১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র

ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়ে তোলার কারণে বাংলাদেশে বিদেশীদের আনাগোনা বেড়েছে গত কয়েক বছরে। এতে বিশিষ্ট জ্ঞানী-গুণী-প-িত ও বিজ্ঞ ব্যক্তি যেমন রয়েছেন, তেমনি আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত বিদেশী অপরাধীরাও। ইতোপূর্বে নাইজেরীয়, লাইবেরিয়ানসহ বেশ কয়েকজন বিদেশীকে গ্রেফতার করা হয়েছে জাল ডলার বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে। এবার অভিনব উপায়ে বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিকবার টাকা উত্তোলনের কারণে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৬ জন ইউক্রেনের নাগরিককে। এর বাইরেও একাধিক প্রতারকের আত্মগোপনে থাকা বিচিত্র নয়। এই জালিয়াত চক্রটি ‘টপকিন’ নামের একটি ম্যালওয়ার ব্যবহার করে এটিএম বুথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ফলে ব্যাংকের সার্ভার থেকে বুথ মেশিনের সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এতে বুথ থেকে নিজেদের ইচ্ছেমতো টাকা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয় চক্রটি। টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে যে নির্দেশনা আসার কথা তা দিয়ে থাকে জালিয়াত চক্রের সদস্যরাই। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা ধৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যা জানতে পেরেছে তা হলো- ইউক্রেনের জালিয়াত চক্রের সদস্যরা আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত ‘কোবরা’ চক্রের সদস্য। ইতোপূর্বে এই চক্রটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই কায়দায় টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এটিএম বুথ থেকে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের ঘটনায় ‘লেজারাস’ নামের যে চক্রটি জড়িত ছিল সেই চক্রের সঙ্গে এদের যোগাযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পাচারকৃত অর্থের আংশিক উদ্ধার করতে সমর্থ হলেও অধিকাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ফিলিপিন্সের রিজাল ব্যাংকের কাছ থেকে। সর্বশেষ বাংলাদেশ এ নিয়ে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের আদালতে। হাতিয়ে নেয়া অর্থ উদ্ধারে ধৃত ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দেশে অনলাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। তাই এই সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কোন থানার অধীনস্থ এলাকায় যদি খুনের মতো অপরাধ সংঘটিত হয় তাহলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধের আলামত সংগ্রহের। তেমনি সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও কিছু অত্যাবশ্যক ব্যবস্থা নিতে হয়। সেসব ব্যাপারে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও শতভাগ সক্ষম ও সচেতন নয়। উন্নত বিশ্ব সাইবার অপরাধ নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ও সচেতন। এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বাস্তবতা হলো ইন্টারনেট খুলে দিয়েছে সব বন্ধ দরজা। এখন বিশ্ব চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন ঘটছে। এর পাশাপাশি বাড়ছে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন রকমের সাইবার অপরাধ।

এমন পরিস্থিতিতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ সংক্রান্ত অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের শাস্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ করেছে সরকার। ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি বিদ্যমান ধারা আইসিটি আইন থেকে বাদ দিয়ে সেগুলো আরও স্পষ্ট করে নতুন আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে। আইনটির অধীনে ‘সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন শাস্তিও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এখন সময় এসেছে আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগের। এর পাশাপাশি ব্যাংক-বীমাসহ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয়।

নির্বাচিত সংবাদ