১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘বোলাররা আমাকে ঠিকই ভয় পায়’

  • বিশ্বকাপের আগে ক্রিস গেইলের হুঙ্কার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেটে বিনোদনের আরেক নাম ক্রিস গেইল। স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্স বস’! সেপ্টেম্বরে চল্লিশে পা রাখবেন জ্যামাইকান টর্নেডো। ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে যখন রান পাচ্ছিলেন না, অনেকেই বলছিলেন, গেইল ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ছয় মাস পর দলে ফিরে দেখিয়েছেন বয়স হলেও ব্যাটের ধার এতটুকু কমেনি। ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলেন ১৩৫, ৫০, ১৬২ ও ৭৭ রানের ইনিংস। ঘোষণা দিয়েছেন এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। কিছুটা হলেও কি চাপ অনুভব করছেন? ‘চাপে তো রয়েছে প্রতিপক্ষ বোলাররা। ইউনিভার্স বসের কি ক্ষমতা সেটা ওরা খুব ভাল জানে। আমি নিশ্চিত ওদের মনের মধ্যে থাকবে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে খেলতে হচ্ছে। তবে প্রশ্ন করলে ক্যামেরার সামনে বলবে, আমাকে ভয় পায় না। কিন্তু পিছনে বলবে এই সেই ব্যাটসম্যান!’ গেইল মনে করেন, মুখে স্বীকার না করলেও প্রতিপক্ষ বোলাররা এখনও তাকে ঠিকই ভয় পায়।

চলিশ ছুঁইছুঁই গেইল নিজেকে পরিচয় দেন ‘ইউনিভার্স বস’ নামে। প্রচ জোরে বোলারদের মাথার ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেয়া দারুণ উপভোগ করেন তিনি। ওভালে ২০০৯ সালের টি২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার ব্রেট লি এভাবেই শিকার হয়েছিলেন বিধ্বংসী গেইলের। যেভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা ছক্কা মেরেছিলেন তা আগে কখনও দেখেননি ওভালের দর্শকরা। গেইল সম্পর্কে বলা হয়, বোলারদের ন্যূনতম জায়গাও দিতে চান না। খোলাখুলিই বলেন, বোলাররা স্বীকার না করলেও তাকে ভয় পান। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে দেয়া সাক্ষাতকারে ‘ইউনিভার্স বস’ স্বীকার করেছেন, তরুণরা এখন দারুণভাবে উঠে আসছে। ফলে আগের মতো ব্যাপারটা অত সহজ নয়। তাছাড়া আগে আমার গতিও বেশি ছিল। দ্রুতগতির বোলারদের বিরুদ্ধে লড়াই যে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন তাও জানিয়েছেন গেইল। অতীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের সঙ্গে সংঘাতের জেরে বেশ কিছু ম্যাচ না খেলা গেইল বলেছেন, আমি সবসময়ই পেস বোলারদের বিরুদ্ধে খেলে আনন্দ পাই। কারণ অনেক সময় এগুলো আমাকে তাতিয়ে দেয়। আমি এই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। দর্শকরা সবসময় আমার ছক্কা দেখতে চান।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৮৯ ইনিংসে তার সংগ্রহ ১০১৫১ রান। ২৫টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। গড় ৩৮.১৬। ফেব্রুয়ারি মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই সিরিজে চারটি ওয়ানডে’তে ৪২৪ রান করেছেন। যার মধ্যে ছিল ৩৯টি ছক্কা। গড় ১০৬। সেই ক্রিস গেইলের স্বপ্ন এবার বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যাম্পিয়ন করা। ৩১ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এটাই শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে গেইলের। তাহলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে কি উদ্বেগ বাড়ছে ‘ইউনিভার্স বস’-এর? গেইলের হুঙ্কার, ইংল্যান্ডের মাটিতেই প্রথম দুটো বিশ্বকাপে (১৯৭৫ ও ১৯৭৯) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন বাঁহাতি কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড। বোলারদের আতঙ্ক ছিলেন তিনি। গেইলও বাঁহাতি। জ্যামাইকান তারকা কি পারবেন পূর্বসূরির পথে হেঁটে ৪০ বছর পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে? আত্মবিশ্বাসী গেইলের জবাব, ‘প্রমাণ করার কিছু নেই। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য।’