১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কখনও ফুরোবার নয়

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আপন সৃষ্টির ঐশ্বর্যে কোন নির্দিষ্ট সময়ের নয়, চিরকালীন কবি নজরুল। বাঙালীর সঙ্কটে-সংগ্রামে আজও তিনি প্রেরণার উৎস। ধর্মান্ধতা কিংবা যে কোন নিপীড়নের বিরুদ্ধে হয়ে আছেন পথের দিশারী। রক্ষণশীলতাকে পরিহার করে উদারতার অভিমুখে ধাবিত কবির সৃষ্ট পথরেখা। সাম্যের সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে উচ্চকিত তার গান-কবিতা কিংবা কথাসাহিত্য। এ কারণেই কাজী নজরুল ইসলামের প্রাসঙ্গিকতা কখনও ফুরোবার নয়। সব সময়ই তিনি প্রাসঙ্গিক। জাতীয় কবির ১২০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সে কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন বিশিষ্টজনরা। নজরুলজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে শনিবার সকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল বিষয়ক একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন ডালিয়া আহমেদ। নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করেন ইয়াসমিন মুশতারী। অনুষ্ঠানে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক একক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

একক বক্তৃতায় অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কখনও ফুরোবার নয়। কাল যতই অতিক্রান্ত হচ্ছে তার কালোত্তর প্রাসঙ্গিকতা ততই নিবিড় করে অনুভূত হচ্ছে। নজরুলকে কেবল ‘বিদ্রোহী’ কবিতা নির্ভর একজন কবি হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ তার সামগ্রিকতা আরও বিচিত্র, ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য। তিনি শাস্ত্রের উর্ধে ওঠে মানবসুন্দরের গান গেয়েছেন। রক্ষণশীল সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ সম্পর্ককে তার রচনায় দিয়েছেন ভিন্নতর, উদার ব্যঞ্জনা। তার সামগ্রিক সৃষ্টিনন্দনে ‘আমি’র রূপটি মূলত সমষ্টি-মানুষের অকথিত বাণীতে ব্যক্ত হয়েছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ডামাডোলে বসবাস করেও তিনি রাজনীতিতে নিজস্ব বিপ্লবী, সমন্বয়বাদী চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটিয়েছেন অসম সাহসে। তিনি বলেন, আজকের সাম্প্রদায়িক চিন্তায় কলুষিত বিশ্বে চিরপ্রাসঙ্গিক, অসাম্প্রদায়িক নজরুলের অগ্রন্থিত লেখা দ্রুত উদ্ধার করে তার রচনাবলী পূর্ণাঙ্গ করার যেমন জরুরী তার চেয়ে বেশি জরুরী নজরুল-চিন্তার আলোকে আমাদের সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্বের মানবিক রূপান্তর সম্পন্ন করা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, প্রত্যেক বড় সাহিত্যিকের রচনার মধ্যে চিরন্তনতা এবং সমকালীনতা- এই দুই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। নজরুলের রচনায়ও আমরা প্রবল সমসাময়িকতা এবং চিরকালীনতা খুঁজে পাই। তার কালজয়ী রচনায় যেসব মানবিক সমস্যার কথা উঠে এসেছে সে সবের অনেক কিছু এখনও বিরাজমান থাকায় নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা আরও বিশেষভাবে অনুভূত হয়।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাংলা একাডেমির সঙ্গে নজরুল জড়িয়ে আছেন নিবিড় একাত্মতায়। আমরা শীঘ্রই নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসের দোতলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নজরুল স্মৃতিকক্ষ পুনরায় চালু করতে যাচ্ছি। এছাড়া একাডেমি কর্তৃক বিশিষ্ট গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রণীত নজরুলের কয়েক খন্ডের প্রামাণ্য জীবনী প্রকাশিত হবে।