১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেহরান সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমানো লক্ষ্য

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বুধবার ইরান পৌঁছেছেন। আন্তর্জাতিক অবরোধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি তেহরান যান। পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি তার সফরের অন্যতম উদ্দেশ। তবে প্রধানমন্ত্রী আবের এ সফরে কী অর্জিত হবে সে বিষয়ে সন্দিহান পর্যবেক্ষকরা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্বাচনের আগে এ সফরের মাধ্যমে বিশ্বনেতা হিসেবে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার সুযোগ তৈরি হবে। আবের এই সফর হবে গত চার দশকের মধ্যে কোন জাপানী প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইরান সফর। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে জাপানী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের।

এ বছরই জাপান ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৯০তম বার্ষিকী সরকারীভাবে পালন করা হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয়ভাবে জাপান সফরের পর পরই ইরান গেলেন শিনজো আবে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচী বিষয়ে ২০১৫ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে গত বছর ওয়াশিংটন বেরিয়ে গেলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয় যুক্তরাষ্ট্রের। উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয় যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠায়। এর ফলে সেখানে একটি যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়। সুতরাং আবের এই সফরের মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমবে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনায় বসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার আবের এক মুখপাত্র বলেন, ইরান যাওয়ার একদিন আগে জাপানী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ইরান বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছেন।

ইরানের পরমাণু চুক্তির অংশ নয় জাপান। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এতে দেশটি আক্রান্ত হচ্ছে না। ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানি করে থাকে জাপান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করায় তেহরান থেকে তেল আমদানি করতে পারছে না দেশটি। টোকিওর টেম্পল ইউনিভার্সিটির এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক জেফ কিংস্টন বলেন, ২০১৫ সালের চুক্তিকে সমর্থন করে জাপান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় জাপান অসন্তুষ্ট। তারা মনে করে এটা একটা বিশাল ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ বিষয়ে জাপানের কিছু বলার নেই। সুতরাং যখন যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করে তখন জাপান সেটা অনুসরণ করবে, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। বর্তমানে ইরানের তেল ছাড়াই চলতে পারবে টোকিও। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে তেলের মূল্য বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই জাপান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের এই সফর নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নয় বেশিরভাগ পর্যবেক্ষক। আর সরকারী কর্মকর্তারাও খুব একটা প্রত্যাশা করছেন না। মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানী সংবাদ মাধ্যমগুলো উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী আবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরান যাচ্ছেন না। আর সঙ্কটের দ্রুত সমাধানেরও কোন পন্থা নেই। -বিবিসি