের নতুন করা এই অ্যাপটি পর্যাপ্ত গ্রাহকের লোড নেয়ার সক্ষমতা তৈরী না করে; কেন টিকেট কাটার জন্য উন্মুক্ত করা হলো তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। তেমনি অনলাইনের টিকেট কোথায় যাচ্ছে সে প্রশ্নেরও সুদুত্তর মিলছে না কারো কাছ থেকে।

জনদুর্ভোগ কমাতে এবারই প্রথম রাজধানীর পাঁচটি পয়েন্ট থেকে অগ্রিম রেলেওয়ের অগ্রিম টিকেট দেয়া হচ্ছে। পাঁচ স্থানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় কমলাপুরে। এখানে দুই জুনের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করতে ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় আগে লোকজনকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে কেউ পেয়েছেন কাঙ্খিত টিকেট। আবার কেউ টিকেট না পেয়ে ফিরেছেন শুণ্য হাতে। রেলকর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদা বেশি থাকায় সবার ইচ্ছেমত টিকেট যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই হয়ত কেউ কেউ কাঙ্খিত টিকেট না পেতে পারেন। আবার হাকে হাসতে দেখা গেছে তিনি টিকেট পেয়ে এভাবেই প্রশান্তির অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

অনলাইনে টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ যেমন অহরহ তেমনি কাউন্টারে ধীরগতির কারণেও দুর্ভোগের শেষ নেই রাতজাগা মানুষের। টিকেট প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, প্রতি ১৫ মিনিটে মিলছে একটি টিকেট। এরমধ্যে বেশিরভাগ যাত্রী সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকা চারটি টিকেটই সংগ্রহ করছেন। তাই সময় আরো বেশি লাগছে। কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত টিকেট দেয়ার জন্য আগে থেকেই স্লিপ সরবরাহ করা হয়। এতে যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, আসনের শ্রেণী, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও এরসঙ্গে যুক্ত করে দিতে হচ্ছে। সকল তথ্য যুক্ত করে টিকেট বিক্রি করায় সময় লাগছে বলে দাবি তাদের। কিন্তু ঈদের টিকেটেও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর কেন এ নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের মধ্যে।

শুক্রবার সকাল ৯টায় কমলাপুরে রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে হাজারো মানুষের ভীড়। এরমধ্যে প্রতিটি লাইনের প্রথম ১০০ বেশি মানুষ যাদের প্রত্যেকেই এসেছেন অন্তত ২৪ ঘন্টা কিংবা তারও বেশি সময় আগে। রাতজাগা মানুষের কষ্টের তীব্র বা বিরক্তি আরো বাড়ে টিকেট বিক্রির ধীরগতির কারণে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে পুরুষদের সংখ্যাই ছিল বেশি। তিনটি নারী ও প্রতিবন্ধিদের কাউন্টারের একটি খোলা হয়নি তিন দিনেও। তবে বাকি দুটি কাউন্টারের সামনেও দেখা গেছে প্রচন্ড ভীড়। এদিন ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটি বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকেট বিক্রি হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কমলাপুর স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াতকারী ১৬টি ট্রেনের ১৪ হাজার ৯৫টি টিকেট বিক্রি হয় এখান থেকে। এরমধ্যে কাউন্টার থেকে পাঁচ হাজার ৯৪৪টি এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপসে আট হাজার ১৫১টি টিকেট। কিন্তু অনুমান করা যাচ্ছিল, টিকেট প্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ১৫ হাজারের বেশি। যাদের বেশিরভাগের চাহিদা চারটি টিকেট। যেখানে অনলাইনে টিকেটই সংগ্রহ করা যাচ্ছে না সেখানে তৃতীয় দিনে এসে কমলাপুর স্টেশনে বেশি টিকেট কেন অ্যাপে দেয়া হলো এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে টিকেট আতœসাতের চেষ্টা চলছে। অ্যাপের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের চোখের সামনে হলেও কারো কিছু করার নেই।

জানা গেছে, তৃতীয় দিনে বিমান বন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ৭টি আন্তঃনগর ট্রেনের চার হাজার ৮৭৯টি টিকেট বিক্রি হয়। এরমধ্যে দুই হাজার ৫৪৮টি অনলাইনে এবং দুই হাজার ৩৩১টি টিকেট কাউন্টার থেকে বিক্রি হয়। তেজগাঁও স্টেশন থেকে জামালপুরগামী পাঁচটি ট্রেনের তিন হাজার ৪৪৪টি টিকেট বিক্রি হয়। এরমধ্যে ৬৪৪টি অনলাইনে এবং ৬১৪টি কাউন্টারে বিক্রি হয়। বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি ট্রেনের এক হাজার ২৫৮টি টিকেট বরাদ্দ। এরমধ্যে ৬৪৪টি টিকেট অনলাইনে বাকি ৬১৪টি টিকেট কাউন্টারে বিক্রি হয়।

ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের সাতটি আন্তনগর ট্রেনের চার হাজার ৫৪৮টি টিকেট বরাদ্দ। এরমধ্যে দুই হাজার ২৫১টি টিকেট অনলাইনে এবং দুই হাজার ২৯৭টি টিকেট কাউন্টারের। প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের মতো তৃতীয় দিনেও অনলাইনে এবং অ্যাপ থেকে টিকেট কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন টিকেট প্রত্যাশীরা।

কমলাপুরে টিকেট কাটতে আসা ঝোটন পন্ডিত জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তখন তার সিরিয়াল নম্বর ছিল ৭০। সকাল ১১টা পর্যন্ত তিনি টিকেট পাননি। আর ১১টার সময় তার পেছনে আরো কয়েকশ মানুষ। একই অভিযোগ সিজারের। তিনি জানান, অ্যাপে গত দু’দিন চেষ্টা করে টিকেট কাটতে পারিনি। পেজটিই দেখার সুভাগ্য হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদে কেন্দ্র করে অ্যাপে হিট হবে অনেক বেশি। এসব বিষয় মাথায় রেখেই অ্যাপে টিকেট বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে তা হলো টিকেট বিক্রির নামে তামাশা।

সোহেল মিয়া জানান, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবার পাঁচ জায়গা থেকে টিকেট বিক্রি হচ্ছে। উদ্যোগ ভাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কি মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, এবার দুর্ভোগ ও টেনশন বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ হিসেবে বলেন, অ্যাপে খোলে না। অনলাইনে টিকেটের কোন ব্যবস্থা নেই। মানুষ হতাশ হয়ে হয়রাণির শিকার হয়ে কাউন্টারে ্টেেসও টিকেট পাননি। কেউ কেউ পেলেও আশামত পায়নি। তাহলে কি দাঁড়ালো? মুগদার বাসিন্দা সুনন্দা জানালেন, রাতভর অ্যাপে টিকেট কাটতে চেষ্টা করেছি। ভোরে আসলাম লাইনে। ১০টার দিকে কাউন্টারে গিয়ে এসি টিকেট চাইলাম, বলা হলো নেই। তাই শোভন নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, অনলাইনের সমস্যা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।

অনলাইনে সমস্যা কেটে যাবে। আমাদের বিশেষজ্ঞ দল সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। এখন লোকজন টিকেট পাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী কমলাপুরে নারীদের আরেকটি কাউন্টার খুলে দেয়া হবে বলে জানান আমিনুল।

এদিকে বিমান বন্দর রেল স্টেশনেও অনলাইন ও অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট নিশ্চিত করতে না পেরে যাত্রীরা ভিড় করেন।

টিকেট প্রত্যাশী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনার হোসেন বলেন, অ্যাপসে টিকেট দেয়া হবে বলে সেখানে বার বার ট্রাই করেছি, এতে আমার সময় নষ্ট হয়েছে। বাধ্য হয়ে সেই লম্বা লাইনেই দাঁড়াতে হয়েছে। তারপরও টিকেট পাব কি না জানি না।

চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকেটের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিলাসকে মোবাইল থেকে অনলাইনে টিকেটের জন্য চেষ্টা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, "ভাই, রেলের ওয়েবসাইটে গিয়ে বার বার চেষ্টা করছি, আইডি নাম্বার দিয়ে সিকিউরিটি কোড দেয়ার পর 'কমফার্ম ফর রিসাবমিশন' লেখা এসে থেমে যাচ্ছে। গতরাত থেকে এভাবেই চেষ্টা করছি, কিন্তু টিকেট কনফার্ম করতে না পেরে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, অনলাইনে ঢুকে টিকেট কেটেছেন। টাকাও কেটেছে ঠিকঠাক। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরেও কনফার্মেশন আসেনি। তাই উদ্বিগ্ন চোখ মুখ নিয়ে পার্থ এসেছেন বিমানবন্দন স্টেশনে। কারো থেকে প্রতিকার বা সদুত্তর পাননি। শেষ পর্যন্ত ঠিকানা ‘লাইন’।

