১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ রাখা এবং কেনাবেচা হয়ে থাকে শীর্ষক সংবাদটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। মনে রাখতে হবে যে, ওষুধের সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের বিষয়টি জড়িত ওতপ্রোতভাবে। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিষয়টি উঠে এসেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের জরিপে। গত এক বছর ধরে ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর দুই শতাধিক ওষুধের দোকানে চালানো হয় অভিযান। তাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির বিষয়টি ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকে জানানো হলে তারা জরিপ প্রতিবেদনটি মেনে নিতে অস্বীকার করে। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার ২১টি দোকানে অভিযান চালানো হলে ২০টিতেই পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। দেশী-বিদেশী ওষুধের মোড়কে হাতে লিখে মেয়াদ টেম্পারিংয়ের অভিযোগও আছে।

দেশে ওষুধ শিল্পের বিকাশ ঘটলেও স্বাস্থ্যসেবা খাতটিতে এখনও নানামুখী সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রায় ৯৫ ভাগ ওষুধ শিল্প বেসরকারী বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওষুধ শিল্প বর্তমানে দেশের অন্যতম রফতানি খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্মত অনেক ওষুধ কারখানাও রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর নিম্নমানের ভেজাল ওষুধ কারখানা। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর কবলে পড়ে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে সয়লাব হচ্ছে দেশ। এতে স্বাস্থ্য খাতে মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে। ভেজাল ওষুধ খেয়ে মানুষের নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ও অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য আমরা যে ওষুধ ব্যবহার করি সেটি মানসম্মত হওয়া অপরিহার্য। বলা হয় জীবন রক্ষায় ওষুধের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানহীন ও ভেজাল ওষুধ এখন যেন জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়; কিন্তু আইনের দুর্বলতা এবং সুনির্দিষ্ট ওষুধ নীতিমালা না থাকার কারণে তা রোধ করা যাচ্ছে না। অথচ দেশের ৯০ ভাগ ওষুধের চাহিদা মেটাচ্ছে দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো। জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬ প্রণীত হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধে অগ্রগতি নেই।

তবে আমরা মনে করি, শুধু নীতিমালা করলেই হবে না। নীতিমালা অনুযায়ী আইনও থাকা জরুরী। ওষুধের মূল্য নির্ধারণে আইন আছে। অভিযোগ রয়েছে ওষুধ প্রশাসন ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে না। এতে কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা দরকার। সরকার কর্তৃক সকল ধরনের ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। আর ওষুধ নীতিমালা উন্নত বিশ্বের আলোকেই বাস্তবায়ন করা উচিত।

দেশের সব ওষুধ কোম্পানি যাতে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করে, তা নিশ্চিত করা দরকার। ওষুধের দোকানে ড্রাগ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক এবং লাইসেন্সবিহীন দোকান মালিকের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপ করা দরকার। জেলাভিত্তিক ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অফিস স্থাপন করার বিধান রাখা উচিত। এতে সর্বক্ষণিক তদারকি করলে জনগণ মানসম্মত ওষুধ পাবে। কমবে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি। কোম্পানিগুলোও বাধ্য হয়ে মানসম্মত ওষুধ তৈরি করবে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে যে ওষুধ নীতিমালা আছে তা শিল্পবান্ধব, রোগীবান্ধব নয়। তাই রোগীবান্ধব ওষুধ নীতি হওয়া জরুরী। জীবন রক্ষা করে যে ওষুধ সে ওষুধের গুণগতমান বজায় রাখার জন্য ওষুধ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। দূর করতে হবে মানসম্মত নয় এমন ওষুধও। প্রয়োজনে প্রয়োগ করতে হবে অর্থদ-সহ যথাযথ শাস্তির বিধান।

নির্বাচিত সংবাদ