২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হিলি দিয়ে ৫ মাসে ৪৪ হাজার টন চাল আমদানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে চাল আমদানি করায় দেশের কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়লেও চাহিদার কারণেই চাল আমদানি করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকরা ধানের প্রাপ্য মূল্য না পাওয়ায় যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, তখনও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল ট্রাকে করে দেশে ঢুকছে।

হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন, মার্চ মাসে ৯ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন এবং এপ্রিল মাসে ৮ হাজার ২১২ মেট্রিক টন চাল ভারত থেকে আমদানি হয়েছে। এছাড়া শুধু চলতি মে মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৬ হাজার ৩৪৪ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে।’ হিলি স্থলবন্দরের ঋত্বিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও চাল আমদানিকারক অভিনাস মোড় বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে চাল আমদানি করছি কারণ দেশের বাজারে আমদানি করা চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সম্পা কাটারি ও আতপ জাতের চালে চাহিদা অনেক। সরকারকে ট্যাক্স ও ভ্যাট দিয়ে বাজারে এই চাল বিক্রি করছি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা দরে।’

দেশের বাজার ধানের দাম কম কেন -এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল হিলিতে ধানের আড়তদার মামিদুল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছে। যে কারণে মিল মালিকরা ধান কিনতে চাচ্ছে না। আমরা টুকটাক যে ধান কিনতেছি তা ভাল দামেই কিনতেছি। মিল মালিকরা যদি ধান নিতো তাহলে একটু হলেও দাম পেত কৃষকরা।’

হিলির প্রান্তিক কৃষক সাফিয়ার রহমান বলেন, ‘দেশে ধানের যে উৎপাদন হয়েছে তা দিয়ে দেশের চাহিদা মিটত। সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করাতেই আমরা ধানের দাম কম পাচ্ছি। সরকারের কাছে অনুরোধ, চাল আমদানি বন্ধ করে দেশের কৃষকের কাছ থেকে যেন ধান কেনা হয়। চাল বিদেশে রফতানি করা শুরু হলে আমরা কিছু হলেও দাম পাব। আমি গতকাল ৪শ’ টাকা মণ দরে মোটা জাতের ১০ মণ ধান বাজারে বিক্রি করেছি।’

কৃষকদের সঙ্কট বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ধান-চাল কেনা ও সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছি। এবার আমাদের উপজেলায় সরকার ২১৫ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। আমাদের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তার কাছে ১৪ হাজার কৃষকের একটি তালিকা রয়েছে। আমরা তাদের থেকে সরকারী দামে ধান কিনব। এসব কৃষকের মধ্যে যাদের জমি ১ একরের কম, তাদের নাম দিয়ে লটারি মাধ্যমে ধান কেনা হবে।’

প্রসঙ্গত, উত্তরের খাদ্যশস্যের ভা-ার দিনাজপুরের হিলিসহ অন্যান্য উপজেলায় এখন চলছে বোরো ধান কাটাই-মাড়াইয়ের কাজ। তবে ফলন ভাল হলেও ধানের দাম খুবই হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। তবে ঠিকই লাভবান হচ্ছেন চাল আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। এদিকে, বিদেশ থেকে চাল দেশে আমদানি করায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে দেশের কৃষকদের।