বিমান বন্দর স্টেশনের চারটি কাউন্টার থেকে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, তুর্না, চট্টলা ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের এবং নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসের টিকেট দেয়া হয়। এসব কাউন্টারের মধ্যে নারীদের জন্য একটি আলাদা কাউন্টার রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে নেত্রকোনোগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ও হাওড় এক্সপ্রেসের আগাম টিকেট দেয়া হচ্ছে। এখানে কাউন্টার আছে দুটি। তবে ভীড় নেই। অগ্রিম টিকেট কাটা যাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কম দেখা গেছে। কিছু টিকেট এখনও অবিক্রিত থাকারও কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সকাল থেকেই এ স্টেশনের দুইটি কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি করা হয়। বেলা ১১টার মধ্যে লাইনে থাকা সবাই টিকেট পেয়েছে বলে জানিয়েছেন এই স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, “এখান থেকে আমরা কাউন্টারের ৬১৯টি টিকেট বিক্রি করছি। সকাল ৯টা থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত যাত্রীরা লাইনে থেকে টিকেট নিয়েছে। আর কিছু টিকেট আছে, যে আগে আসবেন, আগে পাবেন।

আজ বিক্রি হবে তিন জুনের ট্রেনের অগ্রিম টিকেট। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে আট জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে। ঢাকা দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে। কলকাতা-খুলনার বন্ধন ট্রেন স্পেশাল হিসেবে চলবে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে।

এছাড়া ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে একটি, লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে একটি, শোলাকিয়া স্পেশাল-১ ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ঈদের দিন, শোলাকিয়া স্পেশাল-২ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ঈদের দিন স্পেশাল ট্রেন হিসেবে চলবে। তবে স্পেশাল ট্রেনের টিকেট অ্যাপসের মাধ্যমে কেনা যাবে না।

আচ ২৫ মে ৩ জুনের ও ২৬ মে ৪ জুনের টিকেট বিক্রি করা হবে। আর অগ্রিম ফিরতি টিকেটের ক্ষেত্রে ২৯ মে ৭ জুনের, ৩০ মে ৮ জুনের, ৩১ মে ৯ জুনের, ১ জুন ১০ জুনের এবং ২ জুন ১১ জুনের টিকেট বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করা হবে।

দেশের দীর্ঘ ট্রেন সার্ভিসের যাত্রা আজ ॥ আজ ২৫ মে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নামে নতুন ট্রেন চালু করা হবে। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিরতিহীন এই ট্রেনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন। বনলতার মতো পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে খাবার বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে শোভন ৫৫০ টাকা, এসি চেয়ার ১ হাজার ৩৫ টাকা, এসি কেবিন ১ হাজার ২৬০ টাকা এবং এসি স্লিপিং বার্থ ১ হাজার ৮৯২ টাকা। ৫৯৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাংলাদেশের সর্ব দীর্ঘ ট্রেন সার্ভিস হতে যাচ্ছে। ১৮টি বগি নিয়ে ঢাকা থেকে সরাসরি পার্বতীপুর পর্যন্ত যাবে ট্রেনটি। এরপর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এ দুই জায়গায় থেমে পঞ্চগড়ে গিয়ে শেষ হবে ট্রেনটির যাত্রা।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের সময় ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস বন্ধ থাকবে। ওই ট্রেনটি দিয়ে চালানো হবে খুলনা ঈদ স্পেশাল একটি ট্রেন। ৩ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকা ছাড়বে। ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে ২ থেকে ৪ জুন চলবে ঈশ্বরদী ঈদ স্পেশাল ট্রেন। লালমনি ঈদ স্পেশাল নামে বিশেষ একটি ট্রেন ২ থেকে ৪ জুন চলবে লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে।

এ বছর রোজা শুরু হয়েছে গত ৭ মে থেকে। আর আগামী ১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে শবে কদর। ২০১৯ সালের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রোজা ২৯টি ধরে ৪-৬ জুন ঈদুল ফিতরের ছুটি নির্ধারিত আছে। রোজা ৩০টি হলে ঈদ হবে ৬ জুন, সেক্ষেত্রে ৭ জুনও ঈদের ছুটি থাকবে। ৫ জুন ঈদ হলে তিন দিনের ঈদের ছুটির সঙ্গে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৪ থেকে ৮ জুন টানা পাঁচদিন ছুটি পাওয়া যাবে। ৪ জুন ঈদের ছুটি শুরুর আগে ২ জুন থাকবে শব-ই কদরের ছুটি। এরপর ৩ জুন শুধু অফিস খোলা। প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী আদেশে ৩ জুন ছুটি ঘোষণা করলে টানা নয়দিনের ছুটি মিলবে সরকারী চাকুরেদের। তবে ছুটি শুরুর আগেই ঘরে ফেরা নিয়ে বাড়তি টেনশন আছে সবার মধ্যেই। অনেকে জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে ১৫ রোজার পরেই পরিবার পরিজন বাড়িতে পাঠানো শুরু হবে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া