২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রস্তুতি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে খেলা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু শুরু থেকেই বৃষ্টি এমন বাধা তৈরি করল, খেলা আর হলোই না। টসই হতে পারল না। তাতে দুই দলের শক্তিমত্তারও প্রমাণ মিলল না।

তিন বছর আগে থেকেই পাকিস্তানকে টানা হারিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। টানা চার ওয়ানডেতে হারিয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যেত। কিন্তু তা হলো না। বৃষ্টি তা হতে দিল না। ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর প্রায় ১৬ বছর পাকিস্তানকে কোন ওয়ানডে ম্যাচে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই দলটিকেই ২০১৫ সাল থেকে টানা হারিয়েই চলেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ শিরোপা জিতে এমনিতেই দুর্দান্ত দলে পরিণত হয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপেও যে দল ধামাকা তৈরি করবে, সেটা প্রতিপক্ষ দলগুলোর ধারণা হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের তা প্রমাণ করার পালা। কিন্তু এর আগে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচই যে ঠিকমতো খেলতে পারল না বাংলাদেশ। এখন ভারতের বিপক্ষে সোমবার যে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে সেটি ভালভাবে হলেই হয়।

অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বাংলাদেশ দুর্বল হয়েই নামত। কারণ সাকিব আল হাসান ম্যাচটিতে খেলতেন না। তার পিঠে ব্যথা রয়েছে। যদিও ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করে চলেছেন। কিন্তু দল কোন ঝুঁকিতে যেতে চায়নি। আর তাই সাকিবকে নামানো হতো না। হ্যামস্ট্রিংয়ে খানিকটা ব্যথা থাকায় মাশরাফিও হয়তো নাও খেলতে পারতেন। তাতে দল দুর্বলই হয়ে পড়তো। তবে রিজার্ভ বেঞ্চের ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলতে পারলে দলের জন্যই উপকার হতো। কিন্তু বৃষ্টি দুই দলের কোন প্রস্তুতিই ঠিকমতো হতে দিল না।

এই ম্যাচটি দুই দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সামনেই বিশ্বকাপ। এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার পর যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততো তাহলে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তো। সঙ্গে পাকিস্তানকে আবারও হারানো হতো। তাতে বিশ্বকাপে যে বাংলাদেশ কতটা শক্তিশালী দল তাও বোঝা যেত। বাংলাদেশের চেয়েও ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দলটি বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হারায় এই প্রস্তুতি ম্যাচটি জরুরী ছিল। কিন্তু পাকিস্তান বিশ্বকাপের আগে টানা হারতে থেকেই বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলতে নামবে। এটি দলের ক্রিকেটারদের মনোবলেও আঘাত হানবে স্বাভাবিক।

যা চলে গেছে তা নিয়ে আর কোন দলই বসে থাকতে রাজি নয়। ৩০ মে বিশ্বকাপ শুরু হবে। বাংলাদেশ ২ জুন প্রথম ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ এবার বিশ্বকাপের মিশনে নামবে। আর পাকিস্তান ৩১ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে। এর আগে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলো। যেটির সঙ্গী থাকলো বাংলাদেশও। কার্ডিফে খেলা। যে মাঠ বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্যের মাঠ। এই মাঠে বাংলাদেশের ফল শতভাগ। শতভাগ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। একবার ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলে জিতেছে। আরেকবার ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে জিতেছে। দুটি ম্যাচ জয়ীই বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতায় বিশ্ব দরবারে টাইগাররা হুঙ্কার দিতে শুরু করে। এরপর থেকে অন্যরূপে হাজির হয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে আর ভয় নয়। ভয়-ডর জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। তার ফল মিলছেও। আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি কার্ডিফে থাকায় মনে করা হয়েছিল এবারও জিতবে বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টি ম্যাচটি হতেই দিল না। পরিত্যক্ত হলো ম্যাচ।