২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরগরম চারঘাটের পাদুকাপল্লী

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ ঈদ সামনে রেখে এখন সরগরম চারঘাট উপজেলার কালুহাটির পাদুকাপল্লী। ছোট ছোট টিনের ঘরে চলছে কারিগরদের নিরলস পরিশ্রম। কোনদিকে তাকানোর সময় নেই তাদের। আর কদিন পরেই ঈদ। হাতে অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহের জন্য মালামাল তৈরির প্রতিযোগিতা। তাই সবাই ব্যস্ত নিজেদের কাজে। ঘরের কোণে কোণে এখন এমনই ব্যস্ত সময় কাটছে কালুহাটি গ্রামে।

কালুহাটি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা এখন বদলে গেছে পাদুকা শিল্পের সঙ্গে। শান্ত ও অপেক্ষাকৃত ছায়াঢাকা এ গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে এখন জুতা-স্যান্ডেলের কারখানা। কুটির শিল্পের আদলে গড়ে উঠেছে এসব কারখানা। এই কারখানার সুবাদেই কয়েক বছরের মধ্যে বদলে গেছে অভাবী এ গ্রামের চেহারা। গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত কারখানা। এখানে কাজ করছেন পরিবারের সবাই। এখন কথা বলার ফুরসত পাচ্ছে না এখানকার কারিগরসহ মালিকরা। ঈদকেন্দ্রিক বাজার ধরতে উত্তরাঞ্চলের জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পণ্য তৈরি করছেন তারা। কালুহাটি গ্রামে গিয়ে বেশ কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা গেল এমনই চিত্র।

স্থানীয়রা জানান, বছরের অন্যান্য সময়ে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকলেও ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি কারখানা এখন কর্মচঞ্চল। দিন-রাত সমান তালে চলছে তাদের কার্যক্রম। গত কয়েক বছরে এসব কারখানার উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চাহিদার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ গ্রামে এখন ৫০টি জুতা-স্যান্ডেল কারখানা রয়েছে। এখানকার তৈরি পণ্য উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলায় যাচ্ছে। এতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন কারখানার মালিকরা।

স্থানীয় জুতা-স্যান্ডেল কারখানা মালিকদের নিয়ে গঠিত কমিটির সভাপতি আবদুুল মান্নান জানান, কালুহাটি গ্রামে গড়ে ওঠা কারখানায় তৈরিকৃত জুতা-স্যান্ডেলের সুনাম রয়েছে দেশজুড়েই। তবে বেশিরভাগ জুতা-স্যান্ডেল যাচ্ছে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলায়। তিনি জানান, এই গ্রামে ৪০ বছর ধরে জুতা-স্যান্ডেল তৈরি হয়ে এলেও সরকারীভাবে ইতোপূর্বেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ফলে আর্থিক সঙ্কটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হতে বসেছিল। তবে ২০১৪ সালে চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই গ্রামের শিল্পের ওপর সুদৃষ্টি দেন। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেন তিনি। তারই প্রচেষ্টায় ১ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে কারখানা মালিকদের। ঢাকা ব্যাংক থেকে এসইমি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আরও ৫ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। ঋণের সেই টাকা হাতে পাওয়ায় কারখানা মালিকরা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ঢাকার মার্কেটে কালুহাটি এলাকার জুতা-স্যান্ডেল প্রবেশ করাতে দরকার আরও অর্থের। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কনিকা সুজ কারখানার মালিক সোহেল রানা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি সংশ্লিষ্ট উপকরণের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। তিনি জানান, প্রতি পিস সোলের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেস্টিং আঠা অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে গ্যালনপ্রতি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। এভাবে প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। তাই তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্যও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।