২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভৈরবে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহক

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভৈরব, ২৬ মে ॥ ভৈরবে বিদ্যুত লোডশেডিং দিন দিন বেড়েই চলেছে। লোডশেডিং-এর কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে চরম ধস নেমেছে। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড গরমে শহরে বিদ্যুত চাহিদা থাকলেও লোডশেডিং থেকে ভৈরববাসীর মুক্তি মিলছে না। অন্যদিকে বিদ্যুত লোডশেডিং-এর কারণে শহরের মানুষ নানা সমস্যায় ভুগছেন। বিদ্যুতের আলো-আঁধার খেলার কারণে বাসা-বাড়িতে হারিকেন ব্যবহার বেড়েছে। অফিস ও ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুত না পাওয়ায় জেনারেটরই তাদের একমাত্র ভরসা।

ঘন ঘন লোডশেডিং, ট্রান্সফরমার বিকলের কারণে ভৈরবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বিকল ট্রান্সফরমার সচল করে ও নষ্ট স্থানে নতুন ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করার কোন লক্ষণ না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার বিদ্যুত গ্রাহক চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাদের এখন এক মাত্র ভরসা জেনারেটর আর হারিকেন।

ভৈরব আবাসিক বিদ্যুত সরবরাহ কেন্দ্রের বিদ্যুতের লোডশেডিং পৌঁছেছে অসহনীয় পর্যায়ে। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত কোথাও প্রয়োজনীয় বিদ্যুত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ভৈরব আবাসিক বিদ্যুত কেন্দ্রে ডজনখানেক ফিডার রয়েছে। একেক ফিডারে একেক রকম লোড শেডিং চলছে। এ সমস্যার পাশাপাশি অতিরিক্ত লোডের কারণে ঘন ঘন ট্রান্সফরমার বিকল হচ্ছে। ট্রান্সফরমার বিকল হলে মেরামত করতে কমপক্ষে ৮/১০ দিন সময় লাগে। এ বিকল ট্রান্সফরমারকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের কাছ থেকে মেরামতের নামে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলে বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ।

বন্দর নগরী ভৈরবে রয়েছে আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ হাজার, বাণিজ্যিক গ্রাহক প্রায় ১০ হাজার। সব মিলিয়ে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৫/৪০ হাজার। এসব গ্রাহকদের বিদ্যুত চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট। ভৈরব বিদ্যুত সরবরাহের নিয়ন্ত্রণে ৩০টি এসটি সংযোগ রয়েছে। এ সংযোগের মধ্য দিয়ে শতাধিক মোটর চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত লোডের কারণে লাকড়ির মিল, বরফ মিল, তারকাটা মিল, মসলা মিল, তেলের মিলে কি পরিমাণ বিদ্যুত খরচ হচ্ছে তা বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই। সকল মিল মালিকদের সঙ্গে বিদ্যুত বিভাগের লোকজনের রয়েছে অঘোষিত চুক্তি।