১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঁচ সন্তানের হত্যাকারী সাবেক স্বামীর প্রাণভিক্ষার আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের এক মা আদালতের কাছে তার পাঁচ সন্তানের হত্যাকারী সাবেক স্বামীর প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। আম্বার কাইজার নামের ওই মা সাউথ ক্যারোলাইনার এক আদালতে বলেছেন, ‘টিম জোন্স জুনিয়র আমার সন্তানদের কোন অনুকম্পা না দেখালেও আমার সন্তানরা তাকে ভালবাসত। খবর ওয়েবসাইটের।

২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট এক থেকে আট বছর বয়সী পাঁচ সন্তনকে হত্যার জন্য চলতি বছরের মে-তে দোষী সাব্যস্ত হন ৩৭ বছর বয়সী জোন্স। তাকে মৃত্যুদণ্ড না যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে বিচারকরা তা বিবেচনা করে দেখেছেন। মঙ্গলবার আদালতে কাইজার বলেছেন, ‘আমার শিশুরা কী যন্ত্রণা সহ্য করেছে তা শুনেছি আমি। একজন মা হিসেবে যদি আমি ব্যক্তিগতভাবে ওর মাথাটা কেটে নিতে পারতাম তাহলে তাই করতাম। আমার ভিতরে যে মা আছে এটাই সে। এই অনুভূতিই সেই মা বহন করছে। জীবনের অধিকাংশ সময় ধরেই তিনি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন কাইজার। তিনি জানান, সময়ে সময়ে তার মনে হয় বিচার ব্যবস্থা তার সাবেক স্বামীকে ‘পুড়িয়ে’ ফেলুক, কিন্তু এমন মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দেয়ার বিষয়ে সায় দিতে পারছেন না তিনি। ‘সে কোনভাবেই আমার সন্তানদের কোন ধরনের অনুকম্পা দেখায়নি, কিন্তু আমার সন্তানরা তাকে ভালবাসত এবং আমি যদি আমার পক্ষ না হয়ে আমার সন্তানদের পক্ষ হয়ে কথা বলি, তাহলে আমি এটিই বলব,’ বলেন কাইজার। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে তিনি তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি। জোন্সের আইনজীবীর আহ্বানে আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে কাইজার এসব কথা বলেন। ২০০৪ সালে শিকাগো এলাকায় শিশুদের একটি ফান পার্কে কাজ করার সময় কাইজার ও জোন্সের পরিচয় হয়। পরিচয়ের ছয় সপ্তাহ পরই তারা বিয়ে করেন। কিন্তু পরের দিকে জোন্স ধর্মের দিকে ঝুঁকে ‘নারীদের দেখা যাবে না, তাদের কণ্ঠ শোনা যাবে না’ ধরনের গোড়ামি শুরু করার পর তাদের দাম্পত্য জীবন তিক্ত হয়ে ওঠে বলে আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে জানিয়েছেন কাইজার। নয় বছর দাম্পত্য জীবনের পর তারা বিচ্ছেদের মাধ্যমে আলাদা হয়ে যান। কিন্তু ইন্টেলের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বছরে ৮০ হাজার ডলারের বেতন ও গাড়ি থাকায় সন্তানদের জোন্সের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।