২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে জমজমাট কেনাকাটা

  • ছুটির দিনে ক্রেতার টান সিল্কপল্লীতে

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত জোরতাল হচ্ছে কেনাকাটা। মার্কেটে মার্কেটে ক্রমেই বাড়ছে ভিড়। রাজশাহীর সব মার্কেটে শুক্রবার সকাল থেকে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

তবে শুক্রবার ছুটির দিনে ক্রেতা টেনেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক হাউসগুলো। সকাল থেকেই জমজমাট কেনাবেচা হয়েছে নগরীর সপুরাস্থ বিভিন্ন সিল্কপল্লীতে। ঈদের মৌসুমে এমনিতেই বেড়ে যায় সিল্কের কদর। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েক বছরের তুলনায় সিল্ক কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সিল্কের টানে আসছে ক্রেতারা। বিক্রিও হচ্ছে বেশ। রাজশাহীর সিল্কপল্লী এখন ব্যস্ত। শুক্রবার সকালে সিল্কপল্লীতে গিয়ে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় শোরুমগুলোতে। ঈদকে ঘিরে আগে থেকেই রাজশাহী বিসিক শিল্প এলাকায় পুরোদমে সচল হয়ে উঠেছে সব কারখানা। ঈদের বাজার ধরতে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক কারখানাগুলোয় অনেক আগে থেকেই শুরু হয় কাপড় তৈরির কাজ। শাড়ি বুনন, রং করা, হাতের কাজ এখনও চলছে কারখানাগুলোতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। সুঁই-সুতার ফোঁড়নে ব্যস্ত রয়েছেন কারখানার নারী শ্রমিকরাও।

রাজশাহীর বৃহৎ সিল্ক শোরুম সপুরা। এই কারখানা ও শোরুমের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান জানান, তাদের কারখানায় কয়েক শ’ শ্রমিক এখন ব্যস্ত। সবাই কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ নারীদের শাড়ি কাপড়, কেউ থ্রিপিস, কেউ সালোয়ার, কেউ পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি তৈরি করছেন। আর তাদের তৈরি কাপড়গুলো শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন শোরুমে।

ক্রেতারাও সিল্ক কাপড়ের নানা রং ও ডিজাইনের বাহারি কাপড় দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। কিনতে ছুটে আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।

সাইদুর রহমান জানান, গতবারের চেয়ে এবার ব্যবসা বেড়েছে। সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শোরুম খোলা রাখতে হচ্ছে। তিনি জানান, এবারের ঈদে তাদের বড় আকর্ষণ কাটোয়ার ডিজাইনের শাড়ি, ধুপিয়ান ও সফট সিল্ক। এছাড়া আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে মসলিনের ওপর বাহারি কাজের শাড়ি এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর আছে র-সিল্কের ওপর হাতের কারুকাজ। বিভিন্ন ডিজাইনের এই শাড়িগুলোর দাম রাখা হয়েছে তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। মসলিনের ওপর কাজ করা ডিজাইনের শাড়িও এবার নতুনভাবে হাজির হয়েছে। এসব শাড়ির দাম পড়বে সাত হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া সফট সিল্ক শাড়ি কাপড় বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বাটিক সিল্ক তিন হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, বলাকা সিল্ক ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিল্কের তৈরি থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। পাঞ্জাবিতেও এসেছে এবার নতুনত্ব। এবার সিল্কের সঙ্গে মিলিয়ে প্রিন্ট, স্ট্রাইপ ও নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি তৈরি করা হয়েছে গরম আবহাওয়া মাথায় রেখে। প্রতিটি পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দরে।

শুক্রবার শাড়ি কিনতে আসা নগরীর মহিষবাথান এলাকার বুলবুলি বলেন, একটা সিল্ক শাড়ি কিনতে ছুটে এসেছি। তবে গতবারের চেয়ে এবার একটু দাম বেশি মনে হচ্ছে।

নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় আমেনা সিল্ক শোরুমের মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, রোজার শুরু থেকেই সিল্কের কাপড় কেনার জন্য এবার ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখন সেটি কয়েক গুণ বেড়েছে। তিনি জানান, তাদের শোরুমে মেয়েদের থ্রিপিসের মধ্যে রয়েছে মসলিন এমব্রয়ডারি, মসলিন এপলিক, সফট সিল্ক, এনডি সিল্ক ও বিভিন্ন হাতের কাজ করা থ্রিপিস। আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় এসব থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে। একই পল্লীর ঊষা সিল্ক শোরুমের ম্যানেজার আকবর হোসেন জানান, এখানে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা দামের থ্রিপিস রয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন থেকে বেচাকেনা ভাল শুরু হয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া