১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একাদশে ভর্তি

পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ক্রমশ। কিছুদিন আগেও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই দেশব্যাপী একটা তোড়জোড়, হৈ-হট্টগোল পড়ে যেত একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য। তখন এটাকে নিছক ভর্তি না বলে ‘ভর্তিযুদ্ধ’ বলাই অধিকতর সঙ্গত হতো। ভাল একটি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক থাকতেন প্রবল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। কলেজগুলোতে পড়ে যেত সাজ সাজ রব ও অসম প্রতিযোগিতার ছড়াছড়ি। অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া তথা ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন শুরু হওয়ায় এই জট, জটিলতা, উদ্বেগ ও উত্তাপ কমে এসেছে অনেকাংশে। এবারে কোন দৌড় ঝাঁপ ও বিড়ম্বনা ছাড়াই রাজধানীসহ সারাদেশে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ জন। উল্লেখ্য, মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের মধ্যে এবার দুই লাখ ৪২ হাজার ৪২ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য প্রথম ধাপে আবেদন করেনি। গত বছর প্রথম ধাপে আবেদনের বাইরে ছিল প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী। সঙ্গত কারণেই যে প্রশ্নটি উঠে আসে তা হলো, মাধ্যমিক পাস করার পর প্রতিবছর এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে কেন? তারা কোথায় যায় বা কি করে? জীবন জীবিকাই বা নির্বাহ করে কিভাবে? স্মরণযোগ্য যে, দেশে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে ঝরে পড়ার হারও অনেক বেশি। মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্য বলা হয়ে থাকে যে, অনেকের বিয়ে হয়ে যায়। সরকারী নানা উদ্যোগ ও আইন থাকা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ একেবারে রোধ করা যাচ্ছে না। তবে ছেলে শিক্ষার্থীদের বেলায় কি ঘটে? একটা অংশ নানা চেষ্টা তদ্বির করে জীবন-জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমায় বটে। তবে নিঃসন্দেহে বিশাল একটা অংশ থেকে যায় বেকার ও কর্মহীন হয়ে। তাদের ব্যাপারে রাষ্ট্র তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাববার অবকাশ আছে বৈকি। এই সমস্যার সমাধানে দেশে বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। গ্রামগঞ্জে আজকাল অধিক মজুরি দিয়েও কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায় না বললেই চলে। অথচ কৃষি, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ, গবাদি পশুর খামার শিল্পকে মর্যাদাবান পেশা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে শিক্ষিত বেকাররাও বাধ্য হবে এ পেশাকে অবলম্বন করতে।

বর্তমানে সারাদেশে একাদশ শ্রেণীতে পড়ানোর মতো কলেজ ও মাদ্রাসা আছে ৭ হাজার ৩৬৩টি। এর মধ্যে কলেজ ৪ হাজার ৬০০টি। এসব কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তিযোগ্য আসন প্রায় ২৫ লাখ। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে মোট সাড়ে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি করা হবে আলাদাভাবে। একাদশ শ্রেণীতে কয়েক লাখ আসন খালি থাকবে। সমস্যা হবে ভাল কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে। তবে সেখানেও শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী ১০টি কলেজে ভর্তির সুযোগ আছে। সুতরাং হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। অবশ্য হাতেগোনা কয়েকটি নামী-দামী কলেজ আদালতের রায় নিয়ে নিজস্ব নিয়মে অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে এই সংখ্যা নগণ্য বলা চলে। সরকারী নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া এসএসসির ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। এই নীতি সরকারী-বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের সব কলেজের মান একই রকম নয়। নামী-দামী কলেজের পাশাপাশি অনেক অখ্যাত, অজ্ঞাত কলেজও আছে। আবার শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানও এক রকম নয়। বরং বৈষম্য বিরাজমান। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা একটি অধিকার। কাউকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আবার এর মানও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয়, পর্যায়ক্রমে হলেও অন্তত অধিকাংশ স্কুল-কলেজের অবকাঠামোসহ শিক্ষা ও পাঠদানের মানোন্নয়ন করা। তাহলে আগামীতে ভর্তি সমস্যা বলে কিছু আর থাকবে না।

নির্বাচিত সংবাদ