২৫ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সার্ভেলেন্সের দুর্বলতায় কোম্পানির অস্বাভাবিক উত্থান-পতন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অত্যাধুনিক সার্ভেলেন্সস সফটওয়্যারেরও ধরা পড়ছে না কারসাজি। অথচ এটি চালুর সময় বলা হয়েছিল এরপর আর শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলবে না। অস্বাভাবিক লেনদেন পরিলক্ষিত হলেও রেড এলার্টে ধরা পড়বে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কোম্পানির অস্বাভাবিক উত্থান-পতন থামানো যাচ্ছে না।

এদিকে সার্ভিলেন্সের এই দুর্বলতার কারণে কারসাজিকারিরা সহজেই বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দর বাড়াতে ও কমাতে পারছেন। এতে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যাতে বিএসইসি বিনিয়োগকারীদেরও স্বার্থ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। দেখা গেছে, চলতি বছরে কিছু কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে।

যেখানে কারণ ছাড়া কোন কোন কোম্পানির শেয়ার দর ২৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। তবে এক্ষেত্রে কারা জড়িত, তাদের নির্ণয় করতে পারেনি কমিশনের সার্ভেলেন্স বিভাগ।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রল হোসেন বিভিন্ন সময় বলেছেন, কমিশন অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স সফটওয়্যার স্থাপন করেছে। এর ফলে শেয়ার লেনেদেনে কেউ অসৎ উপায় অবলম্বন করলে, তার সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করা সম্ভব।

নিম্নে চলতি বছরের শুরু থেকে ১৩ মে’র মধ্যে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হওয়া কিছু কোম্পানির তথ্য তুলে ধরা হল- ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ হাজার ৩৪১.৪০ থেকে দর বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪ হাজার ৯০৪.২ টাকায়। অর্থাৎ কোম্পানিটির ২৬৬ শতাংশ দর বেড়েছিল।

এছাড়া ইনটেক ৩৩.৮০ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬২.২০ টাকায়। অর্থাৎ ৮৪ শতাংশ দর বেড়েছিল। ইউনাইটেড পাওয়ার ২৮১.১০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪১৯.১০ টাকায়। এই সময়ে কোম্পানিটির দর বেড়েছিল ৪৯%।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ২৯.১০ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ টাকায়। ওয়াটা কেমিক্যাল ৪৮৩.৮০ টাকা থেকে ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬০২.২০ টাকায়। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও সার্ভেলেন্স বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাইফুর রহমান বলেন, সার্ভেলেন্স সিস্টেমের কার্যক্রম, এটা অনেকটাই গোপনীয়ভাবে করা হয়।

বাজার চলাকালে লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়। এই সফটওয়্যারে এলার্ট সিস্টেম রয়েছে, অস্বাভাবিকতা এলার্ট আসে। আর সেটা বিচার-বিশ্লেষণ করা পর কারসাজি হচ্ছে কিনা সেটা দেখা হয়। তদন্ত কমিটিও গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সংঘবদ্ধ কোন কারসাজি ঠেকানো সম্ভব কিনা এমন এক প্রশ্নের তিনি বলেন, কোন কোম্পানির শেয়ারে সংঘবদ্ধ কারসাজি হচ্ছে কিনা এমন সুক্ষ হিসাব করা খুব কঠিন। শেয়ারে চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই শেয়ার দামে উত্থান-পতন হয়।

কিন্তু লেনদেনের ধরন দেখে কারসাজি হচ্ছে কিনা সেটা বুঝা যায়। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। সার্ভেলেন্স সিস্টেমের এলার্ট ধরে খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হয়। এটাতে কারসাজি ঠেকানোও সম্ভব হচ্ছে।