২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণে ডিসিদের চিঠি দেয়া হচ্ছে

সংসদ রিপোর্টার ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সরকারী বেতন-ভাতাভোগী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটারও দেয়া হচ্ছে। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্র্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশে আইনগত কোন বাধা নেই বলে সংসদীয় কমিটি মনে করে। কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ও কাজী ফিরোজ রশীদ অংশ নেন। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। কমিটির এই সুপারিশের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার দেয়া হবে। পাশাপাশি ডিসিদের গোপন বার্তা পাঠানোর জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কমিটির আগের বৈঠকে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো অবৈধভাবে শূন্য ঘোষণা করে সেখানে যাদের সদস্য করা হয়েছিল, তাদের নাম স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত-সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ জানান, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে সংরক্ষিত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ করতে বলেছি। আর কমিটি মনে করে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশে আইনী কোন বাধা নেই। এই জন্য কোন আইন সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে না। কমিটির অন্য সদস্য মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশ করা যাবে না, এমন কোন বিষয় আমার জানা নেই। যদি কেউ বলেন, বাধা আছে, তাহলে কোন আইনে এবং কোথায় বাধা রয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেয়া হোক। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় থানা/মহকুমা/জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য কমিটি সুপারিশ করে।