১৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিক্ষোভে অচল হংকং

  • রাস্তায় ব্যারিকেড, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

বিক্ষোভ আর সংঘর্ষে অচল হয়ে পড়েছে হংকং। বিচারের জন্য লোকজনকে মূল ভূখন্ড চীনে পাঠানোর সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত একটি বহির্সমর্পণ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ হংকংয়ের রাস্তায় নেমে এসেছে। বুধবার মুখোশ ও হেলমেট পরে প্রতিবাদকারীরা হংকংয়ের সরকারী দফতরগুলোর আশপাশের প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। এতে শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলটি অচল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের দফতরের কাছে পূর্ব-পশ্চিমমুখী লাং ইউও সড়ক এবং এর আশপাশে জড়ো হয়েছেন। লামের দফতরের চারপাশে কয়েক শ’ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা বিক্ষোভকারীদের আর অগ্রসর না হতে নিষেধ করে। এ সময় মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দিকে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় পুলিশ। তাদের দিকে টিয়ারগ্যাসের বেশ কয়েকটি শেল নিক্ষেপ করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জও করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ কিছুটা পিছু হটে। টিয়ারগ্যাসের ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই পালিয়ে যায়। এ সময় রাস্তায় প্রচুর ছাতা এবং বিভিন্ন ধরনের বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলের দিকে এ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখা গেছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।

একটি গ্রুপ টুইটারে এ্যাজমা ইনহেলার নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কারণ এ্যাডমিরাল্টি স্টেশনে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আর এ সংঘর্ষকে দাঙ্গা বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। এটা খুবই মারাত্মক বিষয়। কারণ, দাঙ্গার শাস্তি ১০ বছরের কারাদ-। ‘২০১৪ অকুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলনকেও দাঙ্গা বলে আখ্যায়িত করেনি পুলিশ। পুলিশ প্রধান স্টিফেন লো ওয়াই-চুং বলেন, এটা এখন দাঙ্গা। এই দাঙ্গা মোকাবেলায় অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।

বিশ্বের অন্যতম এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রটিতে যান চলাচলে বাধা দেয়ার জন্য কিছু প্রতিবাদকারী রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললেও অনেকেই তা অগ্রাহ্য করে। পরিস্থিতি অনেকটা ২০১৪ সালের শেষদিকে গণতন্ত্রপন্থীদের ‘আমব্রেলা ম্যুভমেন্টের’ মতো হয়ে উঠেছে। সড়কগুলো অবরুদ্ধ থাকায় সরকারী কর্মচারীদের গাড়ি চালিয়ে সরকারী দফতরগুলোতে আসা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে চীনের কাছে হংকংয় হস্তান্তরের পর থেকে বিতর্কিত এই বিলটিকে কেন্দ্র করে রবিবার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখেছে এশিয়ার এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রটি। কিন্তু তারপরও প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। বুধবার ভোর থেকেই হংকংয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা শুরু করেন। শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ধর্মঘট শুরু করার প্রস্তুতি নিতে থাকে। বুধবার হংকংয়ের ৭০ আসনের আইন পরিষদে বহির্সমর্পণ বিলটি নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিতর্ক হওয়ার কথা থাকলেও সেটা শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে ব্যাপক বিরোধিতার এই পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বিতর্ক হবে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হওয়া যায়নি। আইন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বেজিংপন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠদের হাতে। প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ প্রশমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লাম। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন বিলটিতে অতিরিক্ত সংশোধনী এনে তাতে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করবে। ব্যাপক বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার বহির্সমর্পণ বিলটি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী ২০ জুন চূড়ান্ত ভোটে এটি পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং ছাত্র, তারা সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়েছে এবং সরকারী দফতরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। হংকংয়ের পুলিশ ফোর্স বুধবার এক টুইটে জানায়, এ ধরনের আচরণ শান্তিপূর্ণ জমায়েতের পুরোপুরি পরিপন্থী। এলাকা থেকে দ্রুত বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে... অন্যথায় আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।

সিং তাও সংবাদপত্র জানায়, হংকংয়ের প্রশাসন প্রধান ম্যাথিউ চেয়াং প্রধান প্রধান সড়ক দখল না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব স্থান ত্যাগ করতে বলেছে। কিন্তু কালো মুখোশ ও গ্লোভস পরিহিত তরুণ এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, আইনটি থেকে সরে না আসা পর্যন্ত তারা কোথাও যাবে না। সার্জিক্যাল মুখোশ পরা তরুণরা পুলিশের লোহার প্রতিবন্ধকতা ছিনিয়ে নিয়ে এসে নিজেদের মতো করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এ সময় আইন পরিষদের চারপাশে বিক্ষোভকারীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। হঠাৎ বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে কেউ একজন পার্লামেন্টের প্রবেশপথে দায়িত্বে থাকা দাঙ্গা পুলিশের ওপর একটি পানির বোতল ছুঁড়ে মারেন।