১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে উন্নয়নের ছোঁয়া!

হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পাহাড় বেষ্টিত একটি অজপাড়াগাঁয়ের নাম ‘মনাই ত্রিপুরা পল্লী’।

ঠিক এক বছর আগে বিদ্যুত, স্কুল, রাস্তা, পানীয়জলসহ এখানে ছিল না কোন সুযোগ-সুবিধা। এমনকি, ছিল না কোন চিকিৎসা সেবা। এতদিন মনে হতো এ পল্লী প্রাগৈতিহাসিক যুগের একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল। বিভিন্ন সময়ে নানা রোগে অনেক প্রাণ অকালেই ঝড়ে যেত।

গেল বছর অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের তিনজনসহ মারা যায় চার শিশু। শিশু নিহতের ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারী বেসরকারী সংস্থাগুলোয় আলোচনার ঝড় ওঠে।

চির অবহেলিত এ ত্রিপুরা পল্লীতে বাস করে মাত্র ৫৫ পরিবারের ৩৭৫ সদস্য। পরবর্তীতে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর, স্থানীয় এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, জেলা ও হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনসহ বেসরকারী অনেক সংগঠন এ পল্লীবাসীর কল্যাণে মানবিক সাহায্য প্রদানে এগিয়ে আসে।

বর্তমানে সেই মনাই ত্রিপুরা পল্লী বদলে যাচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রধান সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটারের আইলকে উন্নীত করা হয়েছে ১৫ ফুট প্রস্থের কাঁচা সড়কে। তৈরি হয়েছে আটটি কালভার্ট ও আটটি সেমিপাকা শৌচাগার। তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি গভীর নলকূপ, মন্দিরভিত্তিক স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম, নির্মাণ করা হয়েছে টিনশেড ঘর, ব্যবস্থা করা হয়েছে সৌর বিদ্যুত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘মনাই ত্রিপুরা পল্লীর অবস্থান চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী ফরহাদাবাদ সড়ক থেকে পশ্চিমে প্রায় ১১ কিলোমিটার। এমন একটি অজপাড়াগাঁয়ে আধুনিক নাগরিক জীবন বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু, এখন সেটি বদলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আন্তরিক সহযোগিতায় অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।’

রুহুল আমিন আরও বলেন, ‘উন্নয়নের পূর্ব শর্ত উন্নত যোগাযোগ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকলে সেখানে কোন কাজ সহজে হয় না। তাই প্রথমেই তাদের যাতায়াতের আইলটি সড়কে উন্নীত করা হয়। তাছাড়া, শিক্ষাসহ অবকাঠামোগত নানা উন্নয়ন করা হয়।’ ত্রিপুরাপল্লীর বাসিন্দা শচীন ত্রিপুরা বলেন, ‘এতদিন আমরা নাগরিক জীবনের সুবিধার বাইরে ছিলাম।

এখন আমরা বিদ্যুত, সড়ক, নলকূপ, শিশুদের শিক্ষাসহ অনেক কিছু পেয়েছি।’ ত্রিপুরা পল্লীতে দেয়া হয় তিনটি সৌর বাতি এবং একটি মোবাইলে চার্জ দেয়ার পয়েন্ট। পুরো পল্লীতে মাত্র একটি চায়ের দোকান আছে, সেখানেও লাগানো হয়েছে সৌরবাতি। এখন ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা অনেক খুশি।

-ইউনুস মিয়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম থেকে

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া