১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিদায়

এমনটা যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে-কে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। মে মাসের শেষে এসে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে দু’জন কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হলো। প্রথমজন ডেভিড ক্যামেরন, যিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকা-না-থাকার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের সেই গণভোটে ৫২ শতাংশ ইইউ ত্যাগের পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট পড়ে। এর পরই ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ তিনি গণভোটের সময় ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়েছিলেন। দ্বিতীয় জন হতে যাচ্ছেন তেরেসা মে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু কিভাবে সেই ব্রেক্সিট হবে তার এমন কোন পরিকল্পনা তিনি দিতে পারেননি, যা পার্লামেন্টের অনুমোদন পায়।

পিছনে ফিরে দেখা যাক। ছিল শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। ব্রেক্সিট ইস্যু অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকার প্রশ্নে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের। সকল জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনা সর্বোপরি তর্ক-বিতর্ক ও ভোটাভুটির পর শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্রেক্সিট গণভোটের প্রচারণায় অর্থ সহায়তাকারী ব্যক্তিবর্গ ও গোষ্ঠী। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে যে খসড়া চুক্তি করেছেন, সেটির ওপর পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ফলে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ২৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রীর তেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। অবশ্য অনাস্থা ভোটে টিকে যায় তার সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি শেষ রক্ষা হলো?

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে কী হবে- সেটি স্পষ্ট হয়নি। এই চুক্তিতে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের কী হবে? অনুরূপ ব্রিটেনে বসবাসকারী ইউরোপীয়দের! সেসব দেশে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলো কি ধরনের সুবিধা পাবে সেটিও একটি বিষয়। এর পাশাপাশি বের হয়ে যাওয়ার জন্য কত অর্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে খোয়াতে হবে দেশটিকে? সেই পরিমাণ অর্থ ব্রিটেনের দেয়ার সামর্থ্য আছে কিনা, উপেক্ষণীয় নয় সেটিও। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়েছিল। ২০১৬ সালের জুন মাসে ঐতিহাসিক একটি গণভোটে সে দেশের নাগরিকরা এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশ্য গণভোটের ব্যবধান ছিল কম। এরপর থেকেই ব্রিটেনের রাজনীতিবিদরা বিতর্ক করে চলেছেন ব্রেক্সিট কিভাবে হবে।

ইইউ থেকে ব্রিটেনের এক্সিটের ইস্যুটি এখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীদের এক্সিট বা বিদায়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তেরেসা মে-র প্রস্থানের ভেতর দিয়ে যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কাজটি আরও জটিল হয়ে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ব্রেক্সিট নিয়ে যে চরম অনিশ্চয়তা চলছে তার ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাও এখন চরম উদ্বেগে। তাদের ব্যবসার ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেকে ব্রিটেন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইউরোপে।

যুক্তরাজ্যের আইন বলছে, ব্রেক্সিট হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে নাগরিকদের মনে চলছে দোলাচল। উপসংহারে কী আছে তা সময়ই বলে দেবে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া