২১ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গর্ভধারণ ও প্রসব জটিলতায় প্রতিদিন ১৫ মায়ের মৃত্যু ঘটে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গর্ভধারণ ও প্রসবজনিত জটিলতায় বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৫ জন মায়ের মৃত্যু ঘটে। প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ, খিচুনি, গর্ভকালীন জটিলতা, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা ও পরিবারের অবহেলা মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। মাতৃমৃত্যুর এই কারণসমূহ পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধযোগ্য। গর্ভপাতের কারণেও মাতৃমৃত্যুর হার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আর বাসাবাড়িতেই বেশির ভাগ গর্ভজনিত মৃত্যু হয়ে থাকে। এই হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। প্রসব পরবর্তী সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সকল মাতৃমৃত্যুর ৫৫ ভাগ মৃত্যুই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে থাকে। প্রাক গর্ভধারণ ও গর্ভকালীন যত্নের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান এড়িয়ে চলতে হবে।

বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে রবিবার অবস্ট্রেটিক্যাল এ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওজিএসবি সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ সালেহা বেগম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ লায়লা আরজুমান্দ বানু ও অধ্যাপক ডাঃ রওশন আরা বেগম, বর্তমান কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ দীপ্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নিখিল মানখিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শিশির মোড়ল, শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওজিএসবি সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ সামিনা চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশে মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেলেও এখনো তা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি। শতকরা ৩৭ ভাগ মা বর্তমানে কমপক্ষে চারটি প্রসবপূর্ণ সেবা গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি করানোর হার ৪৭ শতাংশ। প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রসব পরবর্তী সেবা গ্রহণের হার ৩২ শতাংশ। প্রসব পরবর্তী সময়ে ৭৩ শতাংশ মাতৃমৃত্যু ঘটে। আর তাদের ৫৬ শতাংশই মারা যায় প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

অধ্যাপক ডাঃ সালেহা বেগম চৌধুরী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মায়ের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের প্রসব পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে হবে। আয়রন, ফলিক এসিড এবং ক্যাসসিয়াম গর্ভকালীন সময় নিশ্চিত করা দরকার।

মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেলেও মায়েদের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য দেশে এখনও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নেই। মায়ের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী যত্নের অভাব প্রকট রয়েই গেছে। আর মায়েদের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা না থাকায় তাদের বড় একটি অংশ সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। মাতৃমৃত্যুর হিসাব করলে সব মায়ের হিসাব করা দরকার। একইভাবে মাতৃস্বাস্থ্য সেবা বললে সব মায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে বিবেচনায় নিতে হবে।