১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চার লেনের দুই লেনই বেদখল

  • ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ঈদে ১৫ স্পটে যানজটের শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চারলেনের দুই লেনই এখন বেদখল হয়ে গেছে! মহাসড়কের বেদখল হওয়া লেনে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড ও যানবাহনের পার্কিং। ফলে ঈদে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন মোড়ে সৃষ্টি হতে পারে যানজটের। এ সময় যানজটের কবলে পড়ে ঘরে ফেরা মানুষকে অন্তত ১০/১৫টি স্পটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা যাত্রী ও চালকদের। একই সঙ্গে মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি হুইলারের অবাধ যাতায়াত তৈরি করছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট মহাসড়কের দুই লেনের ওপর গাড়ি পার্কিং, দোকানপাট ও স্ট্যান্ড গড়ে তোলার সুযোগ দিয়ে মাসোহারা আদায় করছে। এর ভাগ যাচ্ছে নানা মহলে। ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগ (সওজ) ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দাবি, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এবার স্বস্তি নিয়ে মানুষ ঘরে ফিরতে পারবে। যানজট ও দুর্ঘটনাসহ যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেনের মহাসড়ককে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় এনেছে ময়মনসিংহ পুলিশ। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, তাঁর কার্যালয় সংলগ্ন কন্ট্রোলরুম থেকে এবার সর্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেনের মহাসড়ক পরিস্থিতি। এছাড়া ঈদের আগে মহাসড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ অনুমোদনহীন যান চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড় থেকে মেডিক্যাল কলেজ গেট পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়কজুড়ে একপাশে গড়ে উঠেছে এ্যাম্বুলেন্স, মাহিন্দ্র, অটো রিক্সার অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড।

নগরীর ব্যস্ততম এই জায়গার আরেক পাশের সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভাসমান দোকানপাট। নগরীর মাসকান্দা বাইপাস সড়ক ব্যবহার না করে দূরপাল্লার বেশিরভাগ বাস সার্ভিস এই মোড় অতিক্রমের কারণে প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানও দিনের বেলায় এই মোড় হয়ে নগরীর ভেতরে ঢোকার কারণে যানজট হচ্ছে। ঈদে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে এই মোড়ে যানজট তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। চারলেন মহাসড়কের শিকারিকান্দা, চুরখাই বাইপাস মোড়, কাজির শিমলা, ত্রিশালের বৈলর, কানহর, ত্রিশাল উপজেলা সদর মোড়, বাগান, বগারবাজার, সাইনবোর্ড, ভালুকার ভরাডোবা, ভালুকা উপজেলা সদর, সিডস্টোর, হবিরবাড়ি, মাস্টার বাড়ি, জৈনা বাজার মোড়ে মোড়েও গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব স্পটের অনেক জায়গায় চারলেনের দুইপাশে দুই লেন দখল করে রাখা হয়েছে ভাড়ায় চালিত যানবাহনের সারি।

ত্রিশাল ও ভালুকার শিল্প কারখানার সামনে রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখা হয়েছে শ্রমিক কর্মচারীদের পরিবহন বাস। এছাড়া কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাক রাখা হয়েছে সড়কের ওপর। ত্রিশালের বৈলর থেকে কানহর ও উপজেলা সদর হয়ে সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে সড়কের ওপর রাখা হয়েছে শিল্প কারখানার পরিবহন বাস। ভালুকা উপজেলা সদরের ব্যস্ততম গফরগাঁও মোড়ের অন্তত ২০০ মিটার রাস্তা দখল করে পার্কিং করে রাখা হয়েছে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কার ও অটোরিক্সা। ভালুকার সিডস্টোর ও জৈনা বাজারের ব্যস্ততম রাস্তার ওপর গড়ে উঠেছে ছোটবড় যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের ওপর এভাবে মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠা অবৈধ স্ট্যান্ড ও রাস্তার ওপর যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিনই জট লেগে যাচ্ছে। ব্যস্ততম মোড়ে ও রাস্তার ওপর দূরপাল্লার বাসগুলোর যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে এই জট তীব্র হচ্ছে। একবার জট লেগে গেলে সহজে খুলছে না। এসময় দূরপাল্লার যাত্রীদের অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঈদের আগে চারলেনের মহাসড়কের ওপর থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড ও যানবাহনের পার্কিং উচ্ছেদসহ নিষিদ্ধ করা থ্রিহুইলারের চলাচল বন্ধ করা না গেলে যানজট পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা এই রুটের যাত্রী ও চালকদের। ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী এনা পরিবহন সার্ভিসের চালকদের দাবি, চারলেন মহাসড়কের কোথাও ভাঙ্গাচোরা কিংবা গর্ত নেই। পরিচ্ছন্ন চমৎকার মহাসড়ক। তবে মোড়ে মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড আর যানবাহনের পার্কিং উচ্ছেদসহ থ্রিহুইলার বন্ধ করা না গেলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সাখাওয়াত হোসেন জানান, এবার গন্তব্যে পৌঁছাতে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কারণ চারলেনের মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশের কোথাও কোন ভাঙ্গাচোরা গর্ত কিংবা যানজট নেই।

ফলে স্বস্তি নিয়েই ফিরতে পারছে ময়মনসিংহ অঞ্চলের যাত্রীরা। ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান জানান, ঈদের আগে ও পরে চারলেন মহাসড়কের ওপর থেকে সব ধরনের অবৈধ স্ট্যান্ড ও যানবাহন পার্কিং সরিয়ে নেয়াসহ থ্রিহুইলার চলাচল বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ কার্যকর করা গেলে যানচলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ফলে এই মহাড়কে যাত্রী ও চালকদের কোন ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না এবার।