২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিংড়ি পোনা আহরণের মহোৎসব

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিংড়ি পোনা আহরণের মহোৎসব
  • নষ্ট হচ্ছে সামুদ্রিক দু’শতাধিক প্রজাতি মাছের পোনা

নিজস্ব সংবাদাদাতা, লক্ষ্মীপুর ॥ লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে অবাদে চলছে চিংড়ি রেনু পোনা শিকার। এতে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক বিভিন্ন দু’শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে দিন দিনে মেঘনা নদীতে দেখা দিচ্ছে মাছের অকাল। ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন। এ সব পোনা শিকারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়। এই সাড়ে তিন মাস উপকূলীয় মেঘনা নদীতে গলদা ও বাগদা চিংড়ি গুলো ডিম ছাড়ে। প্রতিবছরের মতো এবারো ডিম থেকে ফুটা রেনু পোনা সংগ্রহে মেতে উঠেছে হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু। সামান্য অর্থের লোভে পোনা আহরনের কারণে বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নারী পুরুষের সাথে গরীব পরিবারের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নিষিদ্ধ এ কাজে মেতে ওঠেছে। পাতলা সুক্ষ কাপড়ের তৈরি জাল দিয়ে সংগ্রহ করছে রেনু পোনা। এ সময় রেনু পোনা ছাড়াও অন্যান্য মাছের পোনাও আটকা পড়ছে। জাল থেকে চিংড়ি রেনু পোনা বাছাই করে অন্য পোনাগুলো ছুড়ে ফেলা হচ্ছে নদীর পাশের্^ শুকনো মাটিতে। এতে মারা পড়ছে পোয়া, চিতল, আইড়, বাগট, বাছা, বাটা, রিক্সা, পাঙ্গাস, সুরমা, ছুরি, বাইলা, লইট্টা, ছিরিং, টেংরা, বোয়াল, রুই, কাতল, মৃগেলসহ দু’শতাধিক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পোনা। এতে মারা পড়ছে অন্য বিভিন্ন প্রজাতির লাখো কোটি মাছের পোনা। জেলার রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুর উপজেলার হাজিমারা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কি.মি. এলাকা জুড়ে মেঘনা পাড় ঘেসে নদীতে বাগদা ও গলদা চিংড়ি পোনা আহরণ করছে অসাধু জেলেরা। এর মধ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা এলাকায় মেঘনায় চিংড়ি পোনা আহরণ করছে সবচেয়ে বেশী অসাধু লোকেরা। নিষেধাজ্ঞা জেনেও পেটের দায়ে কিংবা সংসারের অভাবের তাড়নায় এসব পোনা ধরছে বলে জানান তারা। জেলেদের কাছ থেকে এসব পোনা প্রতি হাজার ১২’শ থেকে ১৪’শ টাকা ধরে কেনে নেয় পাইকাররা। আবার গোপনে সেগুলো সরবরাহ করছে খুলনা বাগেরহাট, কক্সবাজার, যশোরের বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে।

২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জীববৈচিত্র রক্ষায় নদীতে পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, কঠোর নজরদারী না থাকায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা কোন কাজেই আসছেনা।

তবে অভিযান চালিয়ে এসব জাল বিনষ্ট করা হলেও পরবর্তীতে আবারো অসাধু জেলেরা এসব পোনা ধরে বলে জানান এ মৎস কর্মকর্তা। এসব পোনা থেকে বড় হওয়া বড় চিংড়ি ‘বাংলার সাদা সোনা’ রপ্তানী করে প্রতি বছর কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে সরকার। আর অসাধু মানুষের কবলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এসব প্রজাতির মাছের পোনা এবং চিংড়ি রেনু।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে কোনো প্রাকৃতিক উৎস থেকে চিংড়ি রেনু আহরণ আইনগত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে পোনা আহরণকারীরা সহজে জাল পেয়ে যায় এবং পোনা আহরণ করছে। আমরা ইতোমধ্যে আটক করে অনেক গুলো জাল নষ্ঠ করেছি। একই সঙ্গে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদসহ জীব বৈচিত্র বাঁচিয়ে রাখবে। সাথে সাথে সরকারের শতশত কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। এমনটাই আশা করছে এলাকাবাসী।