২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাহুলই সভাপতি থাকছেন

  • হারের কারণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে কংগ্রেস

ভারতে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলটির সভাপতি রাহুল গান্ধীর পদ থেকে সরে যাওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল। পরাজয়ের শতভাগ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে খোদ রাহুল এই পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। শনিবার বেলা ১১টায় দিল্লীতে শুরু হওয়া কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সভায় উপস্থিত সকলে রাহুলের এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এরপর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বদল করেন রাহুল। এ সময় বৈঠকে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাহুলের মা, ইউপিএ জোট প্রধান সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, রাজ্যসভার দলনেতা গোলাম নবী আজাদ, মল্লিকাজুর্ন খাড়গে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং, দিল্লীর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতসহ দলটির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত সকলের অভিমত, রাহুলের পদত্যাগ বড় বিষয় নয়। তারা বরং দলের এই ভরাডুবির চুলচেরা বিশ্লেষণ করার পক্ষপাতী। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি অনলাইনের।

কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন, ‘রাহুলের চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগান জনপ্রিয় হলেও এর অর্থ ভারতের সকল শ্রেণীর মানুষ বুঝতে পারেনি। আবার কংগ্রেস শিবির যেসব প্রতিশ্রুতির ওপর ভোট চেয়েছে তাও ভারতের আপামর জনতার কাছে পৌঁছানো যায়নি।

অপরদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, মোদি সরকারের পাঁচ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব ভারতজুড়ে চষে বেড়িয়েছেন। আর দেশটির জনগণ তা গ্রহণ করেছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, এর আগেও দলটির অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তাই এখন শতাব্দী প্রাচীন দলটিকে আবার জনপ্রিয় করাতে উদ্যোগ নিতে হবে। এখানে রাহুলের পদ ছাড়ার বিষয়টি তাই মুখ্য নয়। উপস্থিত সকলেই তাই সভাপতি হিসেবে রাহুলের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা মনে করেন, দলের সাংগঠনিক বদল দরকার। তবে তা সভাপতির পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে নয়। বরং দলের খারাপ সময় সর্বোচ্চ পদে থাকুন তিনি। সেখান থেকেই কাজ পরিচালনা করুক রাহুল গান্ধী। বৈঠকের শেষ দিকে বক্তব্য দেন রাহুল গান্ধী। এরপর কংগ্রেস মুখপাত্র রনদীপ সিং সুর্যেওয়ালা গণমাধ্যমকে বলেন, রাহুলের পদত্যাগ গৃহীত হয়নি। তিনি পদত্যাগ করেছেন বিষয়টি এমন নয়।

রাহুলের নেতৃত্বে ভারতের প্রাচীন এই দলটি পরপর দুই দফা লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র ৫২ আসনে জয় পেয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪৪ আসন পেয়েছিল। এবারের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভারতের কোন কোন রাজ্যে কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি। এ নির্বাচনে কয়েক মাস আগে দেশটির ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পায় রাহুলের দল। এই লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস শিবিরে এসব জয় বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল। তবে সেখানেও কংগ্রেস ব্যর্থ। লোকসভা নির্বাচনে এ তিন রাজ্যেও মোদি ঝড় বয়ে যায়। তিন রাজ্য মিলে কংগ্রেস শিবির মাত্র দুটি আসনে জিতেছে। আবার উত্তর প্রদেশের আমেথি লোকসভা আসনটি দীর্ঘ সময় থেকে গান্ধী পরিবারের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নির্বাচনের আগে থেকে রাহুলের হয়ে আমেথির মাটি চষে বেরিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। সেখানেও মোদি ঝড়। স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান রাহুল।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসে পদত্যাগের পালা শুরু হয়। উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজ বাব্বর দলীয় পদ ছেড়ে দেন। একই সঙ্গে ওড়িশার রাজ্য সভাপতি নিরঞ্জন পট্টনায়েক এবং কর্নাটকের প্রচার কমিটির প্রধান এইচকে পাটিল দল ছেড়েছেন। এই তিন রাজ্যেই খুব খারাপ ফল করেছে কংগ্রেস। তারই দায় নিয়ে পদ ছাড়লেন তিন নেতা। চিঠি লিখে কংগ্রেস সভাপতিকে সে কথা জানিয়ে দেন রাজ বাব্বর। পাশাপাশি টুইটারে তিনি লেখেন উত্তর প্রদেশের এই ফল হতাশাজনক। নিজের কাজ ঠিক করে করতে পারেনি বলে আমি নিজেকেই দোষী মনে করি। আমি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করব এবং কেন পরাজয় হল সে বিষয়ে আমার বক্তব্য জানাব। পাশাপাশি তিনি লিখেন জয়ীদের অভিনন্দন। আপনারা জনাদেশ পেয়েছেন।