২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাত জুন পদত্যাগ করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে

 সাত জুন পদত্যাগ করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে
  • ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থতা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হয়ে শেষপর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। আগামী ৭ জুন পদত্যাগ করছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এই নেতা। মূলত ব্রেক্সিট প্রশ্নে এমপিদের একজোট করতে ব্যর্থ মে অশ্রুভেজা চোখে দলীয় প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। খবর গার্ডিয়ান, বিবিসি ও ওয়েবসাইটের।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এমপিদের বোঝাতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। দুঃখজনক হলো, আমি তাদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। দেশের স্বার্থে এই বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার জন্য একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা এখন আমার কাছে স্পষ্ট।” ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদের প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াহুড়া থাকায় কনজারভেটিভ পার্টি এ সপ্তাহেই নতুন নেতা নির্বাচনের কাজ শুরু করতে পারে। এ বিষয়ে মে বলেন, “নতুন নেতা নির্বাচনের কাজ এ সপ্তাহেই শুরু হবে। আমি এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে একমত। জানি, কনজারভেটিভ পার্টি নিজেই নিজেকে নবায়ন করতে পারে এবং আমরা একটি ব্রেক্সিট চুক্তিতেও উপনীত হতে পারব। একটি ব্রেক্সিট চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হয়ে আমি খুবই অনুতপ্ত। আশা করি আমার উত্তরসূরি একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যদি উভয় পক্ষই ছাড়া দিতে রাজি হয় তবেই কেবল এই ঐকমত্য সম্ভব।” মের পদত্যাগের ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কে হচ্ছেন তার উত্তরসূরি। এরই মধ্যে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। এ বিষয়ে কনজারভেটিভ নেতা পিটার বোন বলেন, ‘সম্পর্কোচ্ছেদের পক্ষের কেউ’ পরবর্তী নেতা হবেন। তিনি হতে পারেন এস্টার ম্যাকভি, ডমিনিক রাব, ডেভিড ডেভিস বা বরিস জনসন। এছাড়া আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন এবং যিনি পরবর্তী নির্বাচনে জিতবেন। আমার মনে হয় সঠিক ব্যক্তি বরিস জনসন।” মে পদত্যাগ করে ‘সঠিক কাজ’ করেছেন বলে টুইট করেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। পদ থেকে যেদিন তিনি বিদায় নেবেন সেদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দু’বছর ৩২৭ দিন পূর্ণ হবে। মার্গারেট থ্যাচারের পর তিনিই ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে দু’জন কনসারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হলো। প্রথমজন ডেভিড ক্যামেরন- যিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকা-না-থাকার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের সেই গণভোটে ৫২ শতাংশ ইইউ ত্যাগের পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট পড়ে। এর পরই ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেছিলেন- কারণ তিনি গণভোটের সময় ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়েছিলেন। দ্বিতীয় জন হতে যাচ্ছেন টেরেসা মে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়র সময় অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু কি ভাবে সেই ব্রেক্সিট হবে - তার এমন কোন পরিকল্পনা তিনি দিতে পারেননি যা পার্লামেন্টের অনুমোদন পায়।