২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটপাথ শপিংমল মার্কেট সর্বত্র উপচেপড়া ভিড়

 ফুটপাথ শপিংমল মার্কেট সর্বত্র উপচেপড়া ভিড়

ওয়াজেদ হীরা ॥ রোজা শেষ হয়ে উৎসবের দিনটি যতই এগিয়ে আসছে, ভিড় তত বাড়ছে শপিংমলগুলোতে। প্রিয়জনদের জন্য ঈদ কেনাকাটার সেই ভিড় ছুটির দিনে যেন আরও কয়েকগুণ বেশি। ফুটপাথ থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল বা অন্যান্য মার্কেটে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েরই কম কথা বেশি বেচাকেনার চেষ্টা। ব্যস্ত শহর ঢাকায় ছুটির দিনে কর্মব্যস্ততা না থাকায় হয়ে উঠল কেনাকাটার নগরী। বিভিন্ন মার্কেটের মানুষের স্রোত এসে নামল রাস্তায়ও। উপচেপড়া ভিড়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কগুলো হয়ে গেল যানজটে স্থবির। বিরক্তির যানজটকে ঠেলে ঈদের আনন্দকে বরণ করতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঈদ কেনাকাটা।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়াতে সকাল সকালই বের হন ক্রেতারা। বিকেল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেও মার্কেটমুখী মানুষের ভিড় লেগেই ছিল। অনেকেই এই সপ্তাহেই চলে যাবেন বাড়ি। সে হিসেবে ঈদ কেনাকাটা করলেই রাজধানীতে প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে আপাতত অনেকেরই। অন্যদিন কর্মব্যস্ততার কারণে যারা ঈদের কেনাকাটা করতে পারেনি তারা সবাই বের হন ছুটির দিনেই। পরিবার, স্বজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে কেনাকাটার দৃশ্য ছিল গোটা শহর জুড়েই। কি নেই সেই কেনাকাটায়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর বলে কথা। ছেলেদের প্যান্ট-শার্ট-গেঞ্জি, জুতা কিংবা ঈদের নামাজের জন্য পাঞ্জাবি-পায়জামার দোকানগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। তরুণীদের দোকানগুলোতে আরও বেশি ভিড়। মেয়েদের জামা, স্যালোয়ার, প্ল্যাজো, টপস কিংবা শাড়ি একই রকমের ভিড় সব বয়সীদের। মেয়েদের সঙ্গে শপিং করতে আসা পুরুষ সদস্যদের অধিকাংশ সময়ই দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। নারীদের ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পাননি অনেক পুরুষই।

এবার লম্বা ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। যা নয়দিন। যদিও মাঝে একদিন অফিস খোলা রয়েছে সবাই আশা করছেন সেদিনও সরকার থেকে ছুটি ঘোষণা হতে পারে নয়তো অফিসে উপস্থিতি খুব একটা থাকবে না। এই ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার থেকেই। ইতোমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ির পথ ধরেছে। অনেকেই তাদের পরিবার বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে সবাই ভিড় জমাচ্ছে মার্কেটে মার্কেটে। আর সেই ভিড় এতো পরিমাণ যাকে বলে এক কথায় ‘ধাক্কা-ধাক্কি’। গরমের মধ্যে অনেক মার্কেটে এসির ব্যবস্থা থাকলেও ক্রেতাদের ঘামতে দেখা গেছে।

শুক্রবার সকাল প্রায় দশটা। এলিফ্যান্ট রোডের অধিকাংশ দোকান মাত্রই খুলেছে তবে ক্রেতারা প্রবেশ করতে পারছে না, ভেতরে ধোয়া মোছার কাজ চলছিল। অনেক দোকান তখনও খুলেইনি। প্লাস পয়েন্টের এক বিক্রেতা বলেন, প্রতি রাতেই ১-২ টার সময় শো রুম বন্ধ করে সেহরি খেয়ে ঘুমাতে গেলে এত সকালে খোলা যায় না। আবার ক্রেতারাও অপেক্ষা করে না খুলে উপায়ও নেই। আশপাশের কয়েকটি মার্কেট তথা গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, গ্লোব সেন্টার, চন্দ্রিমাসহ অধিকাশংই ততক্ষণে ক্রেতা সমাগমে ভিড় লেগেছে। এরও আগে সকাল ৯টার দিকে লম্বা লাইন ধরে বসুন্ধরা সিটিতে প্রবেশ করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীরা। এই লাইনের কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা ক্রেতা। অর্থাৎ অবস্থা এমন বিক্রেতা আসার আগেই ক্রেতা হাজির। আড়ংয়ের এক কর্মী বলেন, এটা ভাল যে ক্রেতার আগ্রহ আছে। আসলে সবাই ঝামেলা ভিড় এড়িয়ে শপিং করতে চায়। তাই অনেকেই সকাল সকালই এসেছেন। দুপুরের নামাজের পর পর বসুন্ধরায় মানুষ আর মানুষ দেখা গেছে। মানুষের ভিড়ে সামনের রাস্তায় দেখা গেছে তীব্র যানজট। একই অবস্থা ছিল গুলশান, পুলিশ প্লাজা, যমুনা ফিউচার পার্ক, উত্তরার রাজলক্ষ্মী, ফরচুনসহ বিভিন্ন ছোট বড় মার্কেটে। মার্কেটকেন্দ্রিক রাস্তাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। বিভিন্ন ক্রেতাকে বিরক্ত হয়ে রিক্সা বা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতেও দেখা গেছে।

একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন বলেন, আমার টিউশনি ছিল যেতে পারিনি। এখন বাড়ি যাব। আজ পরিবারের সবার জন্য সাধ্যমতো কেনাকাটা করলাম। শনি বা রবিবার বাড়ির পথ ধরব। আরেক শিক্ষার্থী হাসান অবশ্য যায়নি পরীক্ষার কারণে। অনার্সের পরীক্ষা থাকায় সে বাড়ি যেতে পারেনি। কেনাকাটাও করেনি। শুক্রবার কেনাকাটা সারলেন।