২০ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেরপুরে অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার ১

শেরপুরে অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, গ্রেফতার ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর ॥ শেরপুরের নকলায় ডলি খানম (২২) নামে এক অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে হত্যার উদ্দেশ্যে অবৈধ আটক, মারপিটে জখম, গর্ভপাত, শ্লীলতাহানি ও চুরির অভিযোগে নির্যাতিতা গৃহবধূকে বাদী করে নকলা থানায় ওই মামলা রেকর্ড হয়েছে। ওই মামলায় নির্যাতিতা গৃহবধূর ভাসুর আবু সালেহ (৫২), নেছার উদ্দিন (৪৮) ও সলিমুল্লাহ (৪৪), জা লাখী আক্তার (৩৪), জার বড়বোন নাসিমা আক্তার (৩৯), পৌর কাউন্সিলর রূপালী বেগম (৩৫), তার স্বামী আমিরুল ইসলাম (৪৫), প্রতিবেশি তাফাজ্জল হোসেন (৪৪) তার ছেলে ইসমাইল হোসেন (২০) সহ ৯ জনকে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এদের মধ্যে বুধবার সকালে নাসিমা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে নকলা উপজেলার ভুরদি গ্রামের আব্দুল মোতালেবের মেয়ে এবং ভিকটিম ডলি খানমের জা অন্যতম প্রধান আসামী লাকী আক্তারের বড়বোন।

অন্যদিকে অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতনের ওই ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম ও নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি শেরপুরে ‘টক অব দি টাউন’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নকলা পৌর শহরের কায়দা গ্রামে দরিদ্র কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী ও স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ৩ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ডলি খানমকে গত ১০ মে সকালে শফিউল্লাহর বড় ভাই সেনা সদস্য নেছার উদ্দিন ও পৌর কাউন্সিলর রূপালী বেগমের ইন্ধনে আবু সালেহ, সলিমউল্লাহ, লাখী আক্তার, লাখী আক্তারের বড়বোন নাসিমা আক্তারসহ অন্যান্যরা হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষেতের আইলের ইউক্যালিপটাস গাছের সাথে বেঁধে ফেলে। পরে তারা ডলির যৌনাঙ্গসহ পেটে, বুকে, পিঠে উপুর্যপরি কিল-ঘুষি-লাথির আঘাতে তাকে নিস্তেজ করে ফেলে।

সেইসাথে ওই নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে লাখী আক্তার। নির্যাতনে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয় এবং সে টানা ১৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করে। ওই ঘটনায় গত ৩ জুন ডলি খানমের স্বামী শফিউল্লাহ বাদী হয়ে আবু সালেহসহ ৫ জনকে স্ব-নামে ও আরও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামী করে আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জামালপুরের পিবিআইয়ে তদন্তাধীন থাকাবস্থায় সোমবার রাতে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ফাঁস হয়ে পড়লে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়। ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সরেজমিনে পরিদর্শনসহ থানায় ছুটে যান জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম জানান, গাছে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। ওই ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই মামলায় ইতোমধ্যে নাসিমা আক্তার নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তবে আসামীদের মধ্যে একজন সেনা সদস্য থাকায় তার বিষয়ে ‘অফিসিয়াল প্রসেস’ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।