২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নানা সমস্যায় যশোর সরকারী হাঁস মুরগি খামার

  • বাচ্চা ফোটানোর যন্ত্র নেই ॥ ৬ শেড পরিত্যক্ত

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ খামারের প্রতিটি ভবনে ফাটল ধরেছে। চালের টিনগুলো মরিচা ধরে বৃষ্টি পড়ে। ২২টা শেডের মধ্যে ৬টা পরিত্যক্ত। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর যন্ত্র নেই। নেই আধুনিক ব্রুডার হাউস। মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত আছেন ১০ জন। আবার জনবল সঙ্কটে বাকি শেডগুলোতে নিয়মিত বাচ্চা উৎপাদন করতে পারছে না। এ ধরনের নানা সঙ্কটে ধুঁকছে যশোরের সরকারী হাঁস-মুরগি খামার। ফলে চাহিদা থাকলেও স্থানীয় খামারিদের প্রয়োজনীয় হাঁস-মুরগির বাচ্চা সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে সম্ভাবনাময় খামারটি।

জানা গেছে, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান আমলে যশোর শহরের শংকরপুর রেলগেটের পাশে ৯ একর জমির উপর নির্মিত হয় সরকারী হাঁস-মুরগি খামার। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলের খামারিদের উন্নত জাতের বাচ্চা সরবরাহ করার বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই খামারটি তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।

খামার নির্মাণের পরিসর অনুয়ায়ী মোট পদের সংখ্যা ১৮ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১০ জন কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে খামারের ৩ জন পোল্ট্রি ও ফিডম্যানসহ ৮ পদ খালি রয়েছে। ২২টা শেডের মধ্যে ৬টি পরিত্যক্ত হলেও বাকিগুলো নিয়মিত বাচ্চা উৎপাদন করতে পারছে না দক্ষ ও জনবল সঙ্কটের কারণে। সরজমিনে দেখা গেছে, খামারটির ৪টি শেডে মুরগি রয়েছে। সিমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে। অধিকাংশ শেড খালি রয়েছে। ২টি শেডে সোনালি ও ফাউমি মুরগি ও অন্যটিতে মিশ্রজাতের ৩ হাজার মুরগি পালন হচ্ছে। জনবল সঙ্কটে শেডগুলোতে পরিচর্যা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মচারীদের। কয়েকজন কর্মচারী জানান, এক সময় শেডেই বিভিন্ন বয়সী হোয়াইট লেগ হর্ন, ফাওমি ও সোনালি জাতের মুরগি পালন করা হতো। ডিম বিক্রি করা হতো সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু নানা সঙ্কটে খামারটির এখন বেহাল দর্শা। উন্নত ডিম ফোটানোর মেশিন না থাকায় খামারে পর্যাপ্ত বাচ্চা ফোটানো যায় না। ব্রুডার হাউস পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। বিদ্যুত ব্যবস্থা সংকীর্ণ। এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়ে ঝুঁকি পোহাতে হয় কর্মচারীদের। এ কারণে বাচ্চাগুলোর বৃদ্ধিও সঠিকভাবে হয় না। এ বিষয়ে যশোর হাঁস-মুরগি খামারের সহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন, বর্তমানে যশোর সরকারী হাঁস-মুরগি খামার নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। প্রতিটি শেডের মেঝেতে মাটি দিতে হবে।

বেলজিয়াম থেকে আনা ২টি সিটার ও ১টি হ্যাচার মেশিন দিয়ে খামারে কাজ চলছে। ভবনগুলোর বেহাল অবস্থা। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অফিসের কার্যাবলী ব্যাঘাত ঘটছে। খামারটিতে ১ জন মাত্র নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রায় মুরগি চুরি হয়ে যায়। আবার জনবল সঙ্কটসহ শেড পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে এ জেলায় খামারিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বাচ্চা সরবরাহ দিতে পারছে না। এসব সমস্যাগুলো অনেকবার লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধান হলে জেলার এ খামারটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় হাঁস-মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করতে পারব বলে তিনি আশাবাদী।