১৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ভয়াবহ চিত্র

  • দঃ কোরীয় এনজিওর প্রতিবেদন

দক্ষিণ কোরিয়ার দ্য ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ নামে একটি এনজিও মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে উত্তর কোরিয়ায় সরকারের প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দেশটিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ৩১৮ স্থান চিহ্নিত করেছে এনজিওটি। বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরু চুরি থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল দেখার অপরাধে মানুষকে আটক করে এসব স্থানে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। নদীর কাছে, মাঠে, বাজারে, স্কুলে ও খেলার জায়গায় সবার সামনে দেয়া হয় এ দন্ড। এভাবে মানুষ হত্যা চলে আসছে দশকের পর দশক ধরে। গত চার বছরে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া ৬১০ জনের সাক্ষাতকার নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করে ‘দ্য ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ’ নামে দক্ষিণ কোরীয় এনজিও। ‘ম্যাপিং দ্য ফেট অব দ্য ডেড’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বেসরকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, মৃত্যুদন্ড কার্যকরের সময় তা দেখার জন্য ১ হাজার বা তার চেয়ে বেশি মানুষকে জড়ো করা হয়। যাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় তার পরিবারের শিশুসহ অন্য সদস্যকেও কখনও কখনও তা দেখতে বাধ্য করা হয়। মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর বেশিরভাগ সময়ই ওইসব মৃতদেহ কিংবা তাদের সমাধিস্থলের ঠিকানা স্বজনদের দেয়া হয় না। এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে দেখা সবচেয়ে কনিষ্ঠজনের বয়স সাত বছর। আটক কেন্দ্র, কারাগার কিংবা শ্রম শিবিরেও কিছু মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এসব স্থানে রাজনৈতিক অপরাধে মানুষকে বন্দী রাখা হয় এবং তাদের খনি ও গাছ কেটে কায়িক পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হয়। ২০০০ সালের প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়ার শ্রম শিবিরে ছিলেন এমন একজন তার অভিজ্ঞতা বর্ণনায় জানান, পালিয়ে চীন যাওয়ার চেষ্টা করায় তিন নারীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা দেখতে বাধ্য করা হয়েছিল ৮০ বন্দীকে। জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ওই সময় বন্দীদের বলেছিলেন, এ ঘটনা তোমাদের বেলায়ও ঘটতে পারে